কষ্টের ধারাপাত

কষ্টের ধারাপাত- প্রথম কাব্যগ্রন্থ

কষ্টের ধারাপাত-আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। প্রকাশিত হয়েছিল ২০০০ সালের একুশের বইমেলায়, প্রচ্ছদ করেছিলেন মাহাবুব কামরান (প্রয়াত)। ঘাসফুলনদী প্রকাশনী থেকে বের হয়েছিল। বইটি কত কপি বিক্রি হয়েছিল, সে কথা বলার কিছু নেই। তবে এক তরুণী (প্রয়াত) সাংবাদিক আরিফুর রহমানের মাধ্যমে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার অফিসে। ঐ তরুণী আমার কাব্যগ্রন্থের প্রায় ১৬টি কবিতা (মুখস্থ করেছিলেন) পড়ে শুনিয়েছিলেন। কতটা বিস্মিত আর আনন্দিত হয়েছিলাম, বোঝাতে পারব না।

কষ্টের ধারাপাত- প্রথম কাব্যগ্রন্থ Read More »

কিশোর গল্পের বই

ভোরের পাখি-নামে আমার লেখা কিশোর গল্পের বই বেরিয়েছিল ১৯৯৫ সালে, ঘাসফুলনদী প্রকাশনী থেকে। প্রচ্ছদ করেছিলেন (প্রয়াত) মাহাবুব কামরান। এই গ্রন্থের গল্প প্রকাশিত হয়েছিল ‘সংবাদ’ এর খেলাঘর পাতায়।

কিশোর গল্পের বই Read More »

স্বপ্ন বিলাস- আমার লেখা প্রথম উপন্যাস

স্বপ্ন বিলাস- আমার লেখা প্রথম উপন্যাস। রোমান্টিক গল্প। ২০০৫ সালের বইমেলায় বের হয়। প্রচ্ছদ করেছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী ও লেখক তাজুল ইমাম। সম্ভবতঃ কোন উপন্যাসের প্রথম প্রচ্ছদ তিনি করেছিলেন। প্রকাশক ম ই চৌধুরী শামীম, স্কলারস প্রকাশনী। তারও প্রথম বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে। লেখক, প্রচ্ছদ শিল্পী ও প্রকাশক-তিনজনই নিউইয়র্ক প্রবাসী। এখন প্রকাশক ঢাকায় থাকেন। উপন্যাসটি পাঠক মহলে সমাদৃত হয়েছিল। এটি ২০১৯ সালে পুনরায় প্রকাশ করে অন্বয় প্রকাশনী। প্রচ্ছদটি ২০০৫ সালের গ্রন্থের।

স্বপ্ন বিলাস- আমার লেখা প্রথম উপন্যাস Read More »

এক অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে

২০১৭ সালে নিউইয়র্কে গুজরাটি সমাজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম। পরে ২০১৯ সালে আমার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দেন এই শিল্পী।

এক অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে Read More »

পেশাগত জীবনের প্রথম আইডি কার্ডের ছবি

১৯৯১ সালের ৪ এপ্রিল নিজ উদ্যোগে ঢাকার ঝিকাতলায় “আজকের কাগজ’ পত্রিকার অফিসে যাই। সে সময়ের আলোচিত দৈনিক। পত্রিকার বার্তা সম্পাদক (প্রয়াত) আহমেদ ফারুক হাসানের সঙ্গে যেচে দেখা করে-নারায়ণগঞ্জ জেলার সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করি। তিনি রাগী স্বভাবে দু’একটি কথা বলে আমাকে বিদায় দেন। যখন কাজ করতে নামি প্রতিযোগিতায় আমি ৫ নম্বর এবং নতুন। সাংবাদিকতা শিখব-এই প্রতিযোগিতায়, সেটাই ভেবেছিলাম। শেষ অব্দি মেধার প্রতিযোগিতায় ৫ জনের মধ্যে প্রথম হয়ে যাই। পেশাগত জীবনের প্রথম আইডি কার্ডের ছবি। ১৯৯২ সালে ভোরের কাগজ পত্রিকায় ঢাকায় কাজ শুরু করি। ১৯৯৩ সালে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ করি ২০০২ সাল অব্দি। এরপর নিউইয়র্কে বসবাস।

পেশাগত জীবনের প্রথম আইডি কার্ডের ছবি Read More »

এটিএন বাংলা’র স্টুডিওতে

২০১৬ সালে একুশের বইমেলায় আমার দুটি বই বের হয়েছিল। চতুর্থ ছড়ার বই ‘বোকারাম হদ্দ’ ও তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বসন্ত নয় অবহেলা’ বের হয়েছিল। বই দুটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছিল এটিএন বাংলা’র স্টুডিওতে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে।

এটিএন বাংলা’র স্টুডিওতে Read More »

২০১৫ সালে বরেণ্য চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষের সঙ্গে

২০১৫ সালে বরেণ্য চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা সভা করেছিলাম নিউইয়র্কের জ্যামাইকার একটি রেষ্টুরেন্টে। আয়োজন করেছিল ‘‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’। ছবিতে গৌতম ঘোষের পাশে আমি। এই অনুষ্ঠানে গৌতম ঘোষ বাংলা চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

২০১৫ সালে বরেণ্য চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষের সঙ্গে Read More »

আকাশ আয়না-নামে একটি আবৃত্তি সিডি এটিএন মিউজিক

আকাশ আয়না-নামে একটি আবৃত্তি সিডি এটিএন মিউজিক থেকে বের হয়েছিল ২০১২ সালে। আমার লেখা কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় (একুশে পদকপ্রাপ্ত) এবং প্রজ্ঞা লাবনী। একইবছর এই নামে কাব্যগ্রন্থও বের হয়েছিল। নিউইয়র্কে এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেলের স্টুডিওতে সিডি’র মোড়ক উন্মোচনের ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে প্রয়াত নাট্যজন ও অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ ও এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ টিভি চ্যানেলের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান।

আকাশ আয়না-নামে একটি আবৃত্তি সিডি এটিএন মিউজিক Read More »

ভালোবাসা দিবসের গল্প : যা গল্প নয়

দর্পণ কবীর ► ১৯৯১ সাল। নারায়ণগঞ্জ শহরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমরা কয়েকজন বন্ধু তরুণ লেখক ও সংগঠন হিসাবে সক্রিয়। বোস কেবিনে আড্ডা দিতে শিখেছি। রেল-লাইন থেকে বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে প্রতিদিন জমিয়ে আড্ডা দিতাম আমরা কয়েক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একদিন আমরা তিনবন্ধু আবিস্কার করলাম, আমরা তিনজন একটি মেয়েকে ভালবাসি, মানে মেয়েটিকে পছন্দ করি। মেয়েটি মঞ্চে যখন পারফর্ম করে, আমরা তিনজনই মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকি। ওকে দেখলে হেসে হেসে কথা বলি। মেয়েটি ভীষণ ভদ্র, সুন্দরী ও সুশীল। ওর মুখোমুখি হলেই আমরা যেন কেমন কর্পূরের মত উড়তে থাকি। মেয়েটির প্রতি ভাললাগা গোপন থাকে না। আমরা তিন বন্ধু এ নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসলাম। ধরে নিন আমি ক, একজন খ এবং আরেকজন গ। খ দেখতে খর্বকায় ও নানা বিবেচনায় ভীষণ নাজুক। গ-বেশ সুন্দর হলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আমি নিজে মেয়েটিকে ভালবাসার জন্য ভীষণরকম অযোগ্য। কিন্তু আমরা মেয়েটির প্রতি ‘নীরবে ভালবেসে যাও’ টাইপের প্রেমিক! সমঝোতা বৈঠকে এই বিষয়ে আমরা একমত হলাম যে, মেয়েটি যাকে রেসপন্স করবে, তার ভালবাসা স্বীকৃতি পাবে। যে, যার মত মেয়েটিকে ভালবেসে যাও। আমরা ভালবাসি চোখের দৃষ্টি দিয়ে মেয়েটিকে দেখি আর মনে মনে কথা-কবিতা আউরে যাই। আমি বন্ধু গ’কে বলি। তুই ভালবাসিস কেন? তুই তো হিন্দু? ও বলে, আমি ভালবাসিনা, মেয়েটি যদি আমাকে ভালবাসে, আমি কী করব?’ এবার বন্ধু খ’কে বলি, ‘তুই তো দেখতে ভীষণ অসুন্দর। তোকে তো মেয়েটি কোনকালেই পাত্তা দেবে না! তুই ওকে ভালবাসার সাহস পাস কী করে?’ খ গম্ভীর হয়ে উদাসী কণ্ঠে বলে, ‘এটা আমার রুচি ও সাহস। ভালই যদি বাসবো, তবে শহরের শ্রেষ্ঠ মেয়েটিকেই ভালবাসব। তোরা সুন্দর ও আমার সামাজিক অবস্থান দেখছিস, এটা তোদের ব্যাপার। আমি ভালবাসলে অতো হিসাব করবো কেন? ভালবাসলে হিসেব করতে নেই!’ ‘মেয়েটি তোকে পাত্তা দিচ্ছে না জেনেও ভালবাসবি?’ ‘ওটা মেয়েটির ইচ্ছা। আমি ওকে কখনও বলবও না যে, ওকে আমি ভালবাসি।’ ‘তাহলে? প্রেম হবে কীভাবে?’ ‘এটাও এক ধরনের প্রেম, বুঝলি? ভালবাসবি, কিন্তু বলবি না!’ কীরকম ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে কথাগুলো বলে বন্ধু খ। আমি বলি, ‘আমি তো ওকে দেখলে কেমন যেন হয়ে যাই, বন্ধু! ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি!’ আমার কথার জবাবে খ হেসে বলে, ‘তুই নিচু শ্রেণির প্রেমিক! খুব সাধারণ মানের। শোন, মেয়েদের কখনও ভালবাসার কথা বলে ফেলবি না!’ ‘বললে কী হয়?’ ‘মেয়েরা তখন অহংকারী হয়ে যায়। ভালবেসে দেখবি, মেয়েটিকে বোঝাবি, কিন্তু বলবি না। তখন মেয়েটি তোকে গুরুত্ব দেবে। আর যদি হ্যাংলোর মত বলে ফেলিস, তাহলে মেয়েটিকে শুধু অহংকারী হবার সুযোগ করে দিবি! এখন তোর ইচ্ছা, তুই কী করবি!’ বন্ধু খ আমার চেয়ে ভাল ছড়া ও কিশোর কবিতা লেখে। অসম্ভব ওর কণ্ঠ। গান গাইলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। ভাল আবৃত্তিও করে। ওর কথাবার্তায় আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। মেয়েটিকে পছন্দ করি, কিন্তু বলতে পারি না। ঐ সময় বন্ধু খ’র কথাগুলো সামনে চলে আসে। দু’বছর পেরিয়ে যায় মেয়েটিকে দেখে-দেখে। একদিন ঢাকার নয়াপল্টন এলাকায় মেয়েটিকে দেখে ওর রিকশা থামাই। মেয়েটি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। আরো পরিণত হয়েছে। দু’বান্ধবীকে নিয়ে রিকশার ওপরে বসে যাচ্ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। আমার ডাকে মেয়েটির চোখে খুশির দ্যুতিও দেখতে পাই। মনে মনে নিজেকে ঠিক করে ফেলেছিলাম, আজ ওকে বলে ফেলব নিজের ভাল লাগার কথা। মেয়েটিও কি এমন প্রত্যাশা করেছিল? জানি না। সেদিনও বলতে পারিনি। ঐদিনও বন্ধু খ’র কথাগুলো সামনে চলে এলো এবং দেয়াল হয়ে দাঁড়ালো। মেয়েটিকে অহংকারী হতে দিলাম না! অনেক অ-নে-ক পর অবশ্য জানতে পারি, মেয়েটি ভালবেসেছিল অন্য এক যুবককে। ভালবেসে ওরা বিয়েও করেছে এবং সুখের সংসারও করছে। শুধু আমাদের তিন বন্ধুর ‘নীরবে ভালবেসে যাও’ মনের অনুরাগ সময়ের সঙ্গে হাওয়ায় মিশে গেছে। বন্ধু খ আমাদের মত সাধারণ ও সংসারী হয়নি। হয়েছে ভবঘুরে। এখন ও পথে-প্রান্তরে গান গায়-জল, নাকি ছল? চঞ্চল, মেয়ে তুই বল..!’

ভালোবাসা দিবসের গল্প : যা গল্প নয় Read More »

 নিউইয়র্কে জলপ্রপাত উপন্যাস-এর প্রকাশনা উৎসব হয়েছিল

নিউইয়র্কে ২০১০ সালের ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় এস্টোরিয়ার ক্লাব সনম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল লেখক ও সাংবাদিক দর্পণ কবীর এর উপন্যাস ‘জলপ্রপাত’ এর প্রকাশনা উৎসব। এই উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন তৎকালীন সময়ের জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কালচারাল মিনিস্টার ও বিশিষ্ট নাট্যজন (প্রয়াত) অধ্যাপক মমতাজ উদদীন আহমদ, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ড. পূরবী বসু, বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহসহ নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকগণ। অনুষ্ঠানে আলোচকরা জলপ্রপাত উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন সমাজে অভিবাসী জীবনে যেমন টানাপোড়েন আছে, তেমনি আছে ঘাত-প্রতিঘাত-অভিঘাত, সংঘাত এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত চলা ও কর্মব্যস্ততা। আছে স্বপ্ন দেখার অনুরণন, স্বপ্ন ভাঙ্গার বেদনাও। আছে কপটতা, প্রতারনা, কমিউনিটিতে নেতার হবার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ঝগড়া-বিবাদ-কোন্দল। আবার আছে মানবিকতা, পরস্পর পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি-সৌহার্দ্য ও মমত্ববোধ এবং জীবনের মহত্বও এখানে প্রতিফলিত হয় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে। এসবের মধ্য দিয়ে প্রবাসে আমাদের অভিবাসী জীবন নানা ঘটনায় এগিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে যারা লিখছেন বা সাহিত্যকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন, তারা দ্বৈত সত্ত্বা নিয়ে কাজ করছেন। এক সত্ত্বা সৃষ্টিশীলতায় নিমগ্ন, অন্য সত্ত্বা জীবন-জীবিকার সংঘাতে লড়াই করছে প্রতিনিয়ত। এ কথা উঠে এসেছিল আলোচকদের বক্তব্যে। তারপরও সাহিত্যে নিজের অবস্থান করে নিতে হলে প্রবাসের লেখকদের কথা সাহিত্যের নিজস্ব ভাষা শৈলী নির্মাণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। জলপ্রপাত উপন্যাসের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন ও প্রাণবন্ত আলোচনা উপভোগ করেছেন সমবেত সবাই। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বলেছিলেন, দর্পণ কবীর এর ‘জলপ্রপাত’ উপন্যাসটি পাঠ করে আমি আলোড়িত হয়েছি। এটি প্রেমের যন্ত্রণার, অবসন্নের চৈতন্যের একটি উপন্যাস। এই উপন্যাস এতো ব্যাঞ্জণাময় যে পাঠককে টেনে নিয়ে যায়। উপন্যাসটির পরিধি ছোট, তবে ছোট উপন্যাস হলেও সর্বশ্রেষ্ঠও হতে পারে। আমি দর্পণ কবীর এর উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি। তিনি আরো বলেছিলেন, উপন্যাসটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। উপন্যাসের গল্প বেদনার মূলে চলে গেছে। উপন্যাসটি পাঠককে ভাবাবে, স্পর্শ করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি দর্পণ কবীরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এই উপন্যাস লেখার জন্য। ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত বলেছিলেন, জলপ্রপাত একটি প্রেমের উপন্যাস হলেও লেখক এই উপন্যাসে জীবন সংগ্রামের কথাও বলার চেষ্টা করেছেন। লেখককে ভবিষ্যতে ইংরেজী ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, দর্পণ কবীর আমার ঈর্ষার পাত্র। আমি অনেক বছর ধরে চেষ্টা করছি উপন্যাস লেখার। কিন্তু পারছি না। হুমায়ুন আহমেদও আমার ঈর্ষার পাত্র। তিনি বলেন, জলপ্রপাত উপন্যাস আকারে ছোট হয়েছে। তবে উপন্যাস যে আকারে বড় হতে হবে-তা আবার বিশ্বাস করিনা। এই উপন্যাসে লেখক অভিবাসী জীবন সংগ্রামের কথা বলার চেষ্টা করেছেন। জলের উৎসের কাছে গিয়েও জল না পাবার কথা উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। এখানে লেখক নায়াগ্রার জলপ্রপাতকে প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করেছেন। কার্যত অভিবাসী জীবনকে জলপ্রপাত এর সঙ্গে লেখক তুলনা করেছেন। ড. পূরবী দত্ত বলেছেন, দর্পণ কবীরের লেখা সুখপাঠ্য। তার লেখা পাঠককে টেনে নিয়ে যায়। উপন্যাসের চরিত্রগুলো জীবন্ত, পরিণত। তবে উপন্যাসে প্রথম প্রজন্মের সামাজিক টানাপোড়েন ফুটে উঠলে ভাল হত। নর-নারীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই। এই উপন্যাসে তা বিধৃত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, উপন্যাসে চরিত্রগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে ভাল লাগত। দর্পণ কবীর একজন প্রতিশ্রুতিবান লেখক বলে তিনি মন্তব্য করেন। সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেছিলেন, আমাদের প্রবাসের অবক্ষয়, নেতা হবার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ফোবানা নামক ফানুস ইত্যাদি ঘটনা সৃজনশীল সাহিত্যে উঠা আসা দরকার। বাঙালী পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমেদ বলেছিলেন, দর্পণ কবীরের গল্পলেখার ক্ষমতা আছে। জলপ্রপাত উপন্যাসটি ঝরঝরে ভাষায় লেখা উপন্যাস। এটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায়। তিনি আরো বলেন, লেখক গল্প বলতে জানেন, তিনি সাজিয়ে তা বলতে পারেন। উপন্যাসটি শুরু করলে শেষ করতে হবে। উপন্যাসের শুরুটা চমৎকার, টেনে নিয়ে যায়। আকর্ষণ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার। তবে এই উপন্যাসে চরিত্রগুলোর জীবিকার কথা দেখিনা। লেখক প্রতিটি অধ্যায়ে তার ক্ষমতা দেখিয়েছেন, কিন্ত জীবন সংগ্রাম দেখাননি। উপন্যাসে বাংলাদেশকে পাইনি। ভবিষ্যতে লেখক এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন বলে আশা করি। সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেছিলেন, জলপ্রপাত উপন্যাসটির গল্প দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। চরিত্রগুলোর আরো ব্যাপ্তি দরকার ছিল। কবি সৈয়দ কামরুল বলেছিলেন, দর্পণ কবীর দুটো দুরূহ কাজ একসঙ্গে করছেন। তিনি সাংবাদিকতাও করছেন, আবার সাহিত্য চর্চাও করছেন। ছড়া, কবিতা, গল্প বা উপন্যাসের প্রত্যেকটির ভাষা শৈলী ভিন্ন। সাংবাদিকতার ভাষাও ভিন্ন। দর্পণ কবীর একইসঙ্গে এই কাজগুলো কীভাবে করছেন, তা আমাকে বিস্মিত করে। তিনি আমার কাছে একজন ঈর্ষণীয় তরুণ। তিনি আরো বলেন, কথাসাহিত্যের নিজস্ব ভাষা শৈলী নির্মাণ করতে হবে এই লেখককে। নিজস্ব ভাষা শৈলী তৈরি করতে পারলেই একজন লেখক টিকে থাকতে পারেন। বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের বলেছিলেন, দর্পণ কবীর একজন আপোসহীন সাংবাদিক। তিনি সাংবাদিক বলেই তার সাহিত্য চর্চায় সমাজের অসঙ্গতি-অনিয়ম ফুটে উঠবে। সাংবাদিকের অনুসন্ধানী চোখে তিনি যা দেখেন, তা-ই তার লেখার উপজীব্য বিষয় হবে-এটা বলতে পারি। তিনি সাহিত্য চর্চায় আমাদের সমাজকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করবেন-এই আশা রাখি।

 নিউইয়র্কে জলপ্রপাত উপন্যাস-এর প্রকাশনা উৎসব হয়েছিল Read More »