বোকারাম হদ্দ

বোকারাম হদ্দ

 Author: দপর্ণ কবীর  Category: ছড়া  Publisher: জাতীয় সাহিত্যপ্রকাশ More Details
 Description:

১. ছিঃ!
পুঁটি মাছের শখ জেগেছে
কাটবে সাঁতার সাগরে,
হাঙড়-তিমি আঁতকে বলে-
যেদিক পারো ভাগো রে!

পুঁটি বলে-ভয় পেয়োনা
আমি তো নই দত্যি,
মিঠে পানির মাছের হৃদয়
নরম-কোমল সত্যি!

ডলফিনেরা পাল্টা বলেÑ
ভয়ের কারণ অন্য,
নদীর জলে দূষণ-ব্যাধি
ভয়টা এরই জন্য।

নদী কি আর নদী আছে
জলে-স্রোতে বিষ
সাগর জলে তুমি এলে
মরব সবাই, ইশ্!

পুঁটি ভাবে মিথ্যে এ নয়
উপায় তবে কী?
নিঠুর কেন মানুষগুলো
জানাই ওদের ‘ছিঃ!’

 

২. ফেসবুক

চিঠি লেখা ফুরিয়েছে ফেসবুক হিড়িকে
বন্ধুরা ব্যস্ত কথামালা, লিরিকে…
কেউ ছাড়ে দর্শন, রাজনীতি, ধর্ম
প্রোফাইলে পাওয়া যায় পরিচয়-কর্ম।
কেউ দেন ছবি পোস্ট ভাল কিবা মন্দ
কারো কারো মতবাদ তোলে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব
কেউ আবার কী খেলেন, বাচ্চাটা কাঁদল
হাবিজাবি পোস্ট দেন, আজ সে কী রাঁধল
কেউ জ্ঞানীÑবাণী দেন বিজ্ঞান-ইতিহাস
ফেসবুকে তথ্যের হয় নাকি সব ফাঁস!
শাসকও ভয় পান, ফেসবুক খোলা যে
অন্যায়কারীরাও চোখে দেখে ঘোলা যে!
কারো কারো সংসারে ফেসবুক তোলে ঢেউ
হারানো সেই বন্ধুকে ফিরে পান কেউ কেউ।
পরিচয় ও প্রেমালাপে কেউ পান সঙ্গী
ফেসবুকে ঠিকই আছে প্রগতি ও জঙ্গি!
নিক নামে কেউ আছে, ছেলে সাজে মেয়ে
ফেসবুকে বাধা নেই, লিঙ্গ বা গে-য়ে।
দেশে দেশে ফেসবুক এক প্লাটফর্মে
বন্ধুরা এক আজ নানা জাতি-ধর্মে।

 

৩. তুই রাজাকার, তুই

তুই রাজাকার, তুই!
ফুলের বাগান লুট করেছিস,
তুই রাজাকার, তুই!

রক্তনদে স্নান করেছিস
ভাব যে ছিল সুঁই
কুড়াল হয়ে কুপিয়েছিলি
তুই রাজাকার, তুই!

একাত্তরের স্মৃতি আজো
চোখের জলে ধুই
পাকসেনাদের দোসর ছিলি
তুই রাজাকার, তুই!

তোরাই ছিলি মন্ত্রী-নেতা
দুঃখ কোথা থুই?
কবর থেকে শহীদ চেঁচায়-
তুই রাজাকার, তুই!

শাহবাগের আন্দোলনে
ফুটল জবা, জুঁই
রক্ষা তোদের হয়নি শেষে,
তুই রাজাকার, তুই!

 

৪. অট্টহাসি

কেউবা হাসেন মুচকি হাসি, কেউবা ‘হিহি, হো হো’!
হাসির কথা বললে যে কেউ বলেন, ‘হাসি? ওহ, নো’!
কেউবা থাকেন গোমড়া মুখে কেউ দেখে না হাসতে
রাশভারী ‘বস’ হলে এমন যাবেন ভুলে কাশতে।
ফোকলা দাঁতে হাসে শিশু, ফিচেল হাসি কেউ দেয়
ম্লান হাসির মোনালিসা দৃষ্টি সবার কেড়ে নেয়।
হাসতে হাসতে গড়াগড়ি, কেউবা সদায় হাসবেন
ভোজসভাতে রুমাল চেপে হাসির স্রোতে ভাসবেন
মাইনে পেয়ে কর্তা হাসেন, গয়না পেয়ে গিন্নি
ঈদের দিনে দুস্থ হাসে খেয়ে পোলাও-ফিন্নি।
হাসাহাসির প্রকার আছে, অম্ল মধুর-বক্র
রাজনীতিতে হাসি লুটার আছে আবার চক্র।
নেতার মুখে মুচকি হাসি সদায় ফোটে ফুল যে
আড়ালে তার অট্টহাসি, হাসি তো নয়, হুল যে!
শাসক হাসে অট্টহাসি, বিরোধীরা বিষাদে
কেউবা বলে, রাজনীতিতে এসেছিলাম কী সাধে?
অট্টহেসে শাসক বলে, রাজনীতি কি-বুঝছ?
হাসির তোড়ে ঝরে পড়ে ময়ূর পেখম-পুচ্ছ!

 

৫.পদক ব্যবসা

ভবঘুরে একটা লোকের
হঠাৎ হল খেয়াল,
পদক দেয়ার ব্যবসা করে
তুলবে ঘরে দেয়াল।

লোকটি ভাবে, পদক বেচে
অর্থ হবে লব্ধ,
অসচেতন সমাজটাকে
যাবে করা জব্দ!

পদক দেয়ার হাট বসাল
সেকি তেলেসমাতি,
ভিড় জমাল প্রচারপ্রিয়,
গরু-ছাগল-হাতি!

মুদির দোকান, শিল্পপতি
লেখক কিবা বেকার,
পদক বেচার ব্যবসা থেকে
অনেক আছে শেখার।

‘কী উপায়ে, কেন-ই বা
দিচ্ছে পদক কারা?’
কেউ ভাবে না, মূর্খ-বেকুব
পদক পেতে হারা!

গাঁটের কিছু অর্থ দিয়ে
পদক কেনে কেউ,
সুধীকে যে নেয় ভাসিয়ে
‘লজ্জা’ নামক ঢেউ!

লোকটি হাসে বক্র হাসি
মানুষ কত বোকা!
এই সমাজে হরহামেশা
খাচ্ছে তারা ধোঁকা।

 

৫. রাঁধুনী
রান্নাটাও শিল্প বটে
সদায় তিনি ব্যস্ত,
হরেক রকম রেসিপি যে
তার ভাবনায় ন্যস্ত।

গবেষণা-নিরীক্ষাতে
হরেক নতুন খাদ্য,
রাঁধুনী রোজ টিভি শো-তে
বাজান কথার বাদ্য।

মাছের সাথে মিটের মিশেল
মশলা-তেলের মাজেজা
উপাদানের পসরা সাজান
কথার মালায় সাজে যা।

বাঙালিদের কোনটা প্রিয়
অন্য জাতির খাবার কী?
পাঁচমিশালী প্রণালী হোক
পান্তা ভাতে ঢালো ঘি!

‘কোনটা খাবেন, কীভাবে তা’
বর্ণনাও বিস্তার,
নিজের ঘরের রান্না খাবার
বললে যে নাই নিস্তার!

কর্তা কাটেন আদা-পেঁয়াজ…
সকাল-বিকাল রান্না
ঘরের কাজে গিন্নিকে সে
হাতের কাছে পান না।

গিন্নি কেবল রান্না করেন
টিপস বলে দেন টিভি-তে
স্বামীর বুকে চাপা দহন
চায় না যে তাই নিভিতে।

৬. লোকটি- ১

একটা লোকের বেফাঁস বলার বাতিক খুব
মাঘের শীতে নিত্য শতেক দেবেন ডুব।
লোকটি নাকি ভালবাসেন সাপের স্যুপ
দেখলে তাকে পড়শীরা সব থাকেন চুপ।

লোকটি নাকি মারেন সদায় হাতি-বাঘ!
সাহস কী-যে! ওসব কথা না হয় থাক।
হরহামেশা লোকটি নাকি ‘ধোলাই’ খান
ওসব নিয়ে ‘ঘ্যানর-ঘ্যানর’ একই গান।

বললে কথা থুতু বেরোয় বিদ্ঘুটে
কারো ভালয় লোকটি ভীষণ হিংসুটে!
মূত্রত্যাগে লোকটি যাবে ময়দানে
দেখলে তাকে সালাম ঠুকে শয়তানে!

 

৭. রাজা ও ডাইনী

বিটকেলে ডাইনী-
সবকিছু আছে তার
তবু সে-কী হাহাকার
হতাশায় বলে শুধু,
কী যেন পাইনি!

ডাইনীর মন বুঝা শক্ত
প্রতিদিন চাই তার রক্ত!

দিনে থাকে লুকিয়ে
রাত যেই নামবে,
শতজন কামড়িয়ে
তবে ও-যে থামবে।

সাধারণ প্রজা ভয়ে
দরোজায় খিল দেয়
বহুরূপী ডাইনী
বাড়ি বাড়ি ঢিল দেয়।

খবরে রাজা নাকি
ভয়ানক ক্রুদ্ধ,
সেনাপতি-উজিরের
বৈঠক রুদ্ধ।

ডাইনীকে ধরতে
সেনা-ওঝা-বদ্যি,
যাকে পায় তাকে জেরা
আরো দেয় রদ্দি!

প্রজারা সংকটে
দিনে ও রাত্রে,
তারা খুঁজে পায় না
সমাধান হাতড়ে।

৮.  ছাত্রনেতার একাল সেকাল

ছাত্রনেতা ছিলেন যারা
কয়েক দশক আগে,
দেখলে তাদের সালাম উঠে
ভক্তি সবার জাগে।

রাজনীতিতে ছিলেন তারা
আদর্শিক সব সেনা,
মিছিল এবং চিকা মারায়
বাড়ত তাদের দেনা।

বাড়ির টাকা ফুরিয়ে যেত
পোশাক ছেঁড়া-ছিন্ন,
আজকে যারা ছাত্রনেতা
চেহারাটা ভিন্ন।

বদলে দেবে সমাজ ও দেশ
নেতা দিতেন মন্ত্র,
এখন ওসব ফাঁকা বুলি
নেতার হাতে যন্ত্র!

নিলাম এবং চাঁদাবাজি
হরেক অপকর্মে,
ছাত্রনেতা বিভোর থাকেন
স্বার্থবাদী ধর্মে।

বাড়ি-গাড়ি, অঢেল টাকা
নেতার মুঠোবন্দী,
রাজনীতিটা সিঁড়ি বটে
উপরে উঠার সন্ধি।

ছাত্রনেতার একাল-সেকাল
দেখতে হবে ভেবে,
মূল্যবোধের অবক্ষয়ের
বলুন, কে দায় নেবে?

৯. সমস্যা

সমস্যা যে, খুব পুরনো
অনড় আছে চেপে,
রাজা বলেন, ‘ঠিক আছে সব’!
দাবি তুলুন মেপে।

লোডশেডিংয়ের বিড়ম্বনা
সঙ্গে পানির অভাব,
গ্যাসের যাওয়া-আসা কখন?
হাতরে খুঁজি জবাব।

দ্রব্য যত মূল্য কেবল
লাফায় উপরমুখী,
মন্ত্রী বলেন, কম খেলে রোজ
তবেই হব সুখী!

আমজনতা সুখ খোঁজে না
চায় যে আলো-পানি,
খাওয়ার সাথে দামের লাগাম
কেন টানাটানি?

চাকরি কোথায়, বাড়ছে বেকার
দুর্নীতিও চলছে,
অভিযোগে ক্ষোভানলে
দেশটা কেবল জ্বলছে।

দেশটা ছোট, বাড়ছে মানুষ
বাড়ছে দফা-দাবি,
দরিদ্রতার কষাঘাতে
খাচ্ছে তারা খাবি।

 

১০. ই-যুগ

ভাবসাবে হতে হয়
আধুনিক-সভ্য,
জানে তা কালা মিয়া
ধনবান নব্য।

ঝকঝকে অফিসে
ঊর্বশী এপিএস,
ম্যানেজার ছ’খানা
তথ্যের জিপিএস।

মাঝে মাঝে পার্টি দেন
পান করে ভদকা,
বিটকেলে বিষয়ে
লাগে তার খটকা।

ডিজিটাল ই-যুগ
কেন এলো হামলে,
কোনোভাবে নিজেকে
রেখেছেন সামলে।

ই-মেইল, জি-মেইল
ইয়াহু ডটকম,
ভেবে তিনি পান না
‘ডট’ কেন হবে ‘কম’!

টাকা আছে বিস্তর
ডট কিনে নিলে হয়,
এ কথায় ম্যানেজার
উসখুস, চেয়ে রয়।

বিপদের শেষ নেই
ওয়েবের নামে কি!
বিচ্ছিরি যন্ত্রণা
বাড়ে ছাড়া, থামে কি?

ল্যাপটপ হাতে থাকে
পারে না সে চালাতে,
ই-যুগ পারে ঠিক
তাকে শুধু ‘জ্বালাতে’!

 

১১. আদু ভাই

আমাদের পাড়াতে
বিটকেলে এক খান
মিষ্টির রস দিয়ে
খান চা, খিলি পান-
সারাক্ষণ মুখে থাকে
পাকিদের জয়গান।

তার এক স্বপ্ন
ডাক্তার হতে চান
বার বার তিনি শুধু
‘এক্সাম’ দিয়ে যান-
অবিরাম চেষ্টার
হয় না তো শেষ টান।

বই পড়ে চশমার
কাঁচ শুধু ভারি
এটা সেটা লিখে যান
নেই কমা-দাড়ি-
বয়সও বেড়ে যায়
খুব তাড়াতাড়ি!

নিন্দুকে বলে, ‘তার
মাথাতে জাদু নাই
মেডিক্যাল সাইন্সে
তিনি এক আদু ভাই।’

১২. এই সময়ে

দেশটা যেন জ্বলন্ত এক উনুন
সত্য কথা বলার মানুষ
হচ্ছে দেদার খুন!
দানবগুলো কারা?
মানবতা খাচ্ছে গিলে
আমরা দিশেহারা।

কথা বলার স্বাধীনতায়
লড়ছে কলম সৈনিক
নির্যাতন ও নিপীড়নের
পাচ্ছি খবর দৈনিক।

দুঃসময়ে করছেটা কি
রাষ্ট্র এবং সরকার?
সময় এখন প্রতিবাদে
জেগে ওঠা দরকার।

 

১৩. বাঙালির কীর্তি

বাঙালিরা ঘরকুণো নয়
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে,
যাচ্ছে তারা, আলোর ধারা
নদীর মতো গড়িয়ে।

গড়ছে আবাস, নতুন সমাজ
স্বপ্ন মুঠোবন্দী
স্বপ্ন-আবেগ-শিল্প হলে
বাঙালিদের সন্ধি।

নোবেলে পেয়ে রবীন্দ্রনাথ,
অমর্ত্য সেন, ইউনূস
বাঙালিদের সালাম ঠুকে
ব্রিটেন-ফ্রান্স-ল্যাটিন-রুশ…।

জগদীশ বা সুভাষ বসু
সুকুমার বা দীপঙ্কর
বিশ্ব বলে, ‘সত্যজিতের
কীর্তি নিয়ে অহং কর!’

গানের পাখি রুনা-শ্রেয়া
দ্রোহের কবি নজরুল,
চলচ্চিত্রে জহির-ঋত্মিক
আঁকিয়ে যে জয়নুল।

বিভূতি বা জসীম উদ্দীন
কিংবা জীবনানন্দে,
তাঁদের লেখায় শিল্পছোঁয়ায়
বাংলাকে পাই সানন্দে।

মানিক বল আজিজুল বা
কবি শহীদ কাদরী,
সহজ-সরল মানুষ আছে
মোল্লা-পুরুত-পাদ্রী।

কিশোর কুমার, মহেশ্বতা
ঝুম্পা কিবা ব্রজেন দাস,
হুমায়ূনের নভেল-নাটক
বিনোদনের মেটায় আশ।

শীর্ষেন্দু-সুনীল-নিমাই
শঙ্খঘোষ ও সমরেশ,
আল মাহমুদ-আবুল হাসান
গুনলে নামের নেইকো শেষ!

সাহিত্য ও শিল্পকলায়
কত কী যে গৌরব,
অভিনয়ে উত্তম কুমার
খেলার মাঠে সৌরভ।

নাম বলা যায় হাজার হাজার
আমরা কালে বহমান,
‘বাংলাদেশ’ এক রাষ্ট্র দিলেন
শেখ মুজিবুর রহমান।

রাষ্ট্র আছে, ভাষা আছে
ফেব্রুয়ারির গর্ব,
ভাষার জন্য লড়তে পারি
লড়াই হলে লড়ব।

বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের
বিজয়গাঁথা উঠছে
নতুন শিশু, প্রজন্মও
ফুলের মতো ফুটছে।

১৪. বিবেক শতচ্ছিন্ন

ভয়াল খুনি কীসের জোরে
ঠিক পেয়ে যায় ক্ষমা?
ফুঁসে উঠে আমজনতা
ক্ষোভের পাহাড় জমা।

শত শত, সহস্রাধিক
অপরাধী আরো,
মামলা থেকে অব্যাহতি
বাদী যে খায় মারও।

জেলখানা নয়, সচিবালয়
মন্ত্রী পাড়ায় তারা,
দলের নেতা কিংবা ক্যাডার
ভীষণ দিশেহারা।

রাজনীতিতে এসব চমক
দিচ্ছে ধমক রাজা,
ছিঁচকে চোর ও নিরীহদের
হচ্ছে রোজ-ই সাজা।

সু-শাসনের বগল বাজে
আদালতে ভিন্ন,
অবক্ষয়ের খরস্রোতে
বিবেক শতচ্ছিন্ন!

১৫. লিখিয়ে

সে নাকি লিখিয়ে
এটা-ওটা হাতড়ায়
বিবেকটা বিকিয়ে!

কথা বলে হরদম
কখন যে নেয় দম
বুঝা তা মুশকিল!
তাকে দেখে অনেকে
দরোজায় দেন খিল।

বেরসিক কেউ কেউ
তাকে দেন গাট্টা,
ভাবে সে, ওসব-ই
বিদ্রুপ ঠাট্টা।

রোগ এক, ভুলে যায়
বাপের-ই নামটা,
শ্বশুরের নামে রোজ
পড়ে যায় নামতা।

 

১৬. জনগণ বন্দী

ক্ষমতার মসনদে বসে যে, সেই তো
বলে, ‘ঠিক চলছে, অনিয়ম নেই তো!
দুর্নীতি, কোথা-কই? শুনিনি তো হচ্ছে
বিরোধীরা অকারণ ওসব-ই কচ্ছে!
মন্ত্রীরা বেশ আছে কাজ নিয়ে ব্যস্ত
রাষ্ট্রের সব ভার কাঁধে আছে ন্যস্ত।’
পথঘাট ভাল তবু অভিযোগ কত যে
মন্ত্রী হাসে রোজ, আবুলের মতো যে!
‘আইন আছে, আদালত-নিরাপদ সকলে
সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি? কেউ নেই ধকলে।’
এই বলে মন্ত্রী পুলিশের পক্ষে
পুলিশের ভূঁড়ি বাড়েÑএই যা রক্ষে!
আরো সব মন্ত্রীর তারস্বরে চিৎকার
দেখে না যে ভাঙছে, জমিনে ভিত্ তার।
কেউ কেউ লড়ছেন, দেশপ্রেমে মশগুল
কেউ কেউ ঘুষ ছাড়া নড়ে না যে একচুল!
যার পদ শীর্ষে চালকের আসনে
তার দিন চলে যায় বাকপটু ভাষণে।
কতকিছু করছেন, আরো কত করবেন
বিরোধীদের হুংকার, কবে তিনি সরবেন?
ক্ষমতা বদলায়, ফিরে আসে সেই রূপ
জনতা তরপায়, তবু থাকে নিশ্চুপ।
এই দল-ওই দল, সমঝোতা-সন্ধি?
রাজনীতি-ঘোরটেপে জনগণ বন্দী!

 

১৮. লোকটি-২

স্বভাব যে তার কাচের ঘরে ঢিল ছোঁড়েন
কারোর ভালয় ঈর্ষাতে সে খুব পোড়েন।

বললে কথা থামেন না
প্রলয় ঘটা মিথ্যা বলায়
একেবারেই ঘামেন না।

‘এই করেছেন, সেই করেছেন
নদীর জলে বাঘ ধরেছেন!’
আষাঢ়ে সব গল্পে!
নিজের ঢোল পেটান বেজায়
অকারণেÑঅল্পে।

বিদ্ঘুটে শখ, উদোম গায়ে
রোদ পোহাবেন জঙ্গলে,
সুযোগ পেলে তিনি নাকি
ফুল ফোটাবেন মঙ্গলে!

 

১৯. টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট

ক্রিকেটের দামামা টুয়েন্টি ওভারে
টান টান শিহরণ, এপারে ও ওপারে!
মারকুটে ব্যাটসম্যান, কার বলে গতি খুব
ঘূর্ণির জাদুতে নিধনে কে, অপরূপ?
কে-কত শৈল্পিক চার কিবা ছক্কায়
কে চলে ধীর লয়ে উইকেট রক্ষায়?
আলোচনা-হৈ চৈ লেখালেখি যজ্ঞ
সব্বাই মাতোয়ারা বিদ্যান-অজ্ঞ!
জয় আর পরাজয়ে, হাসি ও কান্না
খেলাটার বাঁকে বাঁকে শিল্পের পান্না!

 

২০. ভণ্ড-জ্ঞানী
স্বভাব আজব, ঘুমান তিনি টয়লেটে
গড়তে রেকর্ড মোসাহেবীর
বসের দু’পা যান চেটে!

তিনি অনেক জান্তা!
সুযোগ পেলে সব লুটে নেন
হালুয়া-রুটি, পান্তা।

করেন চাপাবাজী
পেছন থেকে ছুরি চালান
মুখোশ-আঁটা পাজী!

মিথ্যে বলায় নেইকো জুড়ি
করছে দেদার পুকুর চুরি
আছে হরেক ডিগ্রি !
ভণ্ড-জ্ঞানীর দেখা পেলে
তাড়িয়ে দিয়ো শীঘ্রি।

 

২১. লোকটি-৩
দলের ভেতর দলাদলির
লাঠিম তিনি ঘুরান,
‘এই করেছেন, ঐ করিবেন!’
কথার ফানুস উড়ান।

তিনি নাকি অমুক গাঁয়ের
লাট সাহেবের পোলা,
নিলাজ হেসে স্বচ্ছ পানি
করে দেবেন ঘোলা।

সুযোগ বুঝে শিকার ধরেন
আদর পেলে মাথায় চড়েন
কথায় কথায় বড়াই,
ভাঙেন এটা, ছাড়েন ওটা
টু-পাইস পেলে সমঝোতা
আমরা তাকে ডরাই!

 

২২. খ্যাতিমান

তিনি ছিলেন নিজের নামে খ্যাত
দেখলে তাকে সব বয়সী
সালাম ঠুকে যেত।
সভা হলে তিনিই সভাপতি
তাকে ছাড়া ছিল না তো গতি
এই গরবে ভেবেছিলেন
তিনি বুঝি সব বিদূষীর পতি!
তার যে ছিল একটি জাদুর কলম
কলম থেকে তোষামোদের
ঝরত কথা হরহর!
মলম মাখায় ছিলেন পারদর্শী
তবু কেন ফেলতো থু থু পড়শী?

হঠাৎ কী যে হল
পড়শী থেকে পথচারীর
থু থু বেড়ে গেল।
থু থু এবং গালির তোড়ে
ফেলেছিলেন জলও।

অনেক অনেক পরÑ
জানা গেল ঐ খ্যাতিমান
স্বৈরচারীর এক শাসকের
ছিলেন দালাল-চর!

 

২৩. বায়োডাটা

বায়োডাটা লিখতে গেলে
কেবল কাগজ ফুরায়,
বিশেষণের মিছিল ওতে
চেয়ে দু’চোখ জুড়ায়!

পদবী যে কত শত
হরেক পদক প্রাপ্তি,
ভাঙে কলম, ফুরায় কালি
লিখতে ডাটার ড্রাফটি!

বায়োডাটায় ডিগ্রি হরেক
বিশেষ গুণের তালিকা,
এটাও আছে, দৌড়ে কবে
প্রথম হলেন শালিকা।

দূর্বাঘাস চিবিয়ে রোজই
মাতিয়েছিলেন কলেজে,
নিন্দুকেরা এসব নিয়ে
কত কথা বলে যে!

খেলার মাঠে বল কুড়াতেন
কীর্তি রঙিন-বর্ণ,
কাব্য সভায় চা খাওয়াতেন
এতেও পদক-স্বর্ণ!

ভার্সিটিতে হলের শাখার
কবে ছিলেন কর্মী,
বায়োডাটায় লিখতে হবে
মানবতাধর্মী।
সমাজে তার কী অবদান
কত রকম যজ্ঞ,
কথার ফানুস না উড়ালে
ভাববে তাকে ‘অজ্ঞ’।

অমুক পদক, তাম্র-লোহা
স্বর্ণ পদক হাতানো,
পিছে লোকে বলে বেড়াক
ওসব পাওয়া-পাতানো!

বায়োডটায় থাকতে হবে
সকল কথা অবশ্য,
কেউ না মানুক, নিজে-নিজেই
নিজকে ভাবেন নমস্য!

 

২৪. কলম্বাস
ইউরোপে ছিল বাস কলম্বাস নাবিকের
সীমারেখা পেরুবার স্বপ্ন তার ছিল ঢের
মহাসাগরের দিকে তাকিয়ে যে ভাবতেন
নব ভূমি খুঁজে পেতে শিহরণে কাঁপতেন।
ভারতে আছে নাকি সোনা-দানা মসলা
ঝলসায় চোখে তার স্বপ্নের পসলা!
‘যেতে হবে মৃত্যুর হাতছানি মাড়িয়ে!’
দ্রোহে রাঙা পণটা নিত তাকে তাড়িয়ে।
করেছিলেন যাত্রা নিয়ে মাঝি-মাল্লা
মহাসাগরে সে কী অসীমের পাল্লা!
ঝড় আসে, তুফানেও অবিচল শান্ত
তখনো কি আমেরিকার কথা কেউ জানত?
অজানা জনপদ আমেরিকার মাটিতে
প্রাণ ভরে শ্বাস নেন, গর্বিত ছাতিতে!
কুর্নিশ করে তাকে ভয়াল সমুদ্দুর
দেখা পান আদিবাসী, ঝকঝকে রোদ্দুর।
ভারতের ভূমি নয়, নতুন এক ভূমি জয়
সেই থেকে কলম্বাস নামটাই বিস্ময়!
বসতি গড়ে তোলা ছিল কী যে শক্ত
লড়াইয়ে প্রাণহানি, বয়েছিল রক্ত!
আদিবাসী-বণিকের হল যেই সন্ধি
ইতিহাস বাঁক নিয়ে টার্কিতে বন্দি।

(ক্রিস্টফার কলম্বাস ইউরোপ থেকে সমুদ্রপথে ১৪৯২ সালের ৩ আগস্ট আমেরিকা আবিস্কার করেন।

এ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ১৩ অক্টোবর ‘কলম্বাস ডে’ হিসেবে পালিত হয়।)

 

২৫. ইয়ে

তিনি নাকি দেশে ছিলেন ‘ইয়ে’…!’
গল্প হরেক, বিশেষণও
চালু তাকে নিয়ে।
পটিয়েছিলেন ঊর্বশী এক
মগবাজারে করেছিলেন বিয়ে।
স্বভাব ছিল বসের দু’পা
ধুয়ে দিতেন ঘি-এ।

মন্ত্রী বলুন, পুলিশ-সেনা
চিনত তাকে নামে,
হাওয়া বুঝে ছুটেছিলেন
ডানে এবং বামে।

অনেক বছর তিনি নাকি
করে লেখালেখি,
হাতিয়েছিলেন ফায়দা কিছু
তা-ও দেখাদেখি!

এখন ছেড়ে দেশ
এদিক ওদিক চুলকে বেড়ান
ছিঁড়েন কারো কেশ।

‘কী ছিনুরে’! গাল-গল্প
নীতিকথা, ভাষণ
বিদ্ঘুটে শখ, সব সভাতে
দখল করেন আসন।

 

২৬. নড়বে না এক চুল

নড়বে না এক চুল
শুদ্ধ বা হোক ভুল
লড়াইয়ে লড়বে,
বিরোধীরা পাল্টা
তীর ছোঁড়ে, হালটা
ভাবে না কে ধরবে।

কৌশল উক্তি
খোঁজে না কেউ যুক্তি
ঢেউ ফুঁসে উঠছে,
জনমনে শঙ্কা
দেশ হবে ‘লঙ্কা’
আশা-আলো টুটছে!

নড়বে না, নাড়াবেই
রাজনীতি ঘেমে যায়,
বিরোধের চাকাটা
যদি ঠিক থেমে যায়!
তাহলেই স্বস্তি
নইলে দেশ হবে
দারিদ্র্যের বস্তি!

 

২৭. গ্যাস

রান্নাঘরে গ্যাস থাকে না
কারখানাতে টান
বণিক বলে, ‘মাটির নিচে
গ্যাস যে অফুরান!’

গ্যাস কতটা মজুদ আছে
বলবে সঠিক কে?
ঢাকায় নাকি ঘুরছে ডাকাত
‘হারে রেরে রে!’

সেমিনারে ফাটছে গলা
রাজনীতিতে ঢেউ,
ডলার-পাউন্ড গিলছে কারা
জানছে বলো কেউ?

শাসক বলে, ‘বেচতে হবে’
বিরোধীদের ‘না’,
গুপ্তধনে বর্গিরা যে
দিচ্ছে কেবল তা’।

শঙ্কা শুধু হয় না যেন
গ্যাসের হরিলুট,
দেশের কাঁধে দুর্নীতি যে
সিন্দাবাদের ভূত!

 

২৮. জোট

ভেবে দেখার সময় এখন
দেশটা চালায় কারা,
কু-শাসনে আমজনতা
কেন দিশেহারা?

দিনে দিনে দুর্নীতিবাজ
বাড়ছে, গলা ছাড়ছে,
অবক্ষয়ের পংকিলতায়
মূল্যবোধও হারছে!
মধ্য শ্রেণীর ভাঙছে পাঁজর
গরীব কেন বাড়ছে?

ক্ষমতা কি চটক আচার
অর্থ কারা করছে পাচার
চাচ্ছে তারা কী?
হচ্ছে ঘোলা স্বচ্ছ জলও
রক্ত কারা শুষে বলো
খাচ্ছে বেজায় ঘি!

লুটেরা ও খুনি কেন
হচ্ছে ভোটে প্রার্থী?
পার্টিগুলো ওদের থেকে
হাতায় টু-পাইস, বাড়তি?

আর থেকো না চুপটি করে
এসব হবে জানতে,
অসৎ, আঁধার দুর্গ যত
হবেই আঘাত হানতে!

যোগ্য ও সৎ প্রার্থী দেখে
দিয়ো তোমার ভোট,
শিক্ষা-সাজা দিতে পারে
আমজনতার জোট।

 

২৯. ক্রিকেটার

জাদুকরী ঘূর্ণিতে বলটাকে ছুঁড়ে দেন
পিচে পড়ে বলটা যেন কাঁথা মুড়ে দেন!
বল হয় লোপ্পা, ব্যাটসম্যান পিটিয়ে
বলে বলে ‘ছক্কা’ থাকে বুক চিতিয়ে।
হাল ছেড়ে ক্রিজে যান ব্যাটটাকে হাঁকিয়ে
শতকের ফুলঝুরি দিতে চান ঝাঁকিয়ে।
ব্যাটসম্যান হতে তার চলে কত চেষ্টা
বলটাকে বাগে আনা হয় না যে শেষটা।
স্পিন-পেসারের বল আসে গতি কি!
বল তাকে মানলে হয় বল ক্ষতি কী?
একই বল তার হাতে শ্লথ হয়, পানসে
তাকে ফের ঐ বল কী আঘাত হানছে!
আগুনের ফুলকি, পিচে বল ঘর্ষে
ব্যাট হাতে তিনি চোখে, দেখে যান শর্ষে!
যেই ব্যাট চালাবেন, হল বুঝি ছক্কা
প্রতিবার হয়ে যান, আউটে-অক্কা!
বলটাই বিটকেলে হল না যে সন্ধি
প্র্যাকটিসে আজো তাই রয়েছেন বন্দী।

 

৩০.  ঘোর

বলল দাদু গলা ছেড়ে
‘ঠাকুর ঘরে কে রে?’
পড়ল সাড়া, আসল তেড়ে
‘হা-রে, রে-রে, রে-রে!’

টগবগিয়ে আসল যারা
চোর খুঁজে হয় দিশেহারা
‘ধরো, মারো-হল্লা!
চোর ব্যাটাকে ধরব যখন
কেটে নেব কল্লা!’

ঠাকুর ঘরে যে জন আছে
সেও খোঁজে চোরকে।
কেউ আসে না কাটিয়ে দিতে
অন্ধ থাকার ঘোরকে!

 

৩১. কুস্তিগীর

লোহার গোলক ছোঁড়েন তিনি
গোলক ধাঁধায় পড়েন,
এক শ’ কলস ঠাণ্ডাজলে
ঘুম ভেঙ্গে রোজ নড়েন।

বুকডন্ যে নেবেন শতক
কয়েক কিলো দৌড়ে,
সকাল বেলায় খিস্তি-খেউর
লাথি দেবেন ‘বৌ’রে।

নাস্তাতে খান আণ্ডা ডজন
দুধ-মাখন ও পারোটা,
এক হাঁড়ি ভাত, আস্ত মোরগ
খাবেন যখন বারোটা।

দুপুর মানে দু’টোর পরে
চিংড়ি ঢাউস, কলাই ডাল,
খিচুরিটা বেজায় লাগে
হয় যদি তা জামির চাল।

বিকেল বেলায় ফলফলাদি
জুসের কতক প্রকারে,
সন্ধ্যা হলে লুচি-সেমাই
চালান পেটের লকারে।

রাত্তিরে তার ভোজন কী আর?
জর্দা-পোলাও ফিন্নি,
রান্নাঘরেই সদায় থাকেন
কুস্তিগীরের গিন্নি!
খাবার-দাবার, কুস্তি-ব্যায়াম
মাংশ-পেশী জমছে,
কিন্তু মাথার বুদ্ধি-গিলু
তার যে কেবল কমছে!

 

৩২. নেতা

রাজনীতিতে তেলেসমাতি যত
ট্রিকসও তিনি জানেন শত শত!
হাওয়া বুঝে বদলে যাবেন
বিশেষ রকম দামে,
টু-পাইস পেলে ডাইনে থেকে
নেতা আবার বামে।

দস্যু পোষা, চাঁদা তোলার কাজে!
ওসব কথা মুখে বলা সাজে?
চাঁদা তুলেই কাটছে যে দিন
অনেক দিনের স্বভাব,
বাড়ি-গাড়ি, বিত্ত মুঠোয়
ফুরিয়ে গেছে অভাব।

দেশের প্রেমে নেতার আহাজারিÑ
‘বিরোধীদের গিবত, বাড়াবাড়ি!’
নেতার মতো জনদরদী
কে আর এমন আছে?
চাইলে নেতা যায় না হওয়া
তা ধরে না গাছে।

‘আমজনতা কী আর বুঝে বলুন?
পিছল থেকে মওকা বুঝে চলুন!’
নেতা বলেন, ‘দেশটা নাকি
সোনার খনি-পান্না’
মঞ্চে কথার ফুলঝুরি আর
সেকী মায়াকান্না!

 

৩৩. লেখক

লিখেন কেবল হাবিজাবি
‘বড় লেখক’! নিজের দাবি
নিন্দুকেরা বলে,
‘লেখক কিছু খাটান ভাড়ায়
দিচ্ছে লিখে, যেমন দাঁড়ায়Ñ
ওসব দিয়েই চলে!’

নিজে কিছু লিখতে গিয়ে
জলের-তেলের মিশেল দিয়ে
করেন যদি চেষ্টা-
দিস্তা কয়েক কাগজ ফুরায়
মেধার পেষণ, চিন্তা উড়ায়
খোঁজেন শুরু-শেষটা!

লিখতে কিছু পারেন না যে
তবু বলেন, বিনয়-লাজে
‘আমিই সেরা-সত্যিÑ
বলতে পারো সক্রেটিস বা,
রবীন্দ্রনাথ, অচিন্ত্য দা,
জ্ঞানের জাহাজ-দত্যি!’

লেখক হওয়ার খায়েস থেকে
ছোটেন সোজা, আবার বেঁকে
বইমেলাতে নিত্য,
পাঞ্জাবী আর কাঁধে ঝোলা
আদিখ্যেতার কপাট খোলা
সুধীর জ্বলে চিত্ত!

 

৩৪.  লোকটি-৪

লোকটি নাকি হিংস্র পশুর
বুঝতে পারে ভাষা,
মহিষ-বাঘে খেলিয়েছিলেন
ক্রিকেট-হকি-পাশা!

গহীন বনে ছিল সে যে
বছর দশেক ধরো,
রয়েল বেঙ্গল বুঝেছিল
সে-ও ভয়ঙ্করও।

বাঘ-ভাল্লুক দেখলে তাকে
রাখত মাথা নুয়ে,
নদীর তীরে কুমীর-চিতা
থাকত অলস শুয়ে।

অন্য যত হিংস্র পশু
সুবোধ-সাধু সেজে,
বলত ওরা, চুপিচুপি
‘বনের রাজা কে যে!’

ঘুরত হরিণ, ছুটতো যেথা
অবাধ বিচরণে,
অহিংস এক নিয়ম ছিল
পাখ-পাখালির বনে!

লোকটি নাকি জানত জাদু
মন্ত্র হরেক তন্ত্র,
কী হল যে, ঢুকলো বনে
দস্যু এবং যন্ত্র!

মারল হাতি, রয়েল বেঙ্গল
মানুষ বেপরোয়া,
গাছের সারি কাটল যেন
ছেলের হাতের মোয়া!

গাছ কেটে নেয়, কাটছে ওরা
হচ্ছে উজার বন,
আর যাবে না লোকটি বনে
ধনুক ভাঙা পণ!

 

৩৫. মানুষ

পান চিবুতে লোকটি খাবেন
জর্দা-আদা-খেজুর,
হঠাৎ তার-ই হল কী যে
গজিয়ে গেল লেজুড়!

লেজ নিয়ে তার বাড়ল বিপদ
উঠলো আলোচনা,
টক-শোতেও বিশেষজ্ঞ
তুলল মুখে ফেনা।

লেজ গজান লোকটি দেখে
অনেক জনের অঙ্গে,
অদৃশ্যমান লেজ রয়েছে
নানা বিভাস-ভঙ্গে!

মানুষরূপী পশু অনেক
বিবেকবিহীন অন্ধ,
এই মানুষের ভিড়ে যে তার
বাড়ল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।

লোকটি ভাবে লেজ নিয়ে তার
তর্ক থাকুক পড়ে,
সত্যিকারের মানুষ ক’জন
হচ্ছে ঘরে ঘরে?

সত্যিকারের মানুষ খুঁজে
লোকটি হল হন্যে,
ছোটে গ্রামে-গঞ্জে এবং
শহর-জনারণ্যে।

 

৩৬. স্যার সমাচার

লেখাপড়া-ডিগ্রি? নেই তার অর্জন
কতজন জানে তা? তার সেকী গর্জন!
ভাবখানা পড়ুয়া বিদ্যান বলনে
বিজ্ঞের মেকী হাসি পোশাকেও চলনে।
নাম আছে, দাম নেই, সুখ নেই চিত্তে
অভাবের দিনগুলো ঢেকে গেছে বিত্তে!
করেনা কেউ কুর্নিশ, সমীহ বা সালামে
আজো পিছে গালি দেয় কানু-জনি-কালামে।
কী ছিল বাপ-দাদা, ও কথায় খিস্তি
কী হলে ফুরাবে যে নিন্দার কিস্তি!
ভেবে ভেবে একদিন খুঁজে পান ছন্দ
তাকে ‘স্যার’ ডাকলে ঘুচে যাবে দ্বন্দ্ব।
‘স্যার’ তাকে ডাকবে, লোক নেন ভাড়াটে
সারাক্ষণ ‘স্যার, স্যার’ উঠা-বসা, দাঁড়াতে!
‘এই স্যার, ও স্যার’ ভাড়াটেরা ব্যস্ত
আড়চোখে দেখে নেন, সরগোল বেশ তো!
আরো লোক বেড়ে যায়, আগে-পিছে ‘স্যার, স্যার’!
চাপ বাড়ে বেতনে, মন পুড়ে ছারখার!
ভাড়াটেরা ‘স্যার’ বলে আর কেউ বলে না
সকলের মন কেন তার প্রতি গলে না?
উসখুস করে তিনি প্রতিদিন কম খান
তিনি চান কিনতে টাকা দিয়ে সম্মান।
সম্মান চাইলেও কেনা যে যায় না
চেষ্টা চলে তবু দিশা খুঁজে পায় না।

 

৩৭.  নারায়ণগঞ্জ

‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ তকমাটা বেশ তো
আজ যেন খেতাবের নেই কোনো রেশ তো!
নারায়ণ্ গঞ্জ নাম, শহরটার রূপ কই?
নেতা আছে, বিবাদও, মিষ্টি-ছানা-দই,
পরোটা-ভাজি আছে, বোসকেবিন-ইতিহাস।
ব্যবসায়িক শহরে ব্যবসাও ‘সন্ত্রাস’!
ঈশা খাঁর রাজধানী, সোনারই সেই গাঁ
আজ নেই জৌলুস, চারদিকে খাঁ খাঁ
নৌঘাট, রেলপথ গমগমে জংশন
জনস্রোত, মুখরতা, ছিল কত ফাংশন
পাটকল ছিল এক আদমজী নাম তার
আজ শুধু ঐ নামে শ্রমিকের হাহাকার।
আওয়ামী লীগের জন্ম এখানে
মুজিবের আশ্রয় স্থল যেখানে।
৬ দফা ঘোষণা, আরো কত কর্ম
এ শহর ছিল যেন নেতাদের বর্ম।
লোকজন কখনো অন্যায় সয়নি
তাই বুঝি শহরের উন্নতি হয়নি!
রেমিট্যান্স অর্জনে আছে আরো অবদান
রাষ্ট্র কি দিয়েছে প্রাপ্য সম্মান?
পাট গেছে, সার আছে, রং-সুতা, চালডাল
গার্মেন্টস সেক্টর বাড়ছে বেসামাল।
তবু এই জেলাটা রোষানালে পুড়ছে
যোগ্য কি নেতা নেই? জেলাবাসী ঘুরছে
ঢাকা যদি সুয়োরাণী, দুয়োরাণী এ জেলা
সরকার উদাসীন, কাটে না যে অবেলা!
কেমিক্যাল বর্জে নদী-নালা নষ্ট
কারো মুখে রা নেই, চাপা ক্ষোভ-কষ্ট!
রাজা এসে রাজা গেছে, কেউ ফিরে চায়নি
পার্ক নেই, মাঠ নেই, শহর তা পায়নি।
ফুটবল-ক্রিকেটে কত যে খেলোয়াড়
জাতিকে দিয়েছে বার বার উপহার।
তবু কেন প্রাপ্তির খাতাতে শূন্য
এ শহর, জেলাটার চেহারায় দৈন্য!

 

৩৮. শ্রমিক

ওরা শ্রমিক, নয় কুশলিব
জীবন ওদের গৌণ,
হঠাৎ হঠাৎ মরছে দেদার
আমরা থাকি মৌন।

লাগছে আগুন, ভবন ধসে
লাশের সারি সারি,
মরে যাওয়াই সহজ যেন
জীবন ওদের ভারি!

থোকা থোকা জীবনগুলো
পায় না কেন মূল্য,
ওদের ঘামে অর্থ আসে
হয় না যে তার তূল্য।

মালিকরা সব আকাশ ছোঁবেন
শ্রমিক মাটির নিচে,
জাগুক বিবেক, চেতনাও
ওরা থাকবে কত পিছে?

 

৩৯. লোকটি-৫

একটা লোকের চাল-চুলো নেই
ঘর-বাড়ি ও চাকরি,
ফুটপাতে বা পার্কে থাকে
কুড়ায় পাতা-লাকড়ি।

বঙ্গভবন দেখলে সে যে
ককায়, উঠে হেঁচকি,
রুই-কাতলা খাচ্ছে কারা?
তার জোটে না কেঁচকি!

উঠছে ভবন আকাশমুখী
শহর নাকি বাড়ছে,
হাজার কোটি কারো কাছে
কেউবা কড়ি নাড়ছে।

সত্যবাদী পায় না সালাম
ভণ্ড-কপট আসনে,
‘দুর্নীতিকে উপরে ফেলো!’
নিছক নেতার ভাষণে।

লোকটি দেখে চতুর্দিকে
অসমতার ঢেউ যে,
রাষ্ট্র নীরব, সমাজও চুপ
কয় না কথা কেউ যে!

 

৪০.  ইউনূস

নাম তার ইউনূস, নোবেলটা ছিনিয়ে
বাঙালিকে দিয়েছেন বিশ্বকে চিনিয়ে
কীর্তির মহিমায় উজ্জ্বল আসনে
জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় এগিয়ে ভাষণে।
নাম-ডাক, খ্যাতি আর পদকের সম্ভার
লড়াকু ও লড়ছেন, নন তিনি দমবার।

অর্থ-নীতিবিদ আছে তার দর্শন
গরীবি হাল কেন? প্রস্তরে কর্ষণ!
্ঋণ দিয়ে নারীকে বাইরে আনলেন
বলে কেউ, শোষণের মায়াজাল টানলেন।

ঋণ দিয়ে চড়া সুদ দিয়েছেন চাপিয়ে
ঋণভারে গ্রহীতা উঠে নাকি হাঁপিয়ে,
কোটি কোটি টাকা তিনি গোপনে সরিয়ে
খবরের শিরোনাম, রং আরো চড়িয়ে!
অর্থের লোভ কেন ইউনূস করবেন?
সকলের আশা তিনি লোভ থেকে সরবেন।

 

৪১.  টক শো আলোচক

টক শো-তে তিনি যান
জ্ঞান দেন জাতিকে,
ঘরে ফিরে হম্বি,
বউ-মেয়ে-নাতিকে…!

‘এটা নয়, ওটা কী
সংবিধান বলে কী?’
মতবাদ-তর্ক
কথা ছাড়া জ্বলে কি?

এই টিভি, ঐ টিভি
দৌড়-ঝাঁপ ব্যস্ত,
ভুল ধরার কাজ নাকি
তার ওপর ন্যস্ত।

সরকার কোনদিকে
দেশ কোথা ধাবমান?
মাঝরাতে ঘুম ভাঙে
বুক দুরু-সাবধান!

ঘুমঘোরে কখনও বা
চিৎকার, হৈ-চৈ,
কেউ বলে তাকে নিয়ে
অহেতুক হৈ-রৈ।

দালালের তকমা
জ্ঞানী বলে ফের কেউ
কতিপয় টক শোÑতে,
অকারণ ‘ঘেউ-ঘেউ’!

 

৪২. দেশের টান

মন্ত্রী বলেন, প্রবাস থেকে
আসছে দেদার অথর্,
দিচ্ছি না হয় প্রবাসীদের
পিঠ বুলানো শর্ত।

প্রবাসীরা মাথার মুকুট
তাদের অনেক গুরুত্ব,
প্রবাসী ও সরকারেতে
নেই যে কোনো দূরত্ব!

বিনিয়োগে নেই ঝামেলা
সব প্রবাসী নিরাপদ,
জমি দখল, চাঁদাবাজি
চলছে তবু ভজঘট!

প্রবাসীদের সব অভিযোগ
হচ্ছে যে ফাইলবন্দী,
থানা-পুলিশ, সন্ত্রাসীতে
বেজায় রকম সন্ধি!

এয়ারপোর্টের সকল পথে
হয়রানি ও যন্ত্রণা!
মন্ত্রী কেবল বগল বাজান
উন্নয়নের মন্ত্রণা।

দেশটা কেন হয় না এমন?
মন্ত্রী যেমন বলে যান,
শেকড় ছেঁড়া সব প্রবাসীর
বুকে বাজে দেশের টান!

 

৪৩.  গাধা

একটা গাধা করল যে পণ
থাকবে না আর জঙ্গলে,
চাঁদের দেশে যাবে চলে
না হয় যাবে মঙ্গলে।

আর কতকাল চিবাবে সে
দূর্বাঘাস ও লঙ্কা?
ওসব খেয়ে মাথার গিলুর
ভীষণ লবডঙ্কা!

বুদ্ধি-জ্ঞানের অভাব বলে
কাজ করে যা আধা,
পাচ্ছে এতে তিরস্কারও
নাম যে গালি ‘গাধা’!

ধনুক ভাঙা পণে গাধা
দাঁড়ায় মহাসড়কে,
সড়ক বলে, ‘বেহাল আমি
দুর্ঘটনার মড়কে!’

রাস্তা ভাঙা, গর্ত কোথাও
সড়ক মানে মরণ ফাঁদ,
নিয়ম ও আইন মানছে ক’জন?
বললে হবে কুপোকাত!

গাধা দেখে ছুটছে যে যান
বেপরোয়া দত্যি,
চালক ওরা নিয়ম ভাঙার
আসল গাধা সত্যি!

 

৪৪.  লোকটি-৬
লোকটি নাকি সাঁতার কাটে
গঙ্গা-শীতলক্ষ্যায়,
কোন্ সে কালে সাঁতার কেটে
পৌঁছে ছিল মক্কায়!

রাইন-আমাজান, মিসিসিপি
পাড়ি দিত সহজে
বলত নাকি, ‘হায় রে নদী,
কেন ধীরে বহো যে!’

হোয়াং হো বা কাবুল নদী
ব্রক্ষ্মপুত্র, সিন্ধু
মিজোরী ও নীলনদকে
লোকটি বলে ‘বিন্দু’!

ভলগা, বুড়িগঙ্গা বলো
পদ্মা না হয় প্রমত্ত,
পারলে ওসব এক করে দাও
যা আছে তা সমস্ত।

লোকটি নাকি সকল নদী
পাড়ি দিতে সক্ষম
পারে না সে, বউ শাসাতে
ভীষণ রকম অক্ষম।

বউ নাকি তার বদমেজাজী
তার ভয়ে রোজ সাঁতরায়
ডুব সাঁতারে মুক্তি পাবার
উপায় সে যে হাতরায়!

 

৪৫. ভোট-১

ভোট ছাড়া জয়ী হলে আসলে কি জয়ী?
এই তামাশা দেখছি এবং আমরা তবু সহি।
সংবিধানের রক্ষা করার লড়াই চলে দেখি
রক্তস্রোতে দাঁড়িয়ে রাজা হাসি দেবেন মেকী।
গণতন্ত্র কাদের মুঠোয়, বাঁধছে কারা জোট?
আমজনতা চায় যে সদায় দিতে নিজের ভোট।

৪৬.
গণতন্ত্র
গণতান্ত্রের নামে দেখি ভণিতা ও চমক
সরকারি দল নাড়ে সুঁতো, বিরোধীদের ধমক!
কত কথা বলেন নেতা, কাজে দেখি উল্টো
একটা ভুলের মাশুল দিতে আবার করি ভুল তো!
দেশের মানুষ জানত যদি জাদু-টোনা-মন্ত্র
বদলে দিত রাজনীতি ও টিকত গণতন্ত্র!

 

৪৭.  যা দেখছি

একবার বসে গিয়ে কেউ গদি ছাড়ে না
কেউ দেয় হুমকি, কাজে কিছু পারে না।
কেউ বলে বেশ আছি, নেই কোনো শঙ্কা
রাবণের বাঁকা হাসি, দেশ যেন লঙ্কা।
কেউ বলে, দেব টান-দড়ি ছিঁড়ে পড়বেই
গণরোষ বাড়লে জঞ্জাল সরবেই।
কেউ বলে, এসো দেখিÑকার আছে শক্তি
র‌্যাব আছে, সেনাও দেখাবে না ভক্তি?
খুন-গুম-নিপীড়ন, বেপরোয়া হামলা
ইশারায় হয়ে যাবে শত শত মামলা।
কেউ দেখে, দাতারা ভাবছে কিÑবলছে
কেউ দেখে বিরোধের বরফ কি গলছে?
কেউ দেয় হাততালি, কেউ রাগে ফুঁসছে
‘কেউ’রা দু’জনে, দু’জনকে দুষছে।
এভাবে থেমে আছি, অমানিশা রাত্রি
কবে হবে দেশটা আলোমুখী যাত্রী?

৪৮.
দাঁড়াতে চাই ঘুরে

লাঠিমটাকে ঘুরিয়ে দিলেÑঘোরে
কবুতরকে উড়িয়ে দিলেÑউড়ে।
বাঁশরিয়ার ফুঁ ছাড়া কি
বাঁশী বাজে সুরে?
কে জাগাবে দেশপ্রেমিদের,
সরবে আঁধার দূরে।

সহে সহে দলকানা হই
এবং হলাম কুড়ে,
যোগ্য নেতা খুঁজতে হবে
আকাশ-পাতাল ফুঁড়ে।

জাগুক সবাই, জেগেছিল
যেমন একাত্তরে,
ঐক্য, দ্রোহ, উন্নয়নে
দাঁড়াতে চাই ঘুরে।

৪৯.
রাজাকার

হয়নি সাজা তার
মরে গেছে রাজাকার
দাফনের প্রশ্নে
ক্ষোভ-রোষ একাকার!

এ দেশের মাটিতে
কেন হবে সমাধি,
করবে কি ক্ষমা তবে
ধর্ষিতা রমা দি?

আরো যারা মা-বোন
শহীদের আত্মা,
অবিরল কান্নায়
দিয়ে যায় গাট্টা।

কবরেও ওরা যে
ঘুমাতে পারে না,
সব কটা রাজাকার
কেন যে মারে না!

শিগ্গির ফাঁসি দাও
মাটি নয় এ দেশে,
ছুঁড়ে দাও সাগরে
ভেসে যাক বিদেশে।

৫০.
নানা-নাতি

নানা এবং নাতি
তারা নাকি পোষেণ গাঁয়ে
হরেক শাদা হাতি!

এটা মারেন, ওটা পারেন
গাল-গল্প ভীষণ ছাড়েন
দিনে জ্বালান বাতি।

নানা লোলুপ, নারীলোভী
নাতি তারই হাতা
জ্যোৎস্না রাতে দু’জন নাকি
মেলে ধরেন ছাতা।

নানার অসুখ ইয়েÑ
দফায় দফায় করেন তিনি বিয়ে।
নাতি বগল বাজায় নানার
শ্বশুরবাড়ি নিয়ে।

৫১.
ওরা

সমাজ জুড়ে গুটি কয়েক বান্দা
হুজুক তুলে হরহামেশা যাচ্ছে করে ধান্ধা।

এটা করেন, ওটা ধরেন
টু-পাইস হাতান, পকেট ভরেন
ওদের অনেক সংঘ,
সবকিছুতে মাতামাতি
কথায় কথায় হাতাহাতি
যায় দেখা যায় রঙ্গ।

সভা করেন, সেমিনারও
‘আসন নেবে? অর্থ ছাড়ো!’
হাঁকবে, এটাই শর্ত,
অতিথিও ভাষণ দিয়ে
গর্ব করেন ওদের নিয়ে
সুযোগ পেলে ওরাই নাকি
সমাজটাকে গড়ত।

৫২.
কর্তা

কর্তা গেলে বাজারে
খরচ নিয়ে ভাবেন না যে
হোক না কয়েক হাজারে!

সঙ্গে থাকে গণ্ডা কুলি
চামচা থাকে মুছতে ধূলি
ভাবখানা যে, রাজারে!

পছন্দ যা নেবেন তুলে
দামের কথা তুললে ভুলে
হল্লা করেন বাজারে।

টাকা দেবেন দাম ছাড়িয়ে
দৃশ্য দেখে সব দাঁড়িয়ে
আছেন যেন মাজারে।

কর্তা নাকি দুর্নীতিবাজ
ওসব কথায় হাসেন নিলাজ
দিব্যি টানেন গাঁজা রে!

৫৩.
প্রবাসে ঈদ

দেশে ঈদ জমে উঠে ঈদ আসে প্রবাসে
কাজে যান অনেকে বিধাতা ম্লান হাসে।
সন্তান স্কুলে, বধূ কাজে ব্যস্ত
ডলারের পিছু ছুটা, নেই ঈদের রেশ তো!
তবে আরো অনেকে উৎসবে মাতবেন
ঈদ এলে তারা কেন কাজে গিয়ে খাটবেন?
ছুটে যান নামাজে ঘরে ঘরে রান্না
লং ড্রাইভ, হর্ষ, নেই চাপা কান্না।
আফসোস দেশে নেই, কাছে নেই পরিজন
চেপে রাখা কষ্ট ছুঁয়ে যায় তণুমন!

৫৪.
মিডিয়া

দেশ জুড়ে মিডিয়ার কেন এত বিস্তার
চুন খসে পড়লে কারো নেই নিস্তার।
এত টিভি, রেডিও পেপারও কম কি?
মিডিয়াতে বিপ্লব, বেড়ে গেছে ধমকি!
টক শো জুড়ে রোজ আলোচনা কত যে
আইনে ও শাসনে কত শত ক্ষত যে!
বক্তারা বলে যান, কখনও বা ঝগড়া
পিটিসিতে রিপোর্টারের চলে কত নখড়া।
এইদিকে সেইদিকে ক্যামেরা তো ঘুরছে
কালো টাকা, হুমকিÑডানা মেলে উড়ছে।
সরকার তেল দেয় মিডিয়ার চড়কায়
রিপোর্টার খেটে মরে, মালিকরা ‘সর’ খায়!
৫৫.
বস

তিনি বস রগচটা,
অফিসের সকলে
হুকুমের চাবুকে
কাজ করে ধকলে!

বস চান এই হবে
কাজ হবে গতিতে,
দৌড়-ঝাঁপ, হোক ক্ষয়
জুতো বা চটিতে।

কেউ যদি অফিসে
দেরী করে আসবেন,
কৈফিয়ত দিনভর
গালাগালে ফাঁসবেন।

লাঞ্চের টাইমে
ঘড়ি দেখে হাঁক-ডাক,
কদাচিৎ আগে ফেরা?
কামড়াবে মৌচাক!

দেরী করে ফিরলেও
টাকা নেই বাড়তি,
খাটুনিতে কেঁপে যাক
যে কারোর হাড়টি!

কাজে ফাঁকি দেয়া নাকি
অলসের ধম্ম,
ক্যামেরায় চোখ রেখে
বস দেখে কম্ম।

বস ভাবে মানুষের
কাজ ছাড়া আছে কী?
ভবঘুরে, লিখিয়ে
অলসকে যাচে কি?

বস রোজ অফিসে
পরিপাটি আসবেন,
ফেসবুকে বসে তিনি
প্রেমালাপে ভাসবেন।

কত কথা, হাবিজাবি
‘লাইক’ দিতে ব্যস্ত,
মাঝেমাঝে ক্যামেরায়
চোখ হয় ন্যস্ত।

ঈদ কিবা পূজোতে
বোনাসের দাবিতে,
বস ‘সিক্’ হয়ে যান
ব্যথা উঠে নাভিতে!

কাজ যারা করে যান
সেলারি যে বাড়ে না,
‘বস’রাই জিতে যান
তারা কভু হারে না!

৫৬.
দুদক

দুর্নীতির সর্প
উঠে গেছে পাহাড়ে,
পাতালে বাজে বীণ
সাপুড়ে কী-আহারে!

সাপুড়েরা দুদকে
ফাইল দেখে নিত্য,
কে-কারা, কীভাবে
গড়েছেন বিত্ত?

কদাচিৎ ধরে ফেলে
ডোরাকাটা সর্প,
নাগিনীরা নৃত্যের
করে যায় দর্প!

পাতালেই অভিযান
পাহাড়ে উঠে কে?
দেশের এই চেহারা,
বাস্তবে ফোটে যে!

৫৭.
সেলফোন

ঘনঘন যান বিদেশে
পান না যে আর স্বস্তি,
সেলফোনকে হয় যে মনে
বিপদজনক ‘হস্তী’!

আগে ছিল বউয়ের ডিমান্ড
পোশাক, হরেক প্রসাধন,
এখন ফোনের বিড়ম্বনা
‘খুলে রাখো সারাক্ষণ!

করছটা কীÑকোথায় এখন?’
ভাইবারে যে গিন্নি,
বউটা যদি বোকা হত
দিতেন রোজ-ই সিন্নি!

ফোনে সাঁটা ক্যামেরাও
সব দেখা যায় সহজে,
বিদেশ গিয়ে ফূর্তি করার
কথা কেন কহো যে!

কর্তা ঘোরেন গোমড়া মুখে
ঘরে সজাগ কত্রী,
একটি ফোনই পাহারাদার
হাজার সেনা-ছত্রী!

৫৮.
তিনি-৭

খান নাকি অল্প!
না খাওয়ার আক্ষেপের
করে যান গল্প।

সকালে খান রোজ
দশ রুটি-আণ্ডা,
ঘিয়ে ভাজা লুচি বিশ
সেভেন-আপ ঠাণ্ডা।

দুপুরে পিজা খেয়ে
দু’ প্লেট কাচ্চি,
বোরহানি, টক দই
চানাচুর-মুড়ি-খই
বিকেলে জলখাবার
সে সাথে লাচ্ছি।

রাতে ভাত, মাছ-ডাল
মুরগির ফ্রাই-ঝাল,
স্যুপ পেলে দু’বাটি
তবে হাসি এক গাল,
গোগ্রাসে খেয়ে বলে
‘কী এমন খাচ্ছি?’

হেলথ টিপস দিলে তাকে
গালি দেবে বাবা-মাকে!
যদি বলো মুখিয়েÑ
‘দিন দিন যাচ্ছেন
আহা কেন শুকিয়ে?’

বিগলিত হাসবেন
ধেই ধেই নেচে হেসে
আনন্দে ভাসবেন।

৫৯.
রিয়েলিটি শো

ঝিনুকে লুকিয়ে
থাকে নাকি মুক্তো
‘খুঁজে আনো প্রতিভা
এ কাজে সুখ তো!
শহরে হানা দাও,
যাও গ্রামে-গঞ্জে।’
ধুলো ঘেঁটে তারা কত
হীরে তুলে ‘লন্ যে’!
‘গান গাও প্রাণ খুলে
নাচো তা ধিন্ তা,
অভিনয়ে দাগ কাটো
হোক সেই সিন্টা।’
বিচারক বলে যান
কত কী টিভিতে,
বহুজাতিক ব্যবসা
সাহেব ও বিবিতে!
প্রতিভা খুঁজে খুঁজে
ঘষা-মাজা, রং-ঢং,
প্রচারণার ডামাঢোলে
কেউ কেউ হন সঙ।
রিয়েলিটি শোÑর নামে
যা দেশে চলছে,
কতজন গুণী হয়ে
ঠিক ঠিক জ্বলছে?

৬০.
ভোট-২
‘ভোট দিলে পায় কেউ মাইনে?’
কেন্দ্রে যাওয়া মানে দাঁড়াবে লাইনে!
আরো কত ঝঁক্কি, লাঠালাঠির শঙ্কা
কেউ খায় মিষ্টি, কারো পাতে লঙ্কা।
এ কথা জানে তা সকলে
প্রার্থীও থাকে যে ধকলে!
ভোট দিতে জনতার কষ্ট
সরকার জানে তা পষ্ট।
তাই ভোট দিয়ে দেয় সরকার
ঠিক করে নেয় কার, কতটুকু দরকার।
ভোট যদি হয় গণতন্ত্র
সরকারও জানে এর মন্ত্র।
তন্ত্রটা কাগজে, মন্ত্রটা চলমান
জোর যার মুল্লুকে, সরকার বলবান!

 

৬১.
নাক ডাকা

প্রতিবেশী প্রতিদিনই উঠছে রেগে গর্জে
সহে সহে এখন তাদের বাধ ভেঙেছে ধৈর্যে!
বাড়ির মুখে হচ্ছে মিছিল নামছে যখন রাত্রি
তারা নাকি হয়ে গেছেন না ঘুমানোর যাত্রী।
মাথার ওপর ভীষণ বিপদ, বাড়ছে ধকল-ঝঁক্কি
তিনি এখন ঘুমাতে যান, বাইরে থাকে রক্ষী।
নাক ডাকে তার গুরুম-দুরুম, বিকট-আজব শব্দ
ঘরের মানুষ কোণঠাসা ঠিক, প্রতিবেশী জব্দ!
তিনি কিছু জানেন না এর শব্দ দূষণ কতটা
মিটিং-মিছিল দেখে বোঝেন প্রতিবেশীর ক্ষতটা।
তাকে দেখে ছোকড়া-যুবা, পথের শিশু-রত্তি
এমনভাবে তাকায় যেন তিনি বিশাল দত্যি!
রক্ষী নিয়ে চলেন-ফেরেন, নাক ডাকা এই অসুখে
পণ করেছেন নাক দেখাবেন চিকিৎসক ঐ বসুকে।

৬২.
প্রলাপ
প্রলাপ বকার বাড়ছে দেশে লোক
ইতিহাসে মিশেল দিয়ে বলেন যেন জোক!
রাজনীতিতে ‘শোভন’ উধাও, বাড়ছে শুধু ক্ষোভ
সিংহাসন ও কালো টাকার নেতায় নেতায় লোভ।
লোভে-ক্ষোভে প্রলাপ বকে তারা কী আর পাবে
কালকে ঠিকই ইতিহাসের আস্তকুঁড়ে যাবে!

৬৩.
নায়ক
করল তাকে ঘেরাও, ধরো
কয়েক ডজন ষণ্ডা,
মুচকি হেসে চায়ে চুমুক
খাবে মিঠাই-মণ্ডা।

এমন ধোলাই দেবেন ওদের
প্রাণ বাঁচাবে পালিয়ে,
রিকশা চালান, নৌকা-জাহাজ
ছোটেন গাড়ি চালিয়ে।

আকাশ থেকে লাফিয়ে পড়েন
সাগর জলে ডুব দেন,
নাচেন-কাঁদেন, হারিয়ে যাওয়া
পিতা-মাতার খোঁজ নেন।

অনিয়মের প্রতিবাদে
সদায় উঠেন গর্জে,
কখনও বা নির্যাতনে
থাকেন অসীম ধৈর্যে!

ছায়াছবির রসায়নে
নায়ক তিনি সর্বদা,
শিউরে দেখেন অনেকে ঠিক
ভিলেন মারার পর্বটা।

জলিল-খলিল নাম যেটা হোক
নাম থাকে এক পোশাকী,
নিন্দুকেরা জাবর কাটে
পড়ে গায়ে ঠোসা কি?

আম-জনতার ভীড়ের ভয়ে
যান না নায়ক বাইরে,
সত্যিকারের নায়ক কেন
আমার দেশে নাই রে!

৬৪.
পিএইচডি জ্ঞানী

নামের আগে অনেক রকম
বিশেষণের হিড়িক,
পিএইচডি এক ডিগ্রি কিনে
নাচেন তাধিন-তিড়িক!

সভায় এবং সেমিনারে
খুব সে গলা ফাটান,
চামচা আছে, হাততালি দেয়
নিজের দু’পা চাটান।

বগলদাবায় থাকবে কিতাব
আর্ট গ্যালারি ঘুরেন,
ছবির বিষয় না বুঝেও
নানা কথা ছোড়েন।

ইতিহাসে-বিজ্ঞানে বা
রাজনীতিরও তর্কে,
বললে কথা চাপার জোরে
যাবে যে কেউ ভড়কে।

বাকপটু ও মিথ্যা বলায়
ভীষণ পারদর্শী,
বিটকেলে শখ, চৈত্রমাসে
ফেলেন ক্ষেতে বড়শি।

 

৬৫. হ্যাপি নিউ ইয়ার

কালের গর্ভে যায় হারিয়ে
একটি বছর যেই,
নতুন বছর স্বপ্ন-আশায়
নাচে তাধিন ধেই।

আলোক দ্যুতি লুটোপুটি
প্রাণে প্রাণে সুর,
দিনলিপিতে যে সাল ছিল
এখন অতীত-দূর।

ব্যর্থতা ও জীর্ণতা যা
গ্লানি-ক্লেদও মুছে,
নতুন দিনের সূর্যালোকে
যায় যে আঁধার ঘুচে।

জাগরণের উদ্দীপনায়
আতশবাজি-হর্ষ,
এগিয়ে চলার নতুন গানে
মুখর নববর্ষ।

নিউইয়র্ক-ঢাকা-লন্ডন-প্যারিস
টোকিও-বন-লংকা…
ধ্বনিত হয়, ‘হ্যাপি নিউইয়ার!’
কোথাও নেই শংকা।

দেশে দেশে, জাতি-ভেদে
বর্ষবরণ চলছে,
কালের স্্েরাতে সভ্যতা কি
আরো পেখম মেলছে?

বর্ষ আসুক, থাকে যেন
সহিষ্ণুতা-শান্তি,
অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে
কাটুক বিবাদ-ভ্রান্তি!

৬৬.
পাগল

একটা লোকের হঠাৎ রাতে
গজিয়ে গেল শিং,
লোকটি রেগে নাকে-কানে
লাগিয়ে নিল রিং!
গলির মোড়ে বলল জোরে
‘আমি দেশের কিং!’

জরির পোশাক গায়ে দিয়ে
গুলিস্তানে রোজ,
বঙ্গভবন ঢোকার উপায়
লোকটি করে খোঁজ।

‘সিংহাসনে বসতে হবে’
তার যে কেবল দাবি,
পথচারীর কটাক্ষ-ঢিল
জোটে হাবিজাবি!

মাথার দু’টি শিং উঁচিয়ে
সে-ও তেড়ে ছোটে,
ঘাবড়ে থামে, যখনই কেউ
‘পাগল’ বলে ওঠে।
৬৭.
জ্যোতিষ

জ্যোতিষ দেখেন আতশী কাচে
হাতের রেখায় কী আছে,
দুষ্ট গ্রহ বিপদ ঠেলে
এ সব কথা কে যাচে!

বৃহস্পতি তুঙ্গে নাকি
শনিটা কোন বলয়ে,
বিত্তবানও হয় যে গরীব
ভাগ্য দোষে-প্রলয়ে।

কাটবে বিপদ, মন্দ লগন
রুবি-নীলা পাথরে,
থাকুন যেথায় পাহাড়-বনে
দিল্লি-নিউইয়র্ক-নাটোরে।

শুক্র, রবি গ্রহ তারা
জন্মদিনের হিসাবে,
রাশির জাতক-জাতিকাকে
শাস্ত্র পথে মিশাবে।

অবিশ্বাসে কেউবা করেন
জ্যোতিষ দেখে তুচ্ছ-জ্ঞান,
একটা সময় কাবু হয়ে
তারাই আবার ছুটে যান।

জ্যোতিষ সবার রেখা দেখে
ভবিষ্যৎকে বাতলে দেন,
এত পাথর নিজের কাছে
তবু রোজ-ই কর্জ নেন!

৬৮.
লোকটি-৮

লোকটি কেবল পথ হারান
নিজের ছায়া রোজ তাড়ান।
রাত্রিবেলা মাতাল হয়ে
পথে পথে গালি সহে
পাড়ার মোড়ে লোকটি এসে দাঁড়ান।

তাকিয়ে থাকেন একদিকে
হাবিজাবি যান লিখে,
টুকরো-ছেঁড়া দুঃখগুলো সারান।

লোকটি নাকি কবি হবার চেষ্টায়
বউ হারিয়ে পাগল হলেন শেষটায়!

৬৯.
পরিচয়

মানুষের পরিচয়
হবে কেন ধর্মে?
মানুষটা কী রকম,
কী আছে দোষ-গুণ
পরিচয় হোক তার কর্মে।

৭০.
কবি
কবিগুরুÑওটা কে? বিস্ময়ে তাকিয়ে
বাঁকা হেসে বলবেনÑবুঝি সে আঁকিয়ে?
ফের ওঠে প্রশ্নÑকে ছিলেন নজরুল?
বিব্রত করে তাকে প্রশ্নের নামে হুল।
কত-শত কবিরা হাবিজাবি লিখতেন
তারা বেঁচে থাকলে তাঁর কাছে শিখতেন।
তিনিই তো লিখছেন কালজয়ী কবিতা
রবে চির অক্ষয় মহাকালে সবি তা।
নিজ দাবি বড় কবি, নেই তাঁর তুল্য
দু’ঘা খেয়ে শেষে বউ দেন মূল্য।
দ্বিধা কেন বল কারো তাঁকে কবি মানতে
হবে কেন অতীতের কবিদের টানতে?
কবিদের ‘কবিরাজ’ তিনি তা সত্যি!
তাঁর লেখা কেন কেউ পড়ে না রত্তি?
৭১.
দেশপ্রেম
দেশপ্রেম আছে কিনা
তর্কটা জোরাল,
বলে কেউÑআগে ছিল
ওটা কে ঘোরাল?

কেউ বলেÑআজো আছে
তবে কারো নেই ঠিক,
দাতাদের পদসেবায়
হাসে তারা খিক্খিক্!

এ বলেÑওর নেই
ও বলেÑউল্টো,
জনসভাÑমঞ্চে
নেতা মারে গুল তো!

‘দেশপ্রেম’ বলো দেখি
তুমি কার বক্ষে?
মুখোশের ভিড়ে সবে
থাকি যে তক্কে!

৭২.
দুখু মিয়ার সুখ

দুখু মিয়া ‘সুখ’ চান
রোজ বউ পিটিয়ে
যত ক্ষোভ মিটিয়ে
হাত পাতা বিড়িতে
দেন তিনি সুখ টান।

দুখু মিয়া জানে এইÑ
বউ রবে মুঠোতে
চড়-লাথি-গুঁতোতে।
বউকে ভালবাসা?
এর কোনো মানে নেই!

তবে দুখু ভয় পান
মা এসে ধমকালে
মার খেয়ে চমকালে
ভেবে দেখে নিজকে
তিনি এক শয়তান!

৭৩.
রাজা-প্রজা
প্রজা কারা রাজা কেন
শ্রেণী কে বানাল,
কারা কবে বিভাজন
পৃথিবীতে জানাল?

রাজা ও প্রজাদের
রক্ত কি নয় লাল?
রাজা বুঝি সভ্য
প্রজাগণ ‘বেসামাল’!

রাজাও তো ঘুম যায়
হাঁটে-চলে, খায়-দায়
প্রজাদের বাড়িতে
অনাহারী খেতে চায়।

প্রাসাদে ও বিত্তে
দিন কারো রঙ্গিন,
কুঁড়ে ঘরে অভাবে
কেউ নাহয় সঙ্গিন!

সেনাদল-নর্তকী
ওরা পুষে রাজা হয়,
রাঙা চোখে তাকালে
প্রজাদের সাজা হয়।

রাজাদের দোষ-ত্রুটি?
ফাঁক থাকে আইনে,
যত দোষ প্রজাদের
দিন কাটে ফাইনে।

একই মানুষ তবু দেখি
রাজা-প্রজা পরিচয়,
মানুষই তা বানিয়েছে
জেনেও তা কেন সয়?

৭৪.
শিল্পী

পড়শীরা দেন কানে তুলো
তিনি যখন রেওয়াজে,
নিন্দুকে কয়Ñবেসুর সুরে
ডাকে যেন ‘দেয়া’ যে!

সারে-গামা-পাদা-নিসা
করেন কেবল সুরের দিশা,
সকাল-দুপুর-রাত্রে
লতা-রুনা-শ্রেয়া হবেন
স্বপ্ন বেড়ান হাতড়ে।

দাদরা দ্রুত কাহারবাতে
সুরটা থাকুক তালের সাথে
ভৈরবী রাগ, আরো রাগে
গলা সাধা চলতে থাকে,
শিল্পী হতে হবেই!
ঘরে পোষা ময়না নাকি
গান শিখেছে কবেই!

৭৫.
বিজ্ঞানী

কেউবা বলে, ‘বড্ড ভাবুক’
আমি তাকে ঠিক জানি,
নাসা পেলে লুফে নিত
তিনি এমন বিজ্ঞানী!

মহাকাশে গ্রহ কত
ঘুরছে কেন অবিরত?
কোনটা আবার পড়ছে ধসে
তারা কেন ধরায় খসে?
এসব নিয়ে প্রশ্ন যত
জানেন তিনি, এটাই ব্রত।

ঘুমান পাহাড়-জলে-গাছে
কদাচ বলেনÑ ‘খবর আছে!
কালো গহ্বরের পরে
হাজার আকাশ থরে থরে
হরেক সাগর, পাহাড়-নদী
প্রাণের হদিস কর যদি!
মানুষ পাবে ভাষা যে নেই
গুনতে গেলে হারাবে খেই।
ওসব মানুষ অমর হয়ে
কালের স্্েরাতে যাচ্ছে বয়ে!’

পৃথিবীতে তারাই ছিল নাকি,
আরেক ধরায় তাদের থাকাথাকি!

এসব কথা বলেন তিনি
আকাশ পানে চেয়ে
কখনও বা হেনস্থা হন
‘পাগল’ খেতাব পেয়ে।

তিনি আজব সূত্র জানেন
এলিয়েনও ডেকে আনেন
দাবি করেন ধরার মতো
মহাকাশে আছে শত
একেক ধরায় একেক প্রাণী
হয়নি ওসব জানাজানি।
জ্বীন-পরী-ভূত আছে কিনা
প্রশ্ন হলে বলেনÑজ্বি না।

কারণ খোঁজেন-মহাকাশে অগ্নিগোলক বেশি
এত গ্রহ, ওদের কেন হয়না রেষারেষি?

চলছে ওসব নিয়ম মেপে
উল্কা কোনো উঠলে ক্ষেপে
ভয়ের কিছু নেই।
আলোকবর্ষ দূরে সরে
নাচে তাধিন ধেই।

মহাকাশের তথ্য পেতে
ঝরছে সবার ঘাম,
বাংলাদেশের বিজ্ঞানী তাই
কেউ জানে না নাম।

৭৬.
চামচার জবানবন্দী

সূর্যটা রোজ উঠছে পূবে, উঠুক
কূড়িগুলো ফুল হবে তা, ফুটুক।
কর্তা তবে যদি
বলেনÑ থামো
থেমেই যাবে খরস্্েরাতা নদী!

কর্তা যদি বলেই বসেন,
জানিস নাকি ওরে
সূর্য উদয় পশ্চিমে যে!
হল কেমন করে?

বলবো আমিÑঠিক বলেছেন,
এড়ায়নি যে দৃষ্টি
কদাচ যদি উল্টো হলই
কী আর অনাসৃষ্টি?

কর্তা ধরুন ফেলল বলে,
ফুল ফোটেনি আজকে!
বলল হেসেÑকরলে ছুটি
দেবেন কি দোষ গাছকে?

কর্তা কখন মুডে থাকেন
কখন থাকেন বিষাদে,
বুঝতে হবে তোষামোদি
করছি আমি কী সাধে!

কর্তা কিছু বলেই খুশি, থাকুক
খামখেয়েলির ছবি যত, আঁকুক।
তার যে অঢেল বিত্ত!
চামচা হয়ে টু-পাইস হাতাই
সুযোগ লুটি নিত্য।

৭৭.
ভূত

মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে
ভূতের সঙ্গে প্রথম দেখা
অন্ধকারের রথে!

হাঁটতে গিয়ে এক বোতলে
লাগল যে ঢুস, ধুত্!
ওতেই ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে
বেরিয়ে এল ভূত!

হাড় জিরজির, নিকষ কালো
ভূতটা উঠে দাঁড়ায়,
ভিড়মি খেয়ে দেখি ও-যে
তাল গাছটা ছাড়ায়!

রগড়ে দু’চোখ ভেংচি কেটে
ভূতটা দু’হাত বাড়ায়,
জ্ঞান হারাবার শিহরণে
গায়ের পশম দাঁড়ায়!

ভূতটা বলে-ঘুম ভাঙালি যদি
দে, খেতে দে, রক্ত ভরা নদী।
দিস নে আবার লঙ্কা পোড়া,
খাব হাতি-হাজার ঘোড়া!
ঘিয়ে ভাজা লুচি-ছানা
সবজি-সালাদ, মটর দানা,
ভাজা মাছের স্বাদটা পেতে
যেথায় নিবি, পারি যেতে।
চিকন চালের ভাত কি দিবি?
মোরগ পোলাও, মদের পিপি?
চিড়া-মুড়ি, মিঠাই-পায়েস?
চাপা আছে খাবার আয়েশ!
দিতে পারিস চায়না খাবার
ঝাল-টক যা, করব সাবার
জলটা যে চাই ‘মাম’
কলের পানি খেলে এখন
আর থাকে না দাম।

এক্ষুনি দে, খেতে
নইলে, তোকে আর দেব না যেতে!

আমার ভেতর ভয়ের কাঁপন সে-কী
সাহসটাকে ফুটিয়ে রাখি, মেকী!
ভূতটা বলেÑপাসনি কি ভয়, ওরে!
কটা মাথা আছে রে তোর ধড়ে?
মটকে দেব? উড়িয়ে দেব ফুঁয়ে?
তাল গাছেতে লটকে দিলে
থাকবি মাথা নুয়ে!

আমার মাথায় ঘুরছে তখন ফন্দি
ভূতটাকে যে করতে হবে বন্দী!
বলি ওকে-সব-ই দেব খেতে
যে বোতলে বন্দী ছিলে
আবার হবে যেতে।
পাই না ভেবে কেমনে পেলে মুক্তি?
দেখাও যদি খাবার দেব,
এটাই ধর চুক্তি।

ভূতটা মাথা চুলকে
বলেÑও কাজ সহজ বটে
ভাঙছি তোর ঐ ভুলকে।
ছিপি আঁটা ছিলাম যেমন
যাচ্ছি ঢুকে সেখানে
ছিপিটাকে আটকে দিবি
ছিল ওটা যেখানে।

ভূতটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী হয়
বোতল জুড়ে ধোঁয়াটে,
ছিপি এঁটে বাড়ি ফিরি
হয়নি মাথা নোয়াতে।

৭৮.
হ্যালো ইন

মুখোশে ঢাকা মুখ
‘হ্যালো ইন’ রাত্রি,
খোকা-খুকি এই রাতে
শিহরিত যাত্রী!

ঘরে ঘরে, দোকানে
চায় ওরা ক্যান্ডি,
ভূত সেজে খুব খুশি
সাইমন বা স্যান্ডি।

নানা রং-পোশাকে
ভীতিকর ভঙ্গি!
বড়রাও ভূত সেজে
কেউ হন সঙ্গী।

‘হ্যালো ইন’ সুরভিত
ফসলের গন্ধে,
ভূত এসে হানা দেবে
হবে যেই সন্ধ্যে!

সেই থেকে চল শুরু
ভূত সাজা ‘হ্যালো ইন’,
উৎসবে মাতে শিশু
ঝুড়ি হাতে অমলিন।

(‘হ্যালো ইন’ উৎসব শুরু আয়ারল্যান্ডে। এই উৎসবের প্রচলন কয়েক শতক আগে। আয়ারল্যান্ডের কৃষকরা মনে করতেন ফসল ঘরে তোলার পর ভূত এসে বাড়িতে হাজির হয়। ভূতদের তাড়াতে ‘ভূত’ সেজে তারা উৎসব চালু করে। এই হ্যালো ইন উৎসব এখন ইউরোপ ও আমেরিকাতে প্রতিবছর পালিত হয়।)

৭৯.
শিক্ষক

শিক্ষক মানে জানি শ্রদ্ধার পাত্র
সালামটা দিতে হবে চোখে দেখা মাত্র।
আমরাও দিয়েছি শ্রদ্ধার অর্ঘ্য
শিক্ষক পরিচয়ে দুলে যেত স্বর্গ!
যুগ নাকি বদলেছে শিক্ষক-ছাত্রে
ফ্রেন্ডশিপ হতে হবে ‘হাই-হ্যালো’ হাতরে!
মানুষ যে হতে হবেÑশিক্ষক বলতেন
রাঙা চোখ, বেত মারা, কেউ কান মলতেন।
সেই সব দিন নেই, গেছে যেন হারিয়ে
ছাত্ররা বসে থাকে, শিক্ষক দাঁড়িয়ে!
স্্েরাতে ভেসে আমরা কোথা যে যাচ্ছি
আধুনিক হতে গিয়ে বেপরোয়া নাচছি!

৮০.
সংবাদ পাঠিকা

সংবাদ পাঠিকা হয়েছেন হুজুগে
আয়নার সামনে বসে যান সুযোগে।
নিজেকে দেখে যান খুঁত কোনো আছে কি!
সুন্দরী না হলে এ কাজে যাচে কি?
ঢলঢলে মুখ হলে, কালসিটে কোনো দাগ
ক্যামেরায় ফুটবে তা, রাঙা চোখে বস রাগ।
চুল চাই পরিপাটি চোখ-মুখ সপ্রতিভ
প্রসাধন ঘষাঘষি, গা রাখ ছিপছিপ!
কণ্ঠের উঠানামার কত কী যে রপ্ত
ভুল হলে শ্রোতারা হতে পারে তপ্ত।
কণ্ঠটা যাই হোক ঝলসান রূপ তার
প্রযোজক মুগ্ধ, তরবারি খুব ধার!
বিটকেলে কেউ কেউ তাকে দেখে টিভিতে
যন্ত্রণার অভিযোগ পেশ করে ডিবিতে।

৮১.
তিনি-৯

তিনি খুব বিনয়ী রেগে কথা কন না
অপমানে ফুঁসবেন? সে রকম মন না।
উত্তম-মধ্যমও কদাচিৎ যদি খান
অবনত মস্তকে হাসি রবে অম্লান।
আড্ডার টেবিলে জ্ঞানী কথা বলবেন
একদিন তিনি নাকি ঠিক ঠিক জ্বলবেন!
এ পাড়া-ও পাড়ায়, গলি মুখে দাঁড়িয়ে
মাঝে মাঝে হাত নেড়ে কী যে যান তাড়িয়ে!
হাই-হ্যালো, শুভাশিস জানাবেন হাসিতে
যারা তাকে চেনে-জানে, সরে যান কাশিতে!
যদি কেউ পটে যান, করে আরো সখ্য
গল্পের ফাঁদে ঋণ নিতে তিনি দক্ষ!

৮২.
পুলিশের কর্তা

তিনি কী যে খান রোজ!
ভাবি, নিতে হবে খোঁজ।
দিনদিন ফুলছে ভুঁড়ি তার
হুমকি ও ধমকিতে
নেই নাকি জুড়ি তার।

কেনাকাটা হরদম
দাম তাও দেবে কম!
যদি কেউ তাকাবে
জেরা ও লাঠিপোটায়
হাতটাকে পাকাবে।
কেউ তাকে ঠকাবে?
ঢুকে যাবে লকাপে!

সোনা-দানা-ডায়মন্ড
বেনামেতে আছে বন্ড
জমি-জমা বিস্তর।
চাকরিটা জব্বর
কাঁপে সব থরথর!

গিন্নিও পাড়াতে
হুঙ্কার দিয়ে যান,
নিন্দুক পিছে বলে
তিনি নাকি ঘুষ খান!

বেতনে কি চলা যায়?
আয় গড়পরতা,
ধরেছেন ঠিকÑতিনি
পুলিশের কর্তা!

৮৩.
তিনি-১০

তিনি,
ধারাবাহিক নাটক বানান
কখনও বা মিনি।

ভাব?
চাল-চলনে শশব্যস্ত
কাজের ভীষণ চাপ!

কথা?
সাক্ষাৎকারে বিগলিত
ভাঙেন নীরবতা!

দক্ষ?
দর্শকেরা করেন ‘ছিঃ ছিঃ’
হলিউড-ই লক্ষ্য।

কবে?
আদু ভাইয়ের পাশে বুঝি
তারও কবর হবে!

তবে,
খাঁটি সোনা হয়েও কেন
ধূলোয় ঢেকে রবে?

শেষে?
ফ্লপ নায়িকার গলায় মালা
দিলেন ভালবেসে।

৮৪.
সূঁতো

সরকারি প্রেসনোট
মন্ত্রীদের বকোয়াজ,
বিশ্বাস করে কেউ?
জানে তবু নেই লাজ!

বিটিভি-বেতারে
সরকারের ডামাঢোল
সরকার পড়ে গেলে
পাল্টিয়ে যায় ভোল!

আজকাল টক শো-তে
আলোচকও পক্ষে
বিরোধিতা বেশি হলে
নেই আর রক্ষে!

গর্জাবে? রদ্দি!
ভাল হলে খাও গুড়
আইনের সুঁতো নড়ে
কে যাবে, কদ্দূর?

৮৫.
আবুলের গিন্নি

আবুলের গিন্নি
রাঁধছেন প্রতিদিন
মাজারের সিন্নি।

মাজারের আছে নাকি শক্তি
মান্তÑএ কতজন
করে রোজ ভক্তি!

বাক্সে টাকা ফেলা,
ফল দান-মিষ্টি,
কৃপা পেলে নামবে
রহমত-বৃষ্টি!

আশা বুকে, ভরসায়
লোক আসে মাজারে,
ওরশের দিন হলে
সমাগম হাজারে।

আবুলের গিন্নি
ভাবে নিজে একাকী,
মরে গেলে তার ফের
পায় কেউ দেখা কি?

আউলিয়া-পীর বল
আসে না যে দৈবে!
খাঁটি এ কথাটা
বলো কে কইবে?

এতদিন মাজারের
রাঁধছেন সিন্নি
কিছু কি পেয়েছেন
আবুলের গিন্নি?

৮৬.
তিনি-১১

বাকপটু তিনি
তৈল দেয়া কর্মে
খাঁটি সোনা গিনি!

যদি ধরো এগুবে
সব লোক সরিয়ে,
পৌঁছবে ঠিকঠিক।
কারো মন গলাতে
কাঁদেÑপা জড়িয়ে,
ফের হাসে ফিক্ফিক্!

মধুমাখা কথা তার
হাতানোর কাজ হলে
পুড়ে করে ছাড়খার!

চিনে রাখ তারে
ভেঙে খায় কাঁঠাল
অন্যের ঘাড়ে!

৮৭.
বিড়ালের ছানা

বিড়ালের ছানা
ভয় পেতে মানা।
খেতে চায় দুধ
মেলে কাটা-দানা।
ডোরাকাটা দাগ
দেখে বলে ‘বাঘ’।
কেউ কেউ কেঁপে সাড়া
সব কথা জানা।
বিড়ালের ছানা
রাগী মুখখানা!
ডোরাকাটা দাগ আঁকো
করছে কে মানা?
বাঘ হল যেই
সঙ্গীরা নেই
যত ডাকে ওরা
বলে না, না-না।
কেউ পায় ভয়
কেউ চেয়ে রয়।
কেউ বলে, সন্দেহ
ও বাঘ নয়!
কথা শুনে রেগে
ছুটে গতিবেগে
হুড়মুড় পড়ে যায়
কাঁদে রাত জেগে।
হালুমের ডাক?
ও কথা থাক।
ডাক নয়, ‘মিঁউমিঁউ’
লজ্জার-ই হাঁক!
বিড়ালের ছানা
বাঘ সেজে দিয়ে দিল
মধুচাকে হানা।
এরপর যা হল
চোখ ফুলে কানা!

৮৮.
পরোপকারী

প্রত্যুষে দৌড়ান
ময়দানে-পার্কে
পারে পোষ মানাতে
পাগলাটে ষাঁড়কে।
মাস্তান ঠেঙ্গাতে
খ্যাতি আছে পাড়াতে
বাড়িওয়ালা ডাকে, ফের
ডাক দেবে ভাড়াটে।
ব্যবসায়ী বিরোধে
খেলা নিয়ে ঝগড়া
ঝামেলা মেটাবেন
ভয় পায় ঠগরা।
রোগী নিয়ে ছুটবেন
লাশ নিয়ে দাফনে
পাশে ঠিক দাঁড়াবেন
পর কিবা আপনে।
বিয়ে বাড়ি, খৎনায়
দেখা যায় ব্যস্ত
এলাকার সব কাজ
তার কাঁধে ন্যস্ত।
রেগে বউ চলে গেছে
তাই হয় রাঁধতে
রাত্তিরে কাঁদে, কেউ
দেখে না যে কাঁদতে!

৮৯.

তিনি-১২

সবাই দেখে নিকষ কালো
তিনি দেখেন আলো,
খাঁটি-সরেস যা দেখাবেন
পাননা খুঁজে ‘ভাল’।

খরস্্েরাতা নদী দেখে
বলবেÑনদী নিথর,
মৌলভী বা পাদ্রীকেও
ভাবেন তারা ইতর।

চোখ জুড়ান দৃশ্য দেখে
সবাই বলেÑবাহ্!
বলেন তিনি ‘ফাঁক রয়েছে’
তাজ্জবে সবÑহা!

যে কোন গানÑত্রুটি ধরেন
ঠুমরি কিবা খেয়ালে,
খুঁতখুঁতে এক ব্যারাম নাকি
আঁকা মনের দেয়ালে!

‘এটা কেন? ওটা যে নেই,
হত যদি ইয়ে…!’
কনে দেখে বাড়ল বয়স
হয়নি আজো বিয়ে।

৯০.
চাটুকার

তৈল মাখা সে-কী আর
ঘি মাখা কর্মে,
মেখে যদি উঠা যায়
বাধা কই ধর্মে?

‘জি-হুজুর, আজ্ঞে,
বলেছেন ঠিক তো!’
বলে তিনি লাভবান
হননি যে রিক্ত।

বসদের মন পেতে
পদসেবা, সাপ্লাই,
নীতিকথা কপচালে
বাড়বে যে ঘাপলাই!

তাই তৈল মেখে যান
ঘুমালেও জেগে যান
বস বুঝি ডাকল!
যদি কেউ দেখে হাসে
তার এতে যায় আসে?
বিদ্রƒপ-ই হাঁকল!

নিন্দুকে পিছে বলে ‘চাটুকার!’
লাথি-গুঁতো খেয়ে বলে
‘মালায়েম হাঁটু কার?’

৯১
হে মানুষ

এ বলেÑতুই মুসলিম,
ও বলে-তুই হিন্দু
ধর্মে কেন হবে পরিচয়
বুঝিনা এর বিন্দু!

এ দেয় গালিÑমালাউন তুই,
ও বলেÑমুসলিম জঙ্গি
একসাখে চলি-খাই, তবু
হতে পারি না সঙ্গী!

কেউ বলেÑআমি যে গৌর
কালো তুই যা দূরে
একই স্্রষ্টার মানুষ যাচ্ছে
হিংসার আগুনে পুড়ে!

খ্রিষ্টান বল, বৌদ্ধ কিবা
উচ্চ-নিম্ন বর্ণ,
রক্ত ঝরালে ফলাফল কি?
খোল বিবেকের কর্ণ!

৯২.
লেখকের তকমা

লেখকের তকমা
স্বেচ্ছায় চাপিয়ে
এ সভা, ও সভা
কথা বলে হাঁপিয়ে,
ভেবে নেন বেশ তো!
কত লোকই জন্মায়
মরে গেলে শেষ তো।

দেবতারা ‘বর’ চায়
তিনি নিজ খরচায়
পদকও কিনছেন।
সম্মুখে করতালি
পেছনে ফের দেয় গালি
এ লোকও চিনছেন!

সাধারণ হতে তিনি
কোনোভাবে চান না
নিন্দুকে ‘গাধা’ বলে
পেয়ে যায় কান্না।
কী হতÑহলে তিনি
‘জহরত-পান্না’!

দহনে যে পুড়ছেন
আড্ডায়-সেমিনারে
বই নিয়ে ঘুরছেন।

সালামও ঠুকে দেয়
ভুল করে কেউ যেই,
জেগে উঠে পাগলামী
নৃত্য কী ধেই ধেই!

৯৩.
বাঘ

ধরুন,
খুঁজতে গেলেন বাঘ।
সুন্দরবনে গহীন অরণ্যে
জোরসে দিলেন ডাক।
বিড়াল কতক হয়ত পাবেন
গায়ে ডোরা দাগ!
কর্তা বনেরÑবলবে হেসে,
বাস্তবতা করুন!

‘হালুম!’
রেকর্ড করা শব্দ পাবেন শুনতে
প্রাণী কত? সহজ তা যে গুণতে
হবেই হবে মালুম।

নেই!
রয়েল বেঙ্গল খুঁজে খুঁজে
হারান যদি খেই।
‘বাঘগুলোতে ভালই আছে
পাশের বাড়িতেই!’

দাবি,
অরণ্যকে অভয় করার
বন্যপ্রাণীর আবাস গড়ার
কর্তা বলেনÑদাবি-দাওয়ায়
তোরা কী আর পাবি?

জানি,
ওসব কথা থাকবে মুখে
কী হবে ঐ সংখ্যা টুকে?
‘বাঘ ফুরাল!’ আম-জনতার
কথার টানাটানি।

মানে,
হিংস্্র পশু বনে রেখে
পশুপ্রেমিক কী যে শেখে!
সরকারও তাই গড়িমসির
দেয়াল শুধু টানে।

৯৪.
প্রতিভা অর্জনে

লেখা নাকি মিনমিনে
বুকে ব্যথা চিনচিনে
করতালি পান না।
কী খেলে তেজ হবে?
দেখবে সে কলরবে
আবেগের কান্না!

কালজয়ী কবিতা
লিখে যেতে সব-ই তা
কাটে ক্ষণ প্রেষণে
লাগে কেন প্রতিভা-ই?
দাম যা দিত তাই,
পেত যদি রেশনে!

আজ সভা, কাল সভা
টকটকে লাল জবা,
সে বড় কবি ভাব!
বিটকেলে কিছু লোক
খোঁচানের মহা পোক
এতে বাড়ে বড় চাপ।

জানে না সে এভাবে
যাবে আর কদ্দুর
প্রতিভা অর্জনে
রোজ খায় রোদ্দুর!

৯৫.
তিনি-১৩

ভড়কে দিতে পারেন তিনি চমকে দিতেও পারেন
চাইলে তিনি জিততে পারেন, চাইলে আবার হারেন।
দলটা যখন হারতে বসে, পারেন না যে সইতে
থামেন তিনি খেলার মাঠে গোলের বন্যা বইতে।
কিংবা ধরুন ক্রিকেটেও রানের পাহাড় গড়তে
উইকেটেও বল হাতে ঠিক ভয়াল রূপও ধরতে
তিনি আবির্ভূত হলেই জয়টা মুঠোবন্দী
জনগণের নায়ক তিনি সবার সাথে সন্ধি।
সাঁতার-হকি, কাবাডি বা যত রকম লড়াইয়ে
তিনিই কেবল থাকেন টিকে আমজনতার বড়াইয়ে।
রাজনীতিকে শোভন করা, দেশ এগুনোর কর্মে
চুটকি মেরে পারেন সেকি, শান্তি বিরাজ ধর্মে!
ট্রাফিক জ্যামের সমস্যাটার নিরসনের উদ্যোগ
বাড়ুক আকাশ-পাতাল পথও, হোক না তাতে সুদ যোগ।
দুর্নীতিটার টানতে লাগাম রবেন না যে ধকলে
সুশাসনও ন্যায় বিচারের সুফল পাবেন সকলে।
আরো যত দাবি-দাওয়া, দিতে পারেন মিটিয়ে
পান না ভেবে পুলিশ কী পায়, আম-জনতা পিটিয়ে।
এই ‘তিনি’টা বলুন তো কে? সবাই করে কল্পনা
এমন ‘তিনি’ পেলেই তবে থামবে যত জল্পনা।
৯৬.
দৈত্য

মরুর বুকে দৈত্য যে এক কালো!
গিলছে শহর, রক্ত নহর,
সভ্যতা ও আলো!

অংক কারা কষে?
কে হারাবে ক্ষমতা বা
থাকবে কেবা বসে।

পূবে আগুন, পশ্চিমে কী ভাবনা!
মানবতা গলিত লাশ,
হিংস্্র বলেÑপাপ না!

জঙ্গি বলো শাসকও বা
থাকুক যেটাই স্বার্থ
আমজনতা মরবে কেন?
তারা যদি পারত
হলফ করে বলতে পারি
রাজাকেও মারত।

দৈত্যটাকে মারতে
বিশ্ববিবেক জাগাতে আজ
কণ্ঠ হবে ছাড়তে।

৯৭.
দেবী দুর্গা

অসুরকে দমনের শর্তে
দশভূষা দুর্গা আসবেই মর্ত্য,ে
ঠিকঠিক অসুরও ঢুকে যাবে গর্তে!

অন্যায়-অবিচার, করে যারা নিত্য
অন্যকে ঠকিয়ে হাসি-খুশি চিত্ত
কেউ আরো হিংস্্র লুণ্ঠন-দখলে,
দেবী মা, দুর্গা ক্ষেপে উঠে ধকলে!
‘দুর্জন করো নাশ!’ কেঁপে উঠে সকলে।
শারদীয় শরতে আসে দেবী মর্ত্যে
পূজো মানে উৎসব, প্রতিমা যে গড়তে
শিল্পীরা এ সময় নেমে যান লড়তে
কে হবে সেরাÑএর মুকুটটা পড়তে।

সনাতন ধর্মের বাঙালির উৎসবে
সকলেরই মেতে উঠা, শুরু এরÑসেই কবে!
হিন্দু ও মুসলিম মিলে মিশে ফূর্তি
সৌহার্দ্য রেখে জলে ডোবে মূর্তি!

চল তা ধরে রাখি, ছিল যা অতীতে
প্রতিবেশী ভাই-ভাই, মহেন্দ্র-মতিতে!

৯৮.
ডিটেকটিভ

অমলেশ পোদ্দার
দাদা ছিল জোতদার
বাবা ছিল পুলিশে
তার পেশা কী-যে ভাই
উড়াইয়া দেখে ছাই
কখনওবা কুলি সে,
ভিখারি বা ভবঘুরে
বেশ নেবে থুত্থুরে
ফের ধর কবিও
রহস্য-ছায়াতে
বিভ্রম-মায়াতে
আঁকবে সে ছবিও।
খুন-গুম যাই হোক
রাজাদের হলে শোক
তার ডাক পড়বে
চুরি গেলে রত্ন
বাড়ে তার যত্ন
অশরীরীও নড়বে।
সন্ধান সুলুকে
দূর্গম মুলুকে
নির্ভীক ছুটবে
ছিঁচকে বা পাকা চোর
দস্যুদের যত জোর
প্রতিরোধ টুটবে।
আকাশ বা পাতালে
কী করে হাতালে
ধরা যাবে যমদূত
ডিটেকটিভ দক্ষ
কাজে পরিপক্ক
ছক পাতে নেই খুঁত।
কয় মাস পরপর
গাঁয়ে ফিরে হড়বড়
গল্পের বাহারে
প্রবাসে ও পালামে
রাজাদের সালামে
ছিল নাকি আহারে!
দুঃখটা চাপা এই
তার গুণ মাপা নেই
লেখা নেই কেতাবে
বুক তার ভরে যেত
পরিচয় যদি পেত
জেমস বন্ড খেতাবে।
৯৯.
থ্যাংকস গিভিং ডে

নিমন্ত্রণের প্রথা চালু সৌহার্দ্য দেখানো
ধন্যবাদের দিবস পালন ইতিহাসটা লেখানো।
লড়েছিল আদিবাসী বণিক-শাসক তাড়াতে
রক্ত নহর বয়েছিল পারেনি ঠিক দাঁড়াতে।
হাত বাড়িয়ে বন্ধু হলাম লড়াইয়ে কি মুক্তি?
সাদা এবং কালোয় সেদিন হয়েছিল চুক্তি।
উপহারের পসরা বেজায় ভূরিভোজের টার্কি
তারপরও হয়নি সেদিন মানবতার হার কি?
থ্যাংকস গিভিংস ডে-আনন্দময়, রাত ফুরালই সেল বুম!
দোকান-মলে লাইনে ক্রেতা, চলে কেনাকাটার ধুম!

(যুক্তরাষ্ট্রে ১৬২১ সালে আদিবাসীদের সঙ্গে সৌহার্দ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউরোপিয়ান বণিকরা থ্যাংকস গিভিং ডে পালন করেছিল প্রথম। এদিন নৈশ্যভোজের পরও রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়েছিল। ১৭৮৯ ও ১৭৯৫ সালে দু’দফা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন থ্যাংকস গিভিং ডে পালনের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর নভেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার থ্যাংকস গিভিং ডে পালিত হচ্ছে।)

১০০.

বোকারাম হদ্দ

বোকারাম হদ্দ
লিখে রোজ গদ্য,
বলে তা-পদ্য!
এলেবেলে কথা কিছু
সাজিয়ে যে আগ-পিছু
শব্দের বাহারে,
অন্তের মিল নেই
ছন্দের ঝিল নেই
কবিতা কি আহারে!
আসরে তাকে দেখি
কবি এক সদ্য,
বোকারাম হদ্দ!

বিজ্ঞানী বিটকেলে
ঠিক হবে ইট খেলে
আজগুবি দাবি কি!
বলে-মিছে ধর্ম
ওটা কারো বর্ম
পরকাল-স্বর্গ,
স্্রষ্টাকে পাবি কি?
ভাবখানা ডারউইন
পাগলও বদ্ধ,
বোকারাম হদ্দ!

ভবঘুরে আঁকিয়ে
রং-জল ঝাঁকিয়ে
আঁকে ছবি বুঝি না
বলে সে-আমরা
বুদ্ধিতে ধামড়া
শিল্পকে খুঁজি না।
যে ছবির মিন নেই
মুখায়ব-সিন নেই
শিল্প কেন তা?
সাধারণ হতে পারি
নই যেন-তেন তা!
শুধরায় না তার
ভাবনা যে অদ্য,
বোকারাম হদ্দ!

সচেতন, সমাজে
দেয় দাড়ি-কমা যে
মাথা খালি ঘামাবে
এই কাজ ভাল নয়
ও হলে আলো হয়
চটপট হয়ে যাওয়া
কাজগুলো থামাবে।
কে নিল কতটা?
ওর বাড়ে ক্ষতটা
পরিবেশ নিয়ে আছে
বাড়াবাড়ি যতটা
করে যাবে নিত্য।
নখরামি দেখলে
জ্বলে যায় চিত্ত।
সমাজটা নিয়ে ও
যেন তালাবদ্ধ,
বোকারাম হদ্দ!

 

 

 Back