সাহিত্যকর্ম

বিলকিস ঝর্ণা

মিথ্যাগুলোর নন্দন মুখশ্রী-কাব্যগ্রন্থের পাঠ আলোচনা

সাহিত্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মাধ্যম হচ্ছে কবিতা। কবিতায় যখন ‘মানব জীবন’ আখ্যানের নানা দিক ভাষাশৈলীতে প্রকাশিত হয়, তখন তা পাঠকের মনকে আবিষ্টতায় ডুবিয়ে দেয়। এই বিবেচনা বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কবি দর্পণ কবীরের কাব্যগ্রন্থ-‘মিথ্যাগুলোর নন্দন মুখশ্রী’ নিয়ে আলোচনা করছি। সাংবাদিক, লেখক, গীতিকার এবং কবি এই পরিচয়ে দর্পণ কবীর সাহিতাঙ্গনের অনেকেরই চেনা। যখন আমি কবিকে চিনি না, তারও আগে পরিচিত হয়েছিলাম তাঁর কবিতার সঙ্গে। সামাজিক ফেসবুকের পাতায় ভেসে আসছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের স্বকন্ঠ আবৃত্তি ‘বসন্ত নয়, অবহেলা’ কবিতাটি। মুগ্ধ হয়ে শুনেছি অনেকবার। শুনতে শুনতে মনে হতো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কবিতায় যেন নিজের কথা বলে যাচ্ছেন। সে কী আবৃত্তি! তারপর এই কবির আরো কবিতার সঙ্গে পরিচিত হই। এবং একদিন আলাপ হয় সদালাপী এই কবির সঙ্গেও। রোমান্টিক কবিতা লেখেন দর্পণ কবীর। রোমান্টিক কবিতা ও গল্প লিখে তিনি নিজের স্থান করে নিচ্ছেন-এ কথা বলা যায়। ‘মিথ্যাগুলোর নন্দন মুখশ্রী’ গ্রন্থটির প্রচ্ছদের মতোই কবিতাগুলো পাঠ করলে অনুভবের ভেতরে তন্ময়তার ভার সৃষ্টি করে, যা পাঠককে দাঁড় করিয়ে দেয় নদীর পাড়ের নিঃসঙ্গ বিরহের এক খোলা মাঠে। যেখানে বৃদ্ধ বটবৃক্ষের মসৃণ ছায়া নেই। তবে পদতলে আছে কার্পেটের মতো সবুজ ঘাস। যেখান থেকে নদীর শান্ত জলে কেবলমাত্র একাকিত্বের প্রতিকৃতি চোখে পড়ে। চোখে পড়ে প্রেম- মায়া-আনন্দ–বিরহ—আর ভালোবাসা। বইটির নামকরণ কবিতায় রোমান্টিকতা উৎরিয়ে প্রকৃতি দুষণে অভিমানের প্রসঙ্গ সামাজিক দায়বোধের ক্ষেত্র প্রতিভূত। আছে নির্মোহ অভিব্যক্তি ‘আমাদের কান্নার কোনও দাবি নেই, প্রত্যাশা নেই’। কবিতার বোধে একজন মানুষকে প্রত্যাশা করেছেন প্রকৃতির মত ‘খোলা বইয়ের মতো আমার সামনে এসে দাঁড়াবে, আমি মনযোগী পাঠক হবো’। আহা কবি যেন মানুষ হয়ে এমনি মানুষকে ভালোবেসে হতে চেয়েছেন দুঃসাহসিক একজন ঈশ্বরের কবি! এছাড়াও বইয়ের অনেক কবিতার ভেতর যে সব পংক্তিগুলো ছুঁয়ে যায়-‘এসো জীবন বসন্তের পত্রপল্লব ছিঁড়ে দেখে নেই শূন্য হাত কতটা নির্মোহ’ অথবা ‘আনন্দ আসে দমকা হাওয়ার মতো। কিন্তু বিষণ্ণ মুখের ভিড়ে আমিও যে, বিষাদগ্রস্ত পথিক! দুঃখের পুঁথি পাঠ করে সময় চলে যায়’, পড়ে পড়ে বিষন্ন পুঁথি পাঠের শব্দ পাই রাতের দ্বিতীয় প্রহরের অমাবস্যায় প্রদীপের ম্লান আলোয় অথবা জ্যোৎস্নায়। আগ্নেয়গিরির ভেতর বা ‘মহাকাশে খুঁজে পাওয়া দীর্ঘশ্বাস’ প্রেম হয়ে ফিরে আসে হৃদয়ের জমিনে আবার। ‘কিছু দুঃখ রোদের পিঠে মেঘ হয়, কিছু কথা বৃষ্টি’ কবিতার ভেতর থেকে উঠে এসে যেন নির্দ্বিধায় ‘শোকের স্বরলিপিতে কন্ঠ মেলাই’। কবির ‘সত্য স্বীকার’ কবিতায় ‘আকাশটাকে রুমালের মতো ভাঁজ করে পকেটে রেখে দিতে পারলে তোমাকে আর নক্ষত্রের গান শোনানোর প্রতিশ্রুতি দিতাম না।’ লাইনটি ভাবুলতায় ডুবিয়ে দেয় অনায়াসে। কবিতার নামকরণেও কবির মুন্সিয়ানা আছে। যেমন ‘বিলাসী গাঙচিল’, ‘নদীর গল্প’, ‘জুঁই ফুলের দুঃখ’। ’জুঁই ফুলের দুঃখ’তে ’জোড়া শালিকের খুনসুটি’ এক দারুণ শব্দযুগল। ‘কাব্যকথন’ এ নারী ও পুরুষের কথোপকথনে বেহুলার ভেলা ভাসে অবশেষে। ‘হলুদ শার্টের নিরুদ্দেশ বোতাম’ কবিতাটি যেন এক বিবর্ণ অতীতের ছবি আঁকে চোখে। মনে পড়ে যায় তারুণ্যের দিনগুলো। তেমনি কবির কবিতায় ‘দেয়াল ভাঙে’ আর ঈশ্বরের ধ্যান ভাঙে। পাঠকের মগ্নতা ভাঙে না শেষ অবধি। ’বসন্ত নয় অবহেলা’ কবিতায় নুইয়ে পড়া ভালোবাসায় জীবন আখ্যানের স্বগোক্তি ‘ আমি জানি, এই দীর্ঘশ্বাসে ভরা এই আখ্যান যদি পেত কবিতার রূপ, সেই অবহেলা হতো বসন্ত স্বরূপ’ কবিতাপ্রেমীদের অনুভবে অন্তর্গত দুঃখ, কষ্ট বা হাহাকারকে পারিজাত রূপ দিতে সাহায্য করে। এছাড়াও কবিতাটির ভেতর খুঁজে পাওয়া যায় অব্যক্ত অনুভূতির নিপাট মানবিক অভিমানের ভাষা, বিষণ্ণতা আর মধ্যাহ্নের নিঃসঙ্গতা। জীবনের এই পথ পরিক্রমায় রক্তাক্ত অধ্যায়ের আন্তরিক নির্যাস, কবিতা প্রেমিকদের আকৃষ্ট করবে সন্দেহ নেই। গ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন স্বনামখ্যাত শিল্পী সব্যসাচী হাজরা। এই কাব্যগ্রন্থটি বের হয়েছে একুশের বইমেলায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, অনুস্বর পাবলিকেশন্স থেকে। বিলকিস ঝর্ণা

মিথ্যাগুলোর নন্দন মুখশ্রী-কাব্যগ্রন্থের পাঠ আলোচনা Read More »

কন্সাল জেনারেল মো. শামীম আহসানের সঙ্গে

ঘটনা ২০১৮ সালের মে মাসের। তখন নিউইয়র্ক থেকে বিদায় নিচ্ছেন কন্সাল জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি পদোন্নতি পেয়েছিলেন। রাষ্ট্রদূত হিসাবে যোগ দিয়েছেন নাইজেরিয়ায়। অনেক কূটনীতিক আসেন-যান, সকলকে মনে রাখার মত কারণ ঘটে না। অতীতে একাধিক কূটনীতিক নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে এসে দুর্নীতি করেছেন ও গৃহভৃত্য দ্বারা মামলার খড়গ মাথায় নিয়ে চলে গেছেন। কন্সাল জেনারেল শামসুল হক দুর্নীতির রেকর্ড সৃষ্টি করে গেছেন। কন্সাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম মামলা মোকাবেলা না করেই চলে গেছেন। যাই হোক-শামীম আহসান কমিউনিটিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছিলেন। সকলের সঙ্গে তাঁর সদ্ভাব ছিল। তাই তাঁর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনেকের মত আমিও উপস্থিত হয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছবি। সেই সময় আামার লেখা বই-লাবণ্য ভেজা মেঘ-তাঁকে উপহার দিয়েছি।

কন্সাল জেনারেল মো. শামীম আহসানের সঙ্গে Read More »

ধূসর প্রচ্ছদ

বইমেলায় দর্পণ কবীরের নবম উপন্যাস-ধূসর প্রচ্ছদ

ঢাকার একুশে বইমেলায় নিউইয়রক প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক দর্পণ কবীরের নবম উপন্যাস-ধূসর প্রচ্ছদ বেরিয়েছে। রোমান্টিক গল্পের আখ্যান-এই উপন্যাসটি বের করেছে সৃজনশীল প্রকাশনী অনন্যা। উপন্যাসের প্রচ্ছদ করেছেন মামুন হোসাইন। মূল্য ২০০ টাকা। বইমেলায় অনন্যা স্টল (২২ নম্বর) ছাড়াও রকমারিডটকমে ক্রেতারা কিনতে পারবেন। লেখক দর্পণ কবীরের উপন্যাস, কবিতা, গল্প ও ছড়ার এ অব্দি ১৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। দর্পণ কবীর ১৯৯১ সালের শুরুর দিকে সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত হন। শিশু বয়স থেকে ছড়া-কবিতা লেখার চর্চা শুরু। একসময় সাংবাদিকতার পাশাপাশি তার লেখক পরিচয়টাও মূখ্য হয়ে উঠে। লেখালেখির বিভিন্ন শাখায় ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে তার শৈল্পিক বিচরণ। সব্যসাচি হাতে ছড়া-কবিতা, গল্প ও উপন্যাস হয়ে ওঠে তার কাছে নৈমত্তিক। এক সময় গান লিখে গীতিকারের পালক জড়িয়েছেন নিজের নামের পাশে। তার প্রথম ছড়ার বই— ধাপস বের হয় ১৯৯১ সালে একুশের বইমেলায়। প্রথম কিশোর গল্পগ্রন্থ—  ভোরের পাখি বের হয় ১৯৯৫ সালে, প্রথম কাব্যগ্রন্থ—  কষ্টের ধারাপত প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে। আর প্রথম উপন্যাস—  স্বপ্ন বিলাস ২০০৫ সালে একুশের বইমেলায় আলোচনায় রঙ ছড়িয়েছে। ২০১২ সালে দর্পণ কবীরের— আকাশ আয়না কাব্যগ্রন্থ থেকে একগুচ্ছ কবিতা আবৃত্তির সিডি বের হয়। কবিতাগুলো আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রজ্ঞা লাবনী। ২০১৭ সালে বসন্ত নয় অবহেলা কাব্যগ্রন্থ থেকে ২০টি কবিতার আবৃত্তির সিডি বের হয় ভারত থেকে। এই কবিতাগুলো আবৃত্তি করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও মধুমিতা বসু। দর্পণ কবীরের লেখা গান নিয়ে ‘নক্ষত্রের ফুল’ নামে একটি গানের সিডি বের হয় ২০১৬ সালে। বিভিন্ন গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী, সৈয়দ আব্দুল হাদী ও ভারতের শুভমিতা ব্যানার্জী। পরবর্তীতে দর্পণ কবীরের লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন পশ্চিম বাংলার কণ্ঠশিল্পীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখ্যরা হলেন নচিকেতা চক্রবর্তী, শ্রীকান্ত আচার্য, শুভমিতা ব্যানার্জী, রাঘব চ্যাটার্জী, রূপঙ্কর বাগচী, লোপামুদ্র মিত্র, মেখলা প্রমুখ।

বইমেলায় দর্পণ কবীরের নবম উপন্যাস-ধূসর প্রচ্ছদ Read More »

নষ্ট জীবন উপন্যাসের চিত্রনাট্য

নষ্ট জীবন-এই নামে লেখা আমার উপন্যাসটির খুব প্রশংসা করেছিলেন প্রয়াত নাট্যজন ও অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ। তিনি এই উপন্যাসের চিত্রনাট্য করেছিলেন। টেলিফিল্ম তৈরি হয়েছিল, তা প্রচারিত হয়েছিল এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেলে। অভিনয় করেছিলেন তৌকির আহমেদ, নাদিয়া আরো অনেকে। ছবিটা টেলিফিল্মের।

নষ্ট জীবন উপন্যাসের চিত্রনাট্য Read More »

এক অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে

২০১৭ সালে নিউইয়র্কে গুজরাটি সমাজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। পরে ২০১৯ সালে আমার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দেন এই শিল্পী। ছবি তুলে দিয়েছিলেন লেখিকা ও সাংবাদিক মিলি সুলতানা।

এক অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে Read More »

আমার লেখা গানে কণ্ঠ দেওয়া শিল্পীরা

২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল অব্দি আমার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শুভমিতা, শ্রীকান্ত, নচিকেতা, অন্বেষা, জোজো, রূপঙ্কর, ময়ুরী সাহা, সোহানী সাহাসহ আরো কয়েকজন কণ্ঠশিল্পী। এই গানগুলোর সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন কুন্দন সাহা। কলকাতায় বিভিন্ন স্টুডিওতে বিভিন্ন সময়ে গানগুলো রেকর্ড হয়েছে। ছবিতে তাদের দেখা যাচ্ছে।

আমার লেখা গানে কণ্ঠ দেওয়া শিল্পীরা Read More »

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয়

যেভাবে আমার কবিতাগুলো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয়ের কণ্ঠে আবৃত্তি হলো

দর্পণ কবীর ♦ কিংবদন্তি অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী বাংলা চলচ্চিত্রের বরপুত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ৮৬ বয়সে চলে গেছেন ইহলোক ত্যাগ করে ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালের বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানার পরপরই আমার কাছে মনে হয়েছিল-সৌমিত্র নেই, যেন বসন্ত নেই! তিনি আমার ২০টি কবিতা তাঁর জাদুকরী কণ্ঠে আবৃত্তি করেছিলেন। আর এতে আমার ‘কবি’ হওয়া পরিচিতি যেন অন্ধকারের আড়াল থেকে আলোর সুড়ুঙ্গ পেয়ে যায়। কীভাবে তাঁর কাছে আমার কবিতা পৌঁছুলো এবং তিনি আবৃত্তি করেছিলেন, সে কথা তুলে ধরছি। ২০১৬ সালে কলকাতায় আমি গান লিখে পাঠাচ্ছিলাম আর সঙ্গীত পরিচালক কুন্দন সাহা ঐ গানে সুর করছিলেন এবং গানগুলো শুভমিতা ব্যানার্জী, রাঘব চ্যাটার্জী, রূপঙ্কর বাগচীসহ অপরাপর কণ্ঠশিল্পীরা গানে কণ্ঠ দিচ্ছিলেন। আমি গান লেখার চেয়ে কবিতাই বেশি লিখেছি এবং ঐ সময়েও লিখছিলাম। ফেসবুকে কবিতার পোষ্ট দিতাম। ফেসবুক বন্ধু হওয়ায় কুন্দন সাহা একদিন বললেন, আপনি তো খুব সুন্দর কবিতা লিখেন। কবিতা আবৃত্তি করাবেন? ২০১২ সালে আমার লেখা কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রজ্ঞা লাবণী। এটিএন মিউজিক থেকে এই আবৃত্তি বের হয়েছিল-আকাশ আয়না, শিরোনমে নামে। কলকাতায় কে আবৃত্তি করবেন-জানতে চাইলে কুন্দন সাহা বলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছে আপনার কবিতা পাঠাতে পারি। তিনি যদি কবিতা পছন্দ করেন এবং আবৃত্তি করতে রাজী হন, তাহলে হতে পারে। প্রস্তাবটি অনেক আকর্ষণীয় হলেও আমি অনেকদিন এ নিয়ে কিছু ভাবিনি। কেন এমন প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিইনি, এটা আজো নিজের কাছে বিস্ময়কর লাগে। প্রায় একবছর পর নিউইয়র্কে কয়েকজন শুভানুধ্যায়ীর সঙ্গে এ বিষয়টি আলাপ করলে তারা বিস্মিত হন-কেন আমি এখনও কাজটি করার উদ্যোগ নেইনি-এই প্রশ্নে। তারা আমাকে উৎসাহিত করেন এবং আমি কুন্দন সাহাকে কাজটি করার কথা জানাই। ২০১৭ সালে আমার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ-বসন্ত নয় অবহেলা বের হয় একুশের বইমেলায়। এই গ্রন্থ থেকে ২০টি কবিতা নিয়ে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরি করি। কবিতাগুলোর অধিকাংশ ছিল পুরুষ কণ্ঠের এবং কয়েকটি দ্বৈত-কণ্ঠে আবৃত্তির জন্য। কুন্দন সাহা’র সঙ্গে আবৃত্তি শিল্পী মধুমিতা বসুর সু-সম্পর্ক এবং মধুমিতা বসু’র সঙ্গে সু-সম্পর্ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মধুমিতা বসু দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দেবেন মধুমিতা বসু-সিদ্ধান্ত হয়। পাণ্ডুলিপি পাঠ করে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় রাজী হন। তবে ২০টি নয়, ১২টি কবিতা আবৃত্তি করবেন বলে তিনি জানান। ঠিক ঐ সময়কালে নাট্যকার ও উপন্যাসিক (আমার ঘনিষ্ঠজন) কলকাতায় গেলেন। আমি সাঈদ তারেককে এই আবৃত্তির সার্বিক বিষয়টি তত্বাবধান করার অনুরোধ করি। তিনি রাজী হন। ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার একটি রেকর্ডিং স্টুডিওতে আবৃত্তি রেকর্ড হলো। আমার মধ্যে সেকী টানটান উত্তেজনা আর তুমুল আনন্দের শিহরণ! কলকাতায় যখন আবৃত্তি রেকর্ড হচ্ছিলো, তখন আমার নিউইয়র্কে রাত। গভীর রাত অব্দি আমি জেগে ছিলাম। কবিতা আবৃত্তি করার সময় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ১২টির পরিবর্তে ২০টি কবিতা আবৃত্তি করে ফেলেন। সহ-শিল্পী মধুমিতা বসু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ১২টি কবিতা আবৃত্তি করবেন-বলেছিলেন। জবাবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘ছেলেটা ভালো কবিতা লিখেছে, চলো, পড়ে ফেলি!’ কবিতাগুলো পড়তে গিয়ে কিছু শব্দের ব্যবহার ও ব্যাঞ্জণা নিয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কথা বলেছেন সাঈদ তারেকের সঙ্গে। বাংলাদেশ ও কলকাতায় ব্যবহৃত বাংলা শব্দ ব্যবহার ও ব্যাঞ্জণার প্রকাশ নিয়ে তারা দু’জন আলাপ-আলোচনা করেন। কারণ, এমন বেশ কিছু শব্দ ও ব্যাঞ্জণা আমার কবিতায় ছিল। আবৃত্তিতে কণ্ঠের প্রক্ষেপণ সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে শব্দ ও ব্যাঞ্জণার আলোকপাতে সাঈদ তারেক সহযোগিতা করেছেন সেদিন। এদিন রাতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলিয়ে দেন কুন্দন সাহা। কবিতাগুলো নিয়ে কথা হয় এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতায় গেলে তাঁর বাড়িতে যাবার নিমন্ত্রণ করেন। আমি নিউইর্য়কে আসার কথা বললে তিনি এই বয়সে ওড়োজাহাজে যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানান। তাঁর কথাবার্তা ছিল খুব আন্তরিকতাপূর্ণ এবং অমায়িক। খুব ইচ্ছে ছিল কলকাতায় গিয়ে এই বরেণ্য অভিনেতার সঙ্গে দেখা করব। তা সম্ভব হয়নি। ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আরো কিছু কবিতাসহ আগের কবিতাগুলো ক্যামেরার সামনে পুনরায় আবৃত্তি করেন। এ ছাড়া আরো নতুন ১৭টি কবিতা আবৃত্তি করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে এবং দেহত্যাগ করায় তা আর হয়নি। এই প্রাজ্ঞজন অভিনেতা, আবৃত্তিকার, সম্পাদক ও কবি আমার কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন বলে তাঁর প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা। তাঁর সান্নিধ্য পেলাম না বা দেখা হলো না বলে বিব্রতকর অতৃপ্তি আমাকে তাড়িয়ে বেড়াবে সমসময়। পরিশেষে, তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং মধুমিতা বসু’র আবৃত্তি করা কবিতাগুলো কলকাতায় ইউডি এন্টারটেন্টমেন্ট প্রা. লি. থেকে অন-লাইনে প্রকাশিত ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর। এই কবিতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কবিতা হচ্ছে-বসন্ত নয় অবহেলা-কবিতাটি। এটি বাংলা ভাষাভাষী কবিতাপ্রেমিদের কাছে জনপ্রিয় কবিতায় পরিণত হয়। খুব দ্রুত তা পৌঁছে যায় কাব্যপ্রেমিদের কাছে। ২০১৭ সালে এই কবিতাটি নিউইয়র্কে প্রথম আলো’ উত্তরামেরিকা’র জ্যামাইকাস্থ অফিসে  আমি প্রথম শোনাই কথা সাহিত্যিক, কবি ও সাংবাদিক আনিসুল হককে। কবিতাটির আবৃত্তি শোনার পর আনিসুল হক উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে প্রশংসা করেন এবং বলেন, তোমার সঙ্গে একটা ছবি তুলি রাখি। একজনকে ডেকে তাঁর সেলফোন ক্যামেরায় একটি ছবিও তোলেন। আমি রসিকতা মনে করে নিই। কিন্তু কে জানতো, আনিসুল হকের কথাটি যেন পরবর্তীতে সত্যি হয়ে যায়! বসন্ত নয় অবহেলা-কবিতাটি অন-লাইনে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে আনিসুল হক-(২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর) আমার এ সংক্রান্ত এক পোস্টে লিখেছেন- ‘কবিতাটি এখন বিশ্ববাসীর সম্পদ।’ ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরপরই এই কবিতাটি পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ায় ভক্তরা তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানান। বসন্ত নয় অবহেলা [সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয় যে কবিতা আবৃতি করেছিলেন; তার একটি] বসন্ত নয়, আমার দরোজায় প্রথম কড়া নেড়েছিল অবহেলা। ভেবেছিলাম, অনেকগুলো বর্ষা শেষে, শরতের উষ্ণতা মিশে এলো বুঝি বসন্ত। দরোজা খুলে দেখি আমাকে ভালাবেসে এসেছে অবহেলা। মধ্য দুপুরের তীর্যক রোদের মত অনেকটা নির্লজ্জভাবে আমাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছিল অনাকাঙ্খিত অবহেলা। আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখেছিলাম আমার দীন দশায় কারো করুণা বা আর্তি পেখম ছড়িয়ে আছে কিনা, ছিল না। বৃষ্টিহীন জনপদে খরখরে রোদ যেমন দস্যূর মত অদমনীয়, তেমনি অবহেলাও আমাকের আগলে রাখতে ছিল নির্মোহ-নিঃশঙ্কোচিত। আমি অবহেলাকে পেছনে ফেলে একবার ভৌ-দৌড় দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন দেখি, আমার সামনে কলহাস্যে দাঁড়িয়েছে উপেক্ষা। উপেক্ষার সঙ্গেও একবার কানামাছি খেলে এগিয়ে গিয়েছিলাম তোমাদের কোলাহল মুখর আনন্দ-সভায় ! কী মিলেছিল? ঠোঁট উল্টানো ভৎসর্ণা আর অভিশপ্ত অনূঢ়ার মত একতাল অবজ্ঞা। তাও সহে গিয়েছিল একটা সময়। ধরেই নিয়েছিলাম, আমার কোনকালেই হবে না রাবীন্দ্রিক প্রেম, তোমাদের জয়গানে, করতালিতে নতজানু থেকেছিল আমার চাপা আক্ষেপ-লজ্জা। বুঝে গিয়েছিলাম, জীবনানন্দময় স্বপ্ন আমাকে ছোঁবে না। জয়নুলের রঙ নিয়ে কল্পনার বেসাতি, হারানো দিনের গানের ঐন্দ্রালিক তন্ময়তা বা ফুল-পাখি-নদীর কাব্যলাপে কারা মশগুল হলো-এ নিয়ে কৌতুহল দেখাবার দুঃসাহস আমি দেখাইনি কখনও। এতো কিছু নেই জেনেও নজরুলের মত বিদ্রোহী হবো-সেই অমিত শক্তিও আমার ছিল না। মেনে নেয়ার বিনয়টুকু ছাড়া  আসলে আমার কিছুই ছিল না। শুধু ছিল অবহেলা, উপেক্ষা আর অবজ্ঞা। হ্যাঁ, একবার, তুমি বা তোমরা যেন দয়া করে বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলে আমার দিকে। তাচ্ছিল্য নয়, একটু মায়াই যেন ছিল, হতে পারে কাঁপা আবেগও মিশ্রিত ছিল তোমার দৃষ্টিতে। ওই টুকুই আমার যা পাওয়া! আমি ঝরে যাওয়া পাতা, তুমি

যেভাবে আমার কবিতাগুলো সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয়ের কণ্ঠে আবৃত্তি হলো Read More »

লুৎফর রহমান রিটন ও আহমদ মাযহারের সঙ্গে আমি

২০১৮ সালের জুন মাসে নিউইয়র্কে ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ও লেখক আহমদ মাযহারের সঙ্গে আমি। জ্যাকসন হাইটস এলাকার ৭৩ স্ট্রিটের ওপর।

লুৎফর রহমান রিটন ও আহমদ মাযহারের সঙ্গে আমি Read More »

বইমেলায় আমার আটটি উপন্যাস এক মলাটে

২০১৫ সালে অমর একুশের বইমেলায় আমার আটটি উপন্যাস এক মলাটে বের হয়েছিল। বইমেলায় এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট লেখক-কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ ড. নূহ-আলম-লেলিন।

বইমেলায় আমার আটটি উপন্যাস এক মলাটে Read More »

২০১২ সালে অমর একুশের বইমেলা

২০১২ সালে অমর একুশের বইমেলায় আমার রোমান্টিক গল্পের গ্রন্থ-লাবণ্য ভেজা মেঘ বেরিয়েছিল। বইমেলায় এর মোড়ক উন্মোচন করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।

২০১২ সালে অমর একুশের বইমেলা Read More »