Description:

এক.
আকাশ দরোজা খুলেই হতবাক। বুকের ভেতরে অদ্ভুত এক আলোড়ণ উঠে থেমে গেল। কিছু বুঝে না উঠা দৃষ্টি মেয়েটির মুখে স্থির হয়ে থাকে। পলক পড়ে না। মাথাটা যেন হঠাৎ গুলিয়ে গেল। মুখে ভাষা নেই। পাশের বাড়িতে থাকে মেয়েটি। প্রত্যেকদিন ভোরে তার সুরেলা কণ্ঠ ভেসে আসে। ও কণ্ঠ সাধে, হয়তো উদীয়মান কণ্ঠশিল্পী। বিকেলে মেয়েটিকে ছাদে দেখা যায়। ওর চোখেমুখে এক ধরনের উদাসীনতা ফুটে থাকে। মেয়েটি কারো দিকে ফিরেও তাকায় না বা কাউকে গ্রাহ্য করে না। আকাশকেও গ্রাহ্য করে না। আকাশের মনে হয়, মেয়েটির মধ্যে এক ধরনের অহংকার আছে। আকাশ লক্ষ্য করেছে, মাঝেমাঝে সে আকাশপানে তাকিয়ে থাকে। কি যেন খোঁজে। হয়তো নক্ষত্র। কিংবা আকাশের নীল রঙের ঘনত্ব বোঝার চেষ্টা করে ও। আকাশ ঠিক বুঝতে পারে না। ছাদে পায়চারী করতে করতে কখনো গুণগুণ করে গান গায় ও। মেয়েটির রূপের লাবণ্য ছাদ জুড়ে পেখম ছড়িয়ে থাকে। ওর রূপের কাছে শেষ বিকেলের সোনারোদও ম্লান হয়ে যায়। মেয়েটির দিকে তাকালে স্নিগ্ধ অনুভূতিতে ছেয়ে যায় মন। ভালো লাগে। মনটা কেমন করে উঠে। আকাশ মেয়েটিকে নিয়ে দ্রুত ভেবে নিল। দরোজায় দণ্ডায়মান মেয়েটি আকাশের উদ্দেশ্যে ঝাঁঝালো কণ্ঠে প্রশ্ন করলো,
‘অমন হা করে তাকিয়ে আছেন কেন?’
বোধের পিঠে কেউ যেন সপাং করে চাবুক মারলো। জড়তা কণ্ঠে আকাশ বললো,
‘জ্বি, মানে আপনি…….!’
‘খুব নার্ভাস হয়ে গেছেন মনে হচ্ছে?’
এই মুহূর্তে আকাশের মনে হচ্ছে মেয়েটি শুধু অহংকারী নয়, বেশ খেপাটেও। কাউকে ভড়কে দিতে পারলে ওর যেন খুব আনন্দ। আকাশ নিজের মধ্যে সাহস গুছিয়ে নিতে চেষ্টা করে।
‘আপনি কি আমাকে কিছু বলতে এসেছেন?’
‘তা নয়তো কি, আপনার সাথে খোশগল্প করতে এসেছি?’
রাগের উত্তাপ ঝরে পড়ে মেয়েটির কণ্ঠে। আকাশ মেয়েটিকে বুঝতে চেষ্টা করে। দুর্বোধ্য। ও বলে,
‘আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন?’
মেয়েটি কণ্ঠ আরো এক ধাপ ওপরে চড়িয়ে বলল,
‘রাগবো না কেন?’
‘কিন্তু আমি ঠিক বুঝতে পারছি না…….!’
‘আমার সাথে ন্যাকামী করবেন না!’
এবার আকাশ বিরক্ত হল। ও বলল,
‘আপনি কি বলতে চান?’
‘তার আগে বলুন, আপনার নাম ‘আকাশ’ কিনা?’
জানতে চাইলো মেয়েটি। আকাশ বলল,
‘জ্বি, ওটা ডাক নাম। আসল নাম….।’
‘থামুন! আপনার আসল নাম শুনতে চাই না।’
আকাশের ভেতরে রাগ ফুঁসতে থাকে। ও নিজেকে সংযত করে। বলে,
‘আমার নাম ‘আকাশ’ হওয়াটাই কি অপরাধ?’
‘তা কেন? নামখানা তো বেশ! কিন্তু অভদ্র কাজ করায় দেখছি সিদ্ধহস্ত!’
মেয়েটির মাথায় গোল নেই তো! সরাৎ করে শংকা মনে উঁকি দিয়ে উঠে। আকাশ ঘাবড়ে যায়। এমন সুন্দরী একটি মেয়েকে ‘পাগল’ ভাবতেও খারাপ লাগে। মেয়েটি কণ্ঠে বিদ্রুপ মিশিয়ে বললো,
‘মনে হচ্ছে খেই হারিয়ে ফেলছেন? ভেবেছিলেন আপনার প্রেমপত্র পাবার পর আমি হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দেবো? আপনার চরণতলে এসে লুটিয়ে পড়বো?’
মেয়েটি যে পাগল, এ ব্যাপারে ও নিশ্চিত হলো। ওর আবোলতাবোল কথার কিছুই বুঝতে পারছেনা আকাশ। পাগলকে কীভাবে সামাল দিতে হবে তা নিয়ে ভাবতে লাগলো। মেয়েটি বলল,
‘মুখটাকে পাংশুবর্ণ করে রাখলে চলবে না। আমার প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’
‘জ্বি, বলুন!’
ভীত গলায় বললো আকাশ।
‘আমাকে প্রেম নিবেদন করে পত্র লিখেছেন কেন? আর লেখার যা শ্রী! অসংখ্য বানান ভুল! ক’ ক্লাশ পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন?’
এ ধরনের অসংলগ্ন কথাবার্তার আকাশ বিব্রত ও অসহায়বোধ করতে লাগলো। মেয়েটির রক্ত চোখের দিকে চোখ রেখে ওর শেষ প্রশ্নের উত্তর দিল,
‘ইকোনোমিক্স-এ অনার্সসহ মাস্টার্স।’
ওর অজান্তেই জবাবটা শ্লেষ মিশ্রিত হল। মেয়েটি একটু হচকিয়ে গেল। ওর দিকে অন্যভাবে তাকালো। যেন উত্তরটার সত্যতা অনুধাবন করছে। মেয়েটির কণ্ঠ নরোম হলো। ও বলল,
‘এ ধরনের অসভ্যতা করলেন কেন?’
‘বিশ্বাস করুন, আমি আপনাকে পত্রটত্র লিখিনি!’
‘দেখুন মিথ্যা বলে আর অপরাধ বাড়াবেন না। আপনি আমাদের বাড়ির কাজের মেয়েকে দিয়ে আমাকে পত্র পাঠিয়েছেন। আমি সেটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। এই দেখুন।’
বলেই মেয়েটি বাম হাতে দলাকরা রাখা একটি পত্র আকাশের চোখের সামনে তুলে ধরলো। আকাশ ওটার দিকে তাকালো না। অহেতুক একটা ঝামেলার পড়ে গেছে বলে খারাপ লাগছে ওর। মেয়েটির পাগলামী খুবই বিরক্তিকর। ঠিক এই সময়ে সিঁড়ি ভেঙে নেমে এলেন আসমত আলী চৌধুরী। তিনি আকাশের বাড়িওয়ালা। তাকে দেখে আকাশ আশ্বস্ত হলো। এবার যদি পাগল তাড়ানো যায়! আসমত আলী চৌধুরী মেয়েটির হাত থেকে পত্রটি ছুঁ মেরে নিয়ে নিলেন। মেয়েটি অপ্রস্তুত হলো। আসমত আলী চৌধুরী পত্রটি পকেটে পুড়ে রাখলেন। মেয়েটিকে সস্নেহে বললেন,
‘তুমি বাড়ি যাও মা। আমি এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
আসমত আলী চৌধুরীর কথায় মেয়েটি শান্তভাবে ফিরে গেল। আকাশের বুক থেকে পাথর নামলো যেন। ও আসমত আলী চৌধুরীর দিকে কৃতজ্ঞ চোখে তাকালো। কিন্তু তার মুখের দিকে চোখ রাখতেই বুকটা জমে যেতে লাগলো। তার মুখ থমথমে। দৃষ্টি কঠিন। তিনি ভারীকণ্ঠে বললেন,
‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন। আমি আগেই ভয়ে ছিলাম যে, ব্যাচেলার ভাড়াটে ঝামেলা বাধাতে পারে। যা আশংকা করেছিলাম, তাই হলো।’
আসমত আলী চৌধুরীর কথায় আকাশের দম বন্ধ হয়ে এলো যেন। ও ভাষামূক হয়ে গেল। কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে। ওর মাথা ভার হয়ে এলো। আসমত আলী চৌধুরী এ মুহূর্তে যেন এক খন্ড আগুন।
‘আবারও বলছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাড়িটি খালি করে দেবেন। তারপর যত ইচ্ছে পত্র লিখুন আমার কিছু বলার থাকবে না।’
বলেই বাড়িওয়ালা সদর গেট দিয়ে বের হয়ে গেলেন। আকাশ স্তব্ধ। বিমূঢ়। ওর সব কিছু এলোমেলো। এতটা অসহায় ও কখনো বোধ করেনি। ও কিছুই মেলাতে পারছে না। মনটা ভীষণ রকম খারাপ হয়ে গেল। হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাত। বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে বলে দু’চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলো। সকালটা ওর শুরু হলো বিশ্রীভাবে।

দুই.
আকাশ এই বাড়িতে উঠেছে প্রায় দু’মাস। ব্যাচেলার বলে বাড়িওয়ালা ভাড়া দিতে চাননি। ঢাকা শহরে ব্যাচেলারদের নিয়ে বাড়িওয়ালাদের নানারকম সন্দেহ! ব্যাচেলারদের বাড়ি পাওয়া সোনার হরিণ পাওয়ার মত। আকাশের এ ব্যাপারে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাড়িটি ছেড়ে দিতে হবে বলে ওর ভেতরটা শূন্য মরুভুমি হয়ে গেল। আসমত আলী চৌধুরী শক্ত ধরনের মানুষ। কথা থেকে সরবেন বলে মনে হয় না। তার ভুল ধারণাকে ভাঙানোর পক্ষে আকাশের হাতে কোন প্রমাণও নেই। মেয়েটি হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার মত ওকে তছনছ করে দিয়ে গেল। মনটাই তেতে গেছে। আকাশ পুরোদিন বাসা খুঁজলো। বাসা পাওয়া গেল না। ব্যাচেলারদের কেউ বাসা দিতে চায় না। বিপদটা সেখানেই। সকালের অপ্রত্যাশিত ঘটনা দুঃস্বপ্নের মত ওর চোখের পর্দায় বেসে উঠতে লাগলো। বাসার জন্যে ওর মনে দুঃশ্চিন্তার কালো মেঘ। বাসা না পেলে পথে নামতে হবে। নয়তো কারো ঘাড়ে চাপতে হবে। ও কারো সঙ্গে একরুমে থাকতে পারে না। মেসলাইভ ওর ভালো লাগে না। বাসা না পেলে সমস্যা হবে রঞ্জণকে নিয়ে। রঞ্জণ ওর বাল্যবন্ধু। পাঁচদিন আগে রঞ্জণ উঠেছে ওর বাসায়। ঢাকায় ওর থাকার কোন জায়গা নেই। ওর নতুন চাকুরি। রঞ্জণও বাসা খুঁজছে। বাসা পেলে চলে যাবে। এখন আকাশকেই বাসা ছাড়তে হবে। নিজের জায়গা ঠিক করলেই হবে না, রঞ্জণের জন্য একটা ব্যবস্থা করতে হবে। এখন কি করবে আকাশ? আজকের অঘটনের জন্যে আকাশ প্রস্তুত ছিল না। অঘটন যখন ঘটে রঞ্জণ ঘরেই ছিল। ও সব শুনতে পেয়েছে। এমন কি বাড়িওয়ালার ঘোষণাও। ওকে কিছু বলতে হয়নি। ওর মুখও বিষণ্ন ছিল। আকাশ নিজের সমস্যার চেয়ে রঞ্জণের কথাটাই বেশি ভেবেছে দিনভর। রঞ্জণ উঠবে কোথায়? তবে রঞ্জণ বাড়ি থেকে বের হবার সময় ওকে বলেছে,
‘আকাশ, আমার জন্য চিন্তা করিস না। আমি একটা ব্যবস্থা করে নেবো এবং আজই চলে যাবো।’
আকাশ কিছু বলেনি। ও চুপচাপ বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছিল। সারাদিন হন্যে হয়ে বাসা খুঁজেছে। ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরলো ও। অবসাদ আর বিষণ্নতায় আকাশ যখন বাড়ি ফিরলো তখন বিকেল শেষ হবার পথে। সন্ধ্যার আয়োজন চলছে। বাড়ির গেট ঘেঁষে রিকসা থামলো। ও ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে বাসার গেটের দিকে যেতেই মেয়েটিকে দেখতে পেল। ওর বুকের ভেতরটা ঝলসে গেল যেন। মেয়েটি ওর মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো। নরোম গলায় বলল,
‘এতোক্ষণ আপনার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম।’
‘আমার আর কতটুকু ক্ষতি চান, আপনি?’
‘আমার ভুল হয়ে গেছে, আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি।’
বলল মেয়েটি। আকাশ অবাক হয়। মেয়েটি এখন অন্যরকম। ও বলে,
‘কিন্তু……!’
‘দেখুন, সকালোর ঘটনায় আমারও দোষ ছিল না।’
‘তবে আবার ক্ষমা চাইতে এসেছেন কেন?’
‘কারণ, ভুল বুঝে আপনাকে আক্রমণ করেছি বলে।’
‘আমি এখনো ঠিক বুঝতে পারছি না।’
‘আপনার বন্ধু যদি আমাকে কিছু না বলতো, তবে আমারও ভুলটা থেকে যেত।’
‘রঞ্জণকে আপনি চেনেন!’
‘আজই চিনলাম। শুনুন, আপনার নাম ব্যবহার করে রঞ্জণই আমাকে পত্রটা লিখেছিলো। তার ভাষায়, ‘এটা ছিল নিছক খেলা।’ কিন্তু সে বুঝতে পারেনি ঘটনা এভাবে মোড় নেবে। সে আজ আমার সাথে দেখা করেছে। পত্র লেখার জন্য সে অনুতপ্ত ও লজ্জিত।’
বলল মেয়েটি। আকাশ যেন হতভম্ব। ও কি শুনছে! ঘটনার অন্তরালে এই ছিল? আকাশ বলল,
‘আশ্চার্য!’
‘তার ওপর রাগ করবেন না। তিনি আপনাকে খুব ভালোবাসেন। সে আজ চলে গেছে।’
আকাশ কিছুই ভাবতে পারে না। গল্প-গল্প মনে হচ্ছে ওর। মেয়েটি লজ্জাবনত হয়ে ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। যেন মস্তবড় অপরাধী। মেয়েটির এই উপস্থিতি আকাশের ভালো লাগলো। ও বলল,
‘যা হবার হয়েছে। এরজন্যে আপনার প্রতি রাগ করিনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো ওপর রাগ করতে পারি না। তাছাড়া আপনার তো কোন দোষ দেখছি না।’
আকাশের কথায় মেয়েটি চোখ তুললো। মেঘ জমেছে ওর চোখের কোণে। আকাশ ওর চোখের দিকে চেয়ে থাকতে পারলো না। ভেতরে এক ধরনের আলোড়ণ টের পাচ্ছে। ও নিজেকে ধরে রাখে। মেয়েটি বলে,
‘আচ্ছা, আমি আসি।
বলেই মেয়েটি দ্রুত হেঁটে চলে গেল। আকাশও আর দাঁড়ালো না। বাড়ির গেট খুলে ও ভেতরে চলে গেল। পেছনে ফিরে তাকালো না ও। তবে খুব ইচ্ছে করছিলো মেয়েটির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে। কিন্তু মেয়েটির অহংকার আরো বেড়ে যাবে বলে ও তাকায়নি। বাসার তালা খুলে ও রঞ্জণকে ঠিকই দেখতে পেলনা। ওর জামা-কাপড়ও নেই। টেবিলের ওপর তালার অপর একটি চাবি রেখে গেছে। ও আপন মনে হেসে উঠলো! রঞ্জণকে উদ্দেশ্য করে বললো,
‘তোর জন্যে বাসাটা ছাড়তে হবে বলে দুঃখ নেই। মেয়েটির অহংকার ভেঙেছে তো!’
কিছুক্ষণ পরই বাসার দরোজার কড়া নাড়ার শব্দ হলো মৃদুভাবে। দরোজা খুললো ও। একজন মাঝবয়সী মহিলা দাঁড়ানো। খানিকটা অপ্রস্তুত। কিছু বলার আগেই মহিলা একটা খাম বাড়িয়ে দিল। নীল খাম। বলল,
‘এটা আপা দিচ্ছে, রাখেন।’
খামটা নিল আকাশ। মহিলা চলে গেল। খাম খুললো ও। ছোট্ট একটা চিরকুট। বুকটা কাঁপছে ওর। চিঠিতে লেখা,

‘আকাশ,
আপনি বাসা ছেড়ে চলে যাবেন না। প্লিজ।
তাহলে আমি কষ্ট পাবো। ভীষণ কষ্ট……..
ইতি
নীলা

আকাশ বুঝতে পারলো মেয়েটির নাম নীলা। আরো বুঝতে পারলো নীলা আজ তার সব অহংকার বিসর্জন দিয়েছে। ও পত্রটি নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। ওর ছাব্বিশ বসন্তের জীবন অদ্ভুত আবিষ্টতায় ডুবে যাচ্ছে। ও নীলাকে দেখতে পেল ওদের বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেন ওর অপেক্ষা করছে। আশ্চর্য! সন্ধ্যা নেমেছে। হেমন্তের আকাশে তারার হাট জমতে শুরু করেছে। ফিকে আলোয় নীলাকে কেমন মূর্তির মত লাগছে। অপূর্ব! ওর মুখে হাসির বিদ্যুত চমকালো। নীলা হাতে তুলে নাড়লো। আকাশও হাত তুলে প্রতুত্তর জানালো। অনেকটা সম্মোহিতের মতো। আকাশের হাতের মুঠোয় নীলার দু’ লাইনের পত্রটি নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করছে।

 Back