পাথুরে দত্যি

পাথুরে দত্যি

 Author: দপর্ণ কবীর  Category: ছড়া More Details
 Description:

চোর

‘চোর!’
শোর শোনা যায়Ñশোর!
রাত্রিখানা ফুরিয়ে যখন
ছুঁইছিলো ঠিক ভোর
এক বাড়িতে ঢুকলো গিয়ে
ছিঁচকে ব্যাটা চোর!
উঠলো জেগে পাড়া
হট্টগোলে সারা
সবাই মিলে চোর ব্যাটাকে
করলো ভীষণ তাড়া।
এদিক-ওদিক খোঁজাখুজি
ধরলে হবে বোঝাবুঝি!
‘তাড়াও! তাড়াও! তাড়াও!

মনের ভেতর থেকে কে যে
বললো আমায়Ñ‘দাঁড়াও!
আমরা সাধু! যাচ্ছিনা সব চেপে?
ফাঁক-ফোঁকরে লুটছি সুযোগ
মন কী উঠে খেপে?
ভাবনা হলো ঘোর!
নিজের ভেতর নিজেই তখন
পাইনা খুঁজে জোর।

 

পুনরাবৃত্তি
আজব ঝোলা দেখিয়ে তিনি
বলেন-‘সবাই থামো,
সব দাবী আজ মেনে নিলাম
নেবোনা তার দামও।

ভেল্কিবাজী-যাদুটোনা
ঝোলার ভেতর ঠাসা
এমন আজব মন্ত্র দেবো
পূর্ণ হবে আশা!

আজব ঝোলায় কিলবিলিয়ে
আছে হরেক মন্ত্র
একটা মোটে ছেড়ে দিলেই
টিকবে গণতন্ত্র!

সব-ই পাবে আমার শুধু
নির্বাচনে ভোট চাই
ব্যথা লাগে যখন দেখি
এ দেশে হায়-জোটনাই!’

কথার মধুর মন্ত্র-ফাঁদে
নেন কেড়ে ঠিক আসন
হয়না বদল কোনো কিছুর
আবার একই ভাষণ।

শোক
এক ছিলো এক লোক
তারই মাথায় বসলো চেপে
বিদেশ যাবার ঝোঁক!

বিদেশ যাবে-বাড়বে টাকা
চলবে দ্রুত ভাগ্য-চাকা
বানিয়ে দালান ভরবে ঢাকা
এই ভাবনায় ধরলো তাকে
টাকার জটিল রোগ।

বিক্রি করে ঘটিবাটি
জমিজমা-ভিটিমাটি
খোন্তা কুড়াল বেতের লাঠি,
দিনে দিনে বাড়লো শুধু
বিক্রি করার ঝোঁক।

হঠাৎ শুনি লোকটি নাকি
খেয়েছে সে ভীষণ ফাঁকি
তাই কাঁদে তার পরান পাখি
বুকটা জুড়ে এখন শুধু
সব হারানোর শোক!

 

আঁকিয়ে
আজব সে আঁকিয়ে!
তেল রঙ জলরঙ
এক করে ঝাঁকিয়ে
ক্যানভাসে মাখবেন
তারপর ভাববেন,
‘কী-কী ছবি আঁকবেন?’
ভাবনাটা হলে ঘোর
ফুরাবে ঠিক সাত ভোর!
বিষয়টি খুঁজতে
অস্থির চিত্তে
হিমসিম যুঝতে।
খেপে গিয়ে দেন শেষে
ক্যানভাসে ভুল টান
তবু ভাবে নিজেকে সে
পিকাসো বা সুলতান!

পরিণতি
বিস্তর লোক ছিলো
দখলেও ঝোঁক ছিলো,
ছিলো সে যে মন্ত্রীর
চাটুকার ও আমলা।
অপরের জমি-ধন
কেড়ে নেয়া যেন পণ
বেশ তিনি কাড়তেন
চালিয়ে ঠিক হামলা!
সংগ্রামী জটলায়
সময়টা বদলায়
আজ তিনি দিশেহারা
কাঁধে নিয়ে মামলা।
গেছে জমি-ধন-লাজ
পায়না তো খুঁজে আজ
আঁখিজল ফেলবারও
ছোট কোনো গামলা!

একুশ এলেই
একুশ এলেই তিনি অন্যবেশে
পাঞ্জাবীটা চাপান গায়ে হেসে
ভাষণ দিতে নিবেন গলা কেশে,
‘বাংলা করো চালু সারাদেশে-।’
তার মুখেতে ভাষণ কেবল ঝরে
কণ্ঠে আগুন! দু’চোখ জলে ভরে
কিন্তু যখন একুশ যাবে ফিরে
যাবেন তিনি ভুলে সবই-ধীরে।
ইংরেজীকে আবার তুলে নিবেন
বাংলাকে ঠিক অব্যহতি দিবেন!

শঙ্খ চিলের ছানা
ভরা নদীর স্রোতে ভেসে
শঙ্খ চিলের ছানা
গুন গুনিয়ে গাইছিলো গান
মেলে সুরের ডানা।

গান শুনে ওর, রামধনুটা
সাতটি রঙে সাজে
আকাশের ঐ ঈষৎ কোণে
হাসলো কারুকাজে।
তার ভাবে নয়! গানের ফাঁদে
মুগ্ধ আকাশ নামে
দূরে যেন নদীর বুকে
গা ভিজিয়ে থামে।

গানের সুরের ভুল করে যেই
মাছগুলো দেউ উঁকি
ছোঁ-মারে ও কচিহাতে
খানিক থাকে ঝুঁকি।
মাতাল হয়ে মেঘলা বাতাস
ছন্দ তুলে ছোটে
চিলের ছানা শিকার ধরায়
ব্যস্ত হয়ে উঠে।

 

খুকুর শাসন
সে এক বিশাল দত্যি!
ধমক খেয়ে উঠলো কেঁপে
ফেললো কেঁদে সত্যি!
কার ধমকে এমন?
সে আমাদের ছোট্টখুকু
নয়তো যেমনÑ তেমন!
রেগে গেছে খুকু
দত্যি কাঁপে ঠক্ ঠকা ঠক্
হারিয়ে সাহস টুকু।
দত্যিবাবুর দু’কান মলে
চোখ রাঙিয়ে খুকু বলে,
‘ভুল যদি হয় ফের!
আসবে না আর আমার বাড়ি
তোমার সাথে নেবো আড়ি
শাস্তি দেবো ঢের!’
এক সমুদ্র অশ্রু চোখে
পশুত্বটা নিজেই রুখে
দত্যি বলে শেষে,
‘হত্যা-জখম করবোনা আর
পরের সেবায় নিজেকে উজার
করবো ভালোবেসে।’

 

কিপ্টের দান
বসাক লেনের চিত্ত বাবু
ভীষণ রকম কিপ্টে
পয়সাকড়ি হাতিয়ে নিতে
বাতাস ফেলেন চিপ্টে!
সামনে খাবার সাজিয়ে রেখে
শূন্য থালা চাটেন
যত্নে আছে জুতো-জোড়া
খালি পায়ে হাঁটেন।
পোষাক-আষাক? একখানা-তাও
কবেকার যে তৈরী!
এসব কথা বলতে গেলে
মন হবে তার বৈরী।
জীবন ভরে আগলে রাখেন
বাড়ি-গাড়ি-বিত্ত
ঘঁষে ঘঁষে নিজকে কেবল
খরচ করেন নিত্য।
হঠাৎ তিনি মারা গেলেন
উইলটি তার হাতালে
জানা গেল দান করেছেন
নিজ দেহ হাসপাতালে।

 

বিদ্রোহ
হঠাৎ করে শুনি!
একাত্তরের হিংস্র দানব
হত্যা করে লক্ষ মানব
এখন নাকি উনি!
অন্ধকারে আঁতাত করে
উঁচু আসন আঁকড়ে ধরে
মুখোশ পড়ে সেজে গেছেন
নেতা এবং গুণী!
ফের জেগেছে শত্রু দেশের
একাত্তরের খুনি
লড়বো বলে চেতনাতে
বিদ্রোহ কে বুনি!

 

রোদ বৃষ্টির খেলা
আকা থেকে উ পচে পড়ে
রোদের ঝিকিমিকি
সবুজ রঙে প্রকৃতিটা
সাজলো আজও ঠিক-ই।
ফসল ভরা ক্ষেত্রে
দামাল বাতাস ঢেউ তোলানোর
খেলায় ছিলো মেতে।
খেলায় চড়ে ভাসতে ছিলাম
লক্ষ্যা নদীর বুকে
মনের খাতায় কাব্যকথা
নিতে ছিলাম টুকে।
গাড়চিলেরা উড়ে
শিকার ধরায় সুযোগ বুঝে
জলের আঁচল ফুড়েঁ।
নৌকো-জাহাজ যাচ্ছে ছুটে
পথ গিয়েছে দূরে!
দূরের পথে চেয়ে থেকে
মনটা কেমন করে।
হঠাৎ কি যে হলো
রুদ্র আকাশ কালো মেঘে
ভীষণ টলোমলো!
আষাঢ় আকাশ স্বভাব মতো
উঠলো সে কী কেঁদে
মেঘের যত রাগ রাগিনী
নিলো গলায় সেধে।
ভিজলো নদী, জমি-
বৃষ্টি রোগের মিশেল দিয়ে
করলো কে সব মমি!
মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকি
বুকের ভেতর ছন্দ
জলের উপর বৃষ্টি তো নয়,
যেন হীরক খন্ড!

 

বিচিত্র
(এস এম সুলতানকে)
ঐশিক মিত্র
সারা গায়ে রঙ মেখে
আঁকে নানা চিত্র!

ছবি আঁকা শেষ হলে
শুনেছি সে যাবে চলে
রোম, ঘানা, টোকিও বা
নিউইয়র্ক, হিথ্রো।

ঘুরবে সে বহুদেশ
আলু থালু সে-কী বেশ!
ফের দেশে ফিরবেই
লোকটি বিচিত্র!

 

বরযাত্রা
হরেক রকম গাড়ি
ছুটলো সারি সারি
বরের হলো যাত্রা
পটকা বাজি ফোটে
থামেনা তা মোটে
নান্দনিক এক মাত্রা!
কথা গানের রেশে
পথ ফুরালো শেষে
উঠলো সে কী রোল
বধূ বাড়ীর সবে
ভড়কে গেল রবে,
‘বরের মাথায় গোল!’
বইলো কথার ঝড়
লাগাম ধরা বর
‘হাম্বা’ করে গরু
হাসলো জনে-জনে
মূর্ছা গেল কণে
মন হলো তার মরু।

 

ঢোল পিটিয়ে
আবেদ আলী শেখ
বাজার থেকে কিনলো ঢোল এক
বললো, ‘সবাই দেখ!’
উচিয়ে ধরে লোকের ভিড়ে
কিন্তু কেউ আর চায়না ফিরে
ভাবনা গেল ফ্যাঁপে
ঢোলের গায়ে হাত পিটিয়ে
উঠে সে তাই খেপে।
ঢোলখানা তার বাজতে থাকে
হাটে-মাঠে- পথের বাঁকে
ভড়কে তাকায় সবে
প্রশ্ন ছোঁড়ে ‘মাথার ভেতর
বাঁধলো গোল এই কবে?’
‘এমন কেন মানুষ গুলো
ঢোল যেন নয়- পথের ধূলো!’
রাগ শুধু তার বাড়ে
নিজের ঢোল পিটিয়ে নিজেই
পরের নজর কাড়ে।

বেকারত্ব
রাত্তিরে সে ফেরে বাড়ি
লুকিয়ে পেছন দিয়ে
খুব সকালে যায় পালিয়ে
মাথায় বিপদ নিয়ে।
দরজাতে তার ঝুলে থাকে
মস্ত বড় তালা!
বন্ধ এখন আপাতত
পাওনাদারের জ্বালা।
মুদির দোকান-হাট বাজারের
হাজার জনের হাঁক
যোগ হয়েছে বাড়িওয়ালার
ঘন ঘন ডাক।
হন্যে হয়ে ছুটে বেড়ায়
পায়না কোথা কাজ
জীবন হলো দুর্বিসহ
মাথায় যেন বাজ!
হাঁপিয়ে উঠে ভীষণ রকম
হাতড়ে দিশে খোঁজে
বেকার থাকার যন্ত্রণাতে
কুকড়ে উঠে ওযে।

 

এই সময়ে
দুঃশাসনের চলছে ঘোড়া
এই দেশে
শক্ত হাতে ধরবে লাগাম
কে শেষে?
মৌলবাদের শকুন গুলো
বাড়ছে রোজ
হিংস্র থাবায় বিপ্লবীদের
করছে খোঁজ!
সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে
দেশ জুড়ে
সম্প্রীতি আর শান্তি সবই
খায় কুঁড়ে।
রগ কেটে বেশ শকুন গুলোর
মনখাসা
ধর্মভীরু দেশের মানুষ
কোণঠাসা।
ওঠ জেগে আজ সংগ্রামীরা
হোক লড়াই
মৌলবাদের দূর্গ ভাঙ আর
সব বড়াই।

 

অতৃপ্তি
‘কি যেন কী নেই!’
হন্যে হয়ে খোঁজেন তিনি
পাননা কিছুতেই।
সব আছে তার সারি সারি
অর্থকড়ি প্রাসাদ বাড়ি
নিউ মডেলের হরেক গাড়ি!
মন উঠে তার খুঁত খুঁতিয়ে
তবু, ‘কি যে নেই!’
এদিক খোঁজেন ওদিক খোঁজেন
পাননা কিছুতেই।
যে দিকে যান ফুলের ডালি
উঁচু আসন করতালি
যশ-খ্যাতি তার উপচে’ খালি!
তারপরও ছলকে মনে,
‘কি যেন কী নেই!’
জীবন খাতায় ফাঁকটা কোথায়
পাবনা কিছুতেই।
বিত্তশালীর চিত্ত শেষে
হারিয়ে ফেলে খেই!

 

স্বপ্ন
ঢাক ঢোল পিটিয়ে
হ্যান্ড বিল ছিটিয়ে
অবশেষে সারা দেশে
করা হলো জারি,
‘থাকবেনা কেউ আর
একবেলা অনাহার
ঘর হারা প্রতিজন-ই
পেয়ে যাবে বাড়ি!
সন্ত্রাস থাকবে না
চাঁদাবাজ হাঁকবে না
নিরাপদে সকলের
হবে ঘরে ফেরা
শিক্ষার পরিবেশ
থাকবে তা-ঠিক বেশ
ছেলে মেয়ে বড় হবে
বিদ্যায় সেরা!
কোনো শিশু মরবে না
রোগ তাপ ধরবে না
বড় হবে- ওরা যেন
রাশি রাশি ফুল
এ দেশের সব লোক
প্রাণে প্রাণে এক যোগ
কারো দুখে ভালোবেসে
সকলে আকুল।’
জারি করা হলো বেশ
বিস্ময়ে অমলেশ
ভাবনায় ডুবে যায়
কাটেনা তো ঘোর
স্বপ্নটা ভাঙে যেই
পুনরায় পায়-খেই
রাত কেটে কখোন যে
হয়ে গেছে ভোর!

ইন্তা
নাম তার ইন্তা
বিপদেও হাসিখুশি
নেই তার চিন্তা।
মাঝরাতে নিজ ঘরে
বলবে সে চোর ধরে,
‘আছে যা-নিন তা।’
লোক ধরে প্রতিদিন
ফুসলিয়ে করে ঋণ
নাচে তা ধিনতা।
ধন ও জন নেই কোনো
খোঁজেনা কখনো
জীবনের মীনটা।

 

পাথুরে দত্যি
পাথুরে এক দত্যি
পাণি ছাড়া খায়না কিছু
মিথ্যে নয় একরত্তি!
দত্যি বাবুর গ্রাসে
যায় শুকিয়ে নদ-নদীরা
সবাই কাঁদে ত্রাসে!
ধুকছি তিলে তিলে
ফারাক্কাতে হানবো আঘাত
বারো কোটি মিলে!

লোকটি
লোকটি ভীষণ চালাক চতুর
কাকে কখন করবে ফতুর
নানা রকম ফন্দি আঁটে
দেখবে তাকে পথে-ঘাটে।
মিষ্টি কথায় দেবে ধোঁকা
যে কোন লোক বনবে বোকা
বেশ-ভূষাতে ভদ্র জেনো
মুখোশ পড়া মানুষ চেনো?
এই সমাজের কত আছে
ভুরি ভুরি-দূরে-কাছে
সহজ তাদের নয়কো চেনা
কালো কাজের দক্ষ সেনা!
মিশবে হেসে লোকটি এমন
লুটবে সুযোগ যখন-যেমন
লোকটি অনেক কথা জানে
লোক দেখানো ধর্ম মানে।
সব কাজেরই বেশ সে কাজী
দেখায় ভালো- কিন্তু পাজী!
তাই বলি ভাই-থেকো দূরে
চারপাশেতেই লোকটি ঘুরে!

 

আড়ি
কাতার দুবাই সৌদি আরব
ব্রুনাই জাপান চীন
সবগুলো দেশ ঘুরে নূরুর
বদলে গেছে দিন।
নাকের ডগায় চশমা ঝোলে
গায়ে চাপায় স্যুট
নাগড়া ছেড়ে এখন পরে
দামী-দামী বুট!
নূরু হাঁটে বাতাস মাতে
নানা সুবাস-গন্ধে
যায় করে যায় প্রশংসা তার
ভালো এবং মন্দে।
সবাই বলে, ‘দাও তো কিছু,
আশায় আছি তার-ই
এসব শুনে নেয় নূরু তাই
সবার সাথে আড়ি!

প্রস্তুতির গান
না-ভেবোনা মিছে
একটি মুঠি আলো দামে
প্রাণটি দিতে দেশের নামে
আমরা র’বো ি পছে।

এদেশ প্রতিদিন-ই
আলো বাতাস-সোনা রোদে
জড়িয়ে থাকে প্রেমে-বোধে
বাড়ছে শুধু ঋণ-ই।

তাইতো নয় আর সোজা
অন্ধকারে সুযোগ নেবে
পতাকাতে চাি পয়ে দেবে
চন্দ্রতারার বোঝা!

আমরা আছি তৈরী
শত্রু বুজে অস্ত্র ধরার,
চেতনাতে লড়াই করার
আগুন জ্বলে বৈরী!

তিনি

সভায় তিনি বাংলা ভাষার
কথা ভীষণ ঝাঁকন
বাকি সময় সব ভুলে ঠিক
ইংরেজীটা হাঁকান।
বাঁকা হেসে গোঁফ গুলো বেশ
খাঁ’-দের মতো পাকান
এসব কথা বলতে গেলে রক্তচোখে তাকান।

ঈদ কড়চা
বছর ঘুরে দোর-গোড়ায়
শূন্য পকেট
হাতড়িয়ে তার মন পোড়ায়।
কেনা-কাটার
ফর্দ দেখে ভিড়মি খান
উসকে ওঠে
ছেলেমেয়ের অভিমান।
মাথায় আগুন!
বুক কাঁপে তার টেনশনে
ভাবনা হলো
বেজায় রকম গনগনে।
চোখের কোলে
ঘুম আসে না এক ফোটা!
গিন্নী তাকে
থেমে থেমে দেয় খোঁটা।
যন্ত্রণা তাই
কেবল তাকে যায় পিষে
হঠাৎ তিনি গা ঢাকা দেনÑ নাই দিশে!

দ্বন্দ্ব
এদেশ ঘুরে ওদেশ ঘুরে
ব্যস্ত আমার বাপ
তার মাথাতে থাকে কেবল
কাজের ভীষণ চাপ।
আজ ছুটে যান রোম-টোকিও
কালকে আবার ফিজি
ঘরের কথা ভুলেই থাকেন
ব্যবসা নিয়ে বিজি
মায়ের চোখের কোণে জমে
সেই বিষাদের ছায়া
বাবার শুধু ব্যবসাপাতি,
টাকার প্রতি মায়া।
এতো টাকায় কী আর হবে?
সংসারে নেই ছন্দ
সবার মনে ছড়িয়ে পেখম
দাঁড়িয়ে আছে দ্বন্দ্ব।

ঠিকানা
রূপোর ধারা ছড়িয়ে নদী
চলছে আঁকা বাঁকা
বাঁক পেরিয়ে ছোট্ট যে গ্রাম
সবুজ রঙে আঁকা!
একটু থেমে নাও,
মিষ্টি হেসে ডাকবে কাছে
আমর শ্যামল গাঁও।
ফসলভরা মাঠ চিরে যেই
হাঁটবে মেঠো পথে
আসবে ভেসে বাউল-ভাটি’র
সুর-বাতাসের রথে।
দু’চোখ রাখো খুলে
থোকা থোকা ঘর বাড়ি আর
গাছ-গাছালি-ফুলে
দেখবে ভরা গাঁয়
রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশী
হিজল-তমাল ছায়।
দেখবে আরো-কৃষাণ মাঠে
শ্রমে কুড়ায় সুখ
ঘামে ভেজা শরীর যে তার-
আশায় ভরা বুক।
দামাল ছেলের দস্যিপনায়
বিষম না হয় খেয়ে,
আপন মনে হেঁটে যেয়ো
উঠুক পাখি গেয়ে-
না যদি যাও থেমে
আমার বাড়ির আঙ্গিনাটা
আসবে চোখে নেমে।
সোনা রোদের কাব্য নিয়ে
উঠোন মাতোয়ারা
কুঁড়ে ঘরের শীতল ছায়ায়
লিখতে পারো ছড়া!

খুঁত খুঁতে বর
স্বভাব যে তার কেবল ধরেন খুঁত!
করতে গিয়ে বিয়ে-শেষে
পাননা কোনো জুত।
খুঁজতে গিয়ে কণে
ছুটে বেড়ান এদিক-ওদিক
শহর-গ্রাম ও বনে।
এই চলে যান নেত্রকোনা
আবার ছোটেন ভোলা
বিয়ে করার ইচ্ছাটা তার
দেয় মনে বেশ দোলা।
কিন্তু কণে পান যখনি
খুঁটিয়ে ধরেন খুঁত
কণের গায়ে রূপ আছে তো
‘চোখ ট্যারা এক ভূত!’
যায়না পাওয়া মনের মত
কণে খুঁজে আর
বয়স বেড়ে পড়ে গেল
ছ’খানা দাঁত তার!
আজও তিনি ছুটি বেড়ান
মনটা দিশেহারা
থেমে থেমে বিয়ে করার
ঝোঁকখানা দেয় তাড়া।

আতঙ্ক
রাস্তাগুলো
ভীষণ ঠাসা
মটর গাড়ি-রিকসায়!
পথচারী
দিশেহারা
থেমে থেমে দিক চায়।
গাড়ির বহর
মোড়ে মোড়ে
লেগেই থাকে যানজট
কালো ধোঁয়ায়
বাতাস ভারি
গন্ধটা বেশ উৎকট!
ট্রাফিক পুলিশ
দু’চোখ বুঁজে
উপরি আয়ে ব্যস্ত
প্রাণ হরণের
কাজটা যেন
ট্রাকের উপর ন্যস্ত!
ছুটছে গাড়ি,
রিকশা এবং
ট্রাক গুলো-সব দত্যি!
আইন ও শাসন
ভাঙছে ওরা
কর্তা ঘুমান-সত্যি!
সময় গোনার
নেইতো সাহস
প্রাণ কেবল বাঁচলে হয়!
পথ নেমেই
এই আশাটা
মনে তা আঁতকে রয়!

 

চেষ্টা
চেপে গেছে
ঝোঁক তার
হতে হবে
ক্রিকেটার!
তাই রোজ
মাঠে যায়
ব্যাট ও বল
নিয়ে সে
রোদ্দুরে
ফ্যাকাশে!
ব্যস্ত এ
সাধনায়।
ক্লান্তিতে দমে না
উৎসাহ
কমে না
খেলা নিয়ে
মগ্ন
খেপে উঠে
সংসার
ভ্রুক্ষেপ
নেই তার
কাটে বেশ
লগ্ন!
প্রতিভাটা
চাপা ছাই!
জ্বলবে তা
সহসাই!
দেখা যাক
শেষটা
হতে হবে
ক্রিকেটার
ব্যাট-বলে
চলে তার
অবিরাম
চেষ্টা।

 

হাতছানি
রঙধনুটা আকাশ কোণে,
বৃষ্টি ভেজা দুপুর!
বুকের ভেতর ভাবনা উদাস
বাজছে তারই নুপূর।
এইতো নামে-আবার থামে
ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি
তার সাথে রোদ ঝলসে ওঠে
মুগ্ধ করে দৃষ্টি।

সঙ্গীরা সব নেইতো ঘরে
আজ বেঁধেছে দল
বৃষ্টিভেজা উল্লাসে কী
করছে কোলাহল!
আমি শুধু বন্দী ঘরে
আমার ভীষণ রোগ
পথ্য-ওষুধ-মায়ের শাসন
সব হয়েছে যোগ।

তাই জানালার পাশে বসে
ভাবছি একা খুব
বন্দী থাকার বিষয় ব্যথায়
মন খানা বেশ চুপ।

আশঙ্কা
হবে কী যে শেষটা
মাস্তান-চাঁদাবাজে
ছেয়ে গেছে দেশটা!
ব্যবসার কেন্দ্রে
নিলামে-মাজারে,
হাটে ও বাজারে
হাঁক দেবে চাঁদাবাজ
চাঁদা তোলাটাই তার
হয়ে গেছে বাঁধা কাজ।
করলে ‘টু’ শব্দ!
সন্ত্রাসী তান্ডবে
হতে হবে জব্দ!
অস্ত্রটা উঁচিয়ে
বুলেটের এক ঘায়ে
দেবে সব ঘুচিয়ে
ছোরা দিয়ে প্রাণটা
নেবে ঠিক খুঁচিয়ে!
মিটিং ও মিছিলে
তারা ফের সেতারা
তাদেরকে পুষে যান
আমাদের নেতারা!
দিশেহারা লোকজন
পথ খোঁজে মুক্তির
প্রশাসন চোখ বুঁজে
টোল তোলে-চুক্তির!

 

তিনি
দেখতে তিনি ভীষণ রকম বেঁটে!
খুব প্যাঁচালো বুদ্ধি যত
মাথায় থাকে সেঁটে!
চড়েন না তো রিকশা-গাড়ি
চলেন পায়ে হেঁটে
ফুসলিয়ে চা খাবেন-তা-ও
কাপটি চেটে-চেটে।
সব দলেরই মিছিল করেন
যখন যেমন ‘রেট’-এ!

হরহামেশা থাকেন আড়িে পতে!
সময় কাটান শুধু পরের
নোংরা কথা ঘেঁটে।
পারেন না যে কোনো কথাই
রাখতে চেপে ে পটে
কিন্তু সময়-জ্ঞানটা কড়া
যাননা কোথাও ‘লেট’-এ!

হার
ভূতটা ছিল ন্যাড়া
ইয়া মোটা-নিকষ কালো
চোখ দুটোও ট্যারা!
মূলোর মত দাঁত গুলোতে
রক্ত ছোপে ছোপ
লোমে ভরা গা’টা যেন
বিদঘুটে এক ঝোঁপ!
মাথা যে ওর আকাশ ছোঁয়া
বিশাল দেহ-দত্যি
হঠাৎ সেদিন ওর-ই সাথে
লড়াই হলো সত্যি!
অমাবশ্যার রাতে
ওর সাথে এই প্রথম দেখা
হল শ্মশান ঘাটে!
পথের মাঝে দাঁড়ালো ও
বিকট রকম হেসে
বুকের পাটা উঠলো কেঁপে
দম যেন যায় ফেঁসে!
নাকি স্বরে বললো কিযে
মারল থাবা যেই
বুকের সাহস এক করে সব
ঠিক করে নেই খেই।
ভূতটা বেজায় পাজি!
দিলাম ধমক, ‘লড়বি নাকি?
লড়তে আমি রাজি!’
বাঁধলো লড়াই সে-কি ভীষণ!
রাত্রি হলো পার
লড়াই হলে দত্যি-মানুষ
হার হবেটা কার?
ভূত চোরা পালিয়ে বাঁচে
হলো যখন ভোর
অশুভ সব শক্তি যত-ই
টিকবে কি তার জোর?

 Back