ঠাট্টা

ঠাট্টা

 Author: দপর্ণ কবীর  Category: ছড়া More Details
 Description:

ঠাট্টা

শহর থেকে গ্রামে
দৈত্যরা সব ঘুরে বেড়ায়
হেঁটে, কারে, ট্রামে।
ওদের আবার আইডি আছে
ক্যাডার একেক দলের
নিচ্ছে চাঁদা বেপরোয়া
বাতাস থেকে জলের।

দৈত্য ভীষণ পায় যে কদর
হাকিম কিবা পুলিশে
বললে কথা যে কোন লোক
আছড়ে করে ধূলি সে।

দেশটা জুড়ে চলছে কেন
দৈত্য দানোর গাট্টা?
শাসক বলেন, ‘ঠিক আছে সব,
ওসব নিছক ঠাট্টা!’

খ্যাতির বিড়ম্বনা

ব্যস্ত তিনি বিজে
দেশ-বিদেশে সুনাম-কদর কী যে!

দেখলে তাকে ভিড় জমে যায়
হরেক রকম ফ্যান
বিরুক্তি নেই, হাসেন শুধু
অটোগ্রাফও দেন।

যান না ভুলেও কাঁচাবাজার
শপিংয়ে বা বেড়াতে
পুলিশও হয় গলদগর্ম
আমজনতা ফেরাতে।

খ্যাতির আছে বিড়ম্বনা
হারান কভু খেই
হাতরে দেখেন সব আছে তার
নিজের জীবন নেই।

দেশ কার
আমরা কেন চলছি পিছে
মঞ্চে কারা বলছে মিছে?
খোঁজেন এরই জবাব রোজ
পাবেন যাকে, বলেন তাকে
দোহাই তোদের বিবেক খোঁজ।

দেশকে নিয়ে কান্না করার
দেখেন তিনি অনেক লোক
আজব আবার সেই লোকেরা
দেশকে শোষেণ, হিংস্র জোঁক!

ভাবেন তিনি দেশ কার?
খাবলে ছিঁড়ে খাচ্ছে সবাই
পুলিশ থেকে পেশকার!

ফেরিওয়ালা
স্বপ্ন আছে, কথার মালা
সুশাসনের জাদু
মহাসুখে থাকতে পারো
শিশু-নারী-দাদু..।
মালা আছে, জ্বালা আছে
খুনের পরও শেল্টার
মতের অমিল হলে জেনো
সঙ্গী হবে জেলটার।
হাত বাড়ালে পেতে পারো
অস্ত্র, পদক, মন্ত্র
কণ্ঠরোধের ধমক আছে
এবং গণতন্ত্র।

সবই আছে ঝোলায়
দেশটা জুড়ে করেন ফেরি
নেতা ও তার পোলায়।

৫ হাজী ফ্যাশন
নামের আগে লেখেন তিনি
সমাজসেবক, হাজী
কিন্তু লোকে বলে তাকে
ভন্ড এবং পাঁজি।

থাকেন কপট মুডে
অর্থ খাটান সুদে
চোরাই কোন দ্রব্য পেলে
কিনতে সদায় রাজী।

কেবল হজে যাবেন
শানে নযুল, নির্বাচনে
ভোট যে তিনি চাবেন।

ছাত্র নেতা
তিনি ছাত্র এবং নেতা
কলম আছে, অস্ত্র-গুলি
দেবেন ভাষণ, চটক বুলি
তাকে ছাড়া হল দখলে
যায়না নাকি জেতা।

নিলাম এবং চাঁদায়
পলিটিক্সের ধাঁধাঁয়
তার যে পাকা হস্ত
ভবিষ্যতে হবেন নাকি
দেশের নেতা মস্ত!

নেতার সে-কী বড়াই!
আমরা যত আমজনতা
তাকে ভীষণ ডরাই।

আজব নেতা

নেতা আজব বটে
হালুয়া ও রুটির লোভে
সদায় থাকেন চটে।

নিজের দলের নিজেই নেতা
কর্মী কোন নেই
দাবা খেলার হন যে গুটি
নাচেন তা-ধিন ধেই।
সুযোগ বুঝে বিবৃতি দেন
হাওয়া বুঝে পাল
মোর্চা কিবা জোটের ফাঁদে
হাতিয়ে নেবেন ‘মাল’।

থাকেন যেন গর্তে
সময় কী নেই জনগণের
ওদের বিচার করতে?

তিনি
যখন দেখেন সেলিব্রেটি
তোলেন সাথে ছবি
এটা লিখেন, ওটা লিখেন
দাবি করেন কবি।
পত্রিকাতে ছুটেন তিনি নিত্য
নিজকে প্রচার করতে ব্যাকুল
আজব যে তার চিত্ত।

মঞ্চে সুযোগ পেলে
কথা শুধু বলেই যাবেন
বিষয় এলেবেলে।

এখন তারই জ্বালায়
সুধী-শ্রোতা, সাংবাদিকও
দিগি¦দিক সব পালায়।

চামাচা

দেখরে তোরা দেখ্
চামচা নম্বর এক।

মালিক দিলে গাট্টা
হেসে বলে,‘ঠিক আছে স্যার,
বেশতো মজার ঠাট্টা!’
বললে মালিক, ‘রাত নেই’।
বলে সে-ও, ‘শুধু কী তাই?
রাতেরও যে জাত নেই’।

বলে যদি, ‘সূর্যটা আজ
অস্ত গেছে পূবে’।
চামচা বলে, ‘এখন থেকে
সূর্য পূবেই শোবে’।
‘মূর্খে ভরা দেশটা!’
‘তা-ও জ্ঞানী আছে বটে
আপনি যে শেষটা !’

নাচলে মালিক ধিন তা
বানর নাচে চামচা লাফায়
ভেবে দেখো সীনটা।

বিবেকবন্দি

আমার পাড়ার হুজুর
দেখান যে ভয় জুজুর!
ধর্ম নিয়ে মাতম করেন
বল্লে কথা কল্লা ধরেন
রগ কেটে দেন ‘টুকুস’!
হিংস্র হলে বুলান দাড়ি
লাশ পড়ে যায় সারি সারি
মুখ যেন নয়, মুখোশ।

তিনি নাকি মোল্লা
মানবতা খান চিবিয়ে
যেন রসগোল্লা!

ফতোয়া দেন সব কিছুতে
পথ চলা কী আজ পিছুতে?
এসো করি সন্ধি
মিথ্যা, আঁধার আর সবো না
মানবতায় আর রবো না
আমরা বিবেকবন্দি।

নেতা

হাতেম আলীর ব্যাটা
এখন তিনি মস্ত বড় নেতা!
ডাইনে বাঁয়ে সামনে পিছে
শ‘ শ‘ লোকের বহর মিছে
হাঁটেন তিনি দম্ভে
ভাবেন নাকি ‘দেশ ও দশের
দুঃখ কবে কমবে’।

প্রতিদিন-ই সভা, ভাষণ
ফুলের মালা, উঁচু আসন
কেবল খ্যাতি যশ
গুন্ডা কিবা বুদ্ধিজীবী
করতে পারেন বশ।

একটু কিছু হলেই পরে
ফাটান গলা বাইরে-ঘরে
বিবৃতি দেন সে-কী!
নিজের ঢোল পিটিয়ে মাতান
বাতিক শুধু অর্থ হাতান
মঞ্চে কাঁদেন মেকী।

এমন নেতার জ্বালায়
দেশের মানুষ কোণঠাসা আজ
দিগি¦দিক কেউ পালায়!

বেতার টিভি

বেতার এবং টিভি
ক্ষমতাসীন দলের
রক্ষিতা বা বিবি?

ওদের কেবল খবর
মন্ত্রীরা সব কাজ করেছেন জবর।
খবর শুনে লাশও রাগে
ভাঙ্গতে সে চায় কবর!

ফিতা কাটার গ্যানর গ্যাং
স্তবকের লাফায় ব্যাংক
কারো তো নেই আস্থা
দিনে দিনে বাড়ছে যে ক্ষোভ
পাবেন শাসক রাস্তা?

ঘুষ

এ দেশের প্রশাসন
বিদঘুটে যন্ত্র
উৎকোচে চলে, যেন
নিয়ামক মন্ত্র।

ঘুষ ছাড়া কিছুতেই
কোন ফাইল নড়ে না
‘যত পাই তত খাই’
কারো মন ভরে না।
চাপরাসী-কেরানী
কিবা বড় কর্তা
জনতাকে করে রোজ
নিদারুন ভর্তা।

নেতা বা মন্ত্রী
নেই তারা পিছিয়ে
গোগ্রাসে খায় ঘুষ
ওঠে ফের খিঁচিয়ে।

ঘুষ খাওয়া, ঘুষ দেওয়া
দেশ জুড়ে চলছে
চেপে রাখা দাবানলে
বিবেকটা জ্বলছে।

তিনি

পান থেকে চুন খসলে পরে
তিড়িং বিড়িং লাফান
এটা ভাঙ্গেন, ওটা ভাঙ্গেন
হাতের কাছে যা পান।

ঘরে বসে কন না কথা
‘কিসের সমঝোতা?’
হরেক দাবি দফায় অনড়
থাকতে হবে শ্রোতা।
লোকের ভিড়ে খিস্তি করে
গলা তিনি ফাটান
‘এই হবে না, বন্ধ করো
তুমি খারাপ সটকে পড়ো’
গণতন্ত্র শেখান।

তাকে নিয়ে বদ্যি-ওঝা
হলো গলদগর্ম
অসুখটা কি? জানা গেল
রাজনীতি তার কর্ম।

প্রশ্ন

দু’ খুকুতে ভীষণ চুলোচুলি
লড়াই দেখে ছুটছে সবাই
উড়ছে পথের ধূলি।

ঘরের কাঁচে ছুড়ছে যে ঢিল
ভাঙছে চেয়ার, ফ্রিজ, টেবিল
টিভি, সোফা, হচ্ছে সবই ভাঙ্গা
ঘরের মায়ায় ওদের দু’ চোখ রাঙা!

ঘরটা নিয়েই ঝগড়া ওদের
দরদ শুধু উপচে
কাদা ছোড়া, ভাঙ্গন দেখে
আমরা গেছি চুপসে।

অনেকগুলো দিন ফুরালো
চলছে গালি, বুলি
আমরা জেগেও ঘুমিয়ে আছি
সবার মুখে ঠুলি!

তিনি

তিনি নাকি অনেক জ্ঞানী-গুণী
এদিক ওদিক চর্তুদিকে
তারই কথা শুনি।

থাকেন তিনি পরিপাটি
সঙ্গে থাকে তেলের বাটি
তোষামোদে সেরা
ভান-ভনিতায় নিজকে রাখেন
রহস্যতে ঘেরা।

চরিত্রটা ফানি
পরের ধনে পোদ্দারিও
করেন তিনি, জানি।

পদক

পদক নেবে, মেডেল?
জোরসে চালাও প্যাডেল।

হরেক পদক দিতে পারি
মেডেল, সনদ সারি সারি
কে নেবে তা, আসো
আমার কথায় কাঁদো যাদি
আমার কথায় হাসো।

গুণে কিবা জ্ঞানে
সঠিক অভিধানে
নাইবা হলে ফিট
তবু তোমায় দেবো পদক
প্রফিট হলে নীট।

তারা

তারা
নেতা হবার জন্য সদায়
ভীষণ দিশেহারা।

বিবৃতি দেন, সভা করেন
কথায় কথায় দলও গড়েন
ছোড়েন আবার কাদা।
মেকী হাসি, তোষামোদের
কাজটি তাদের বাধা।

খামচে ধরেন আসন
যোগ্যতা নেই তবু তারা
দেবেন নেতার ভাষণ।

শখ যে তাদের বিরোধ করা
স্বার্থ বুঝে লাগাম ধরা
রাখুন তাদের চিনে
জবাব তাদের দিতে হবে
সঠিক কোন দিনে।

পাত্র
(যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক পাত্রদের উদ্দেশে)

এদিক ওদিক চর্তুদিকে
ছুটে বেড়ান হন্যে
ব্যাকুল প্রাণে আর্তি করেন
একটি কনের জন্যে।

এই চলে যান এলএ-ডিসি
মায়ামী বা ডালাসে
কালো-ধলা কনে পেলে
দেবে গলায় মালা সে।

কনে আছে, ডিমান্ড বেশি
ভাব যে দেখান ‘স্বর্ণকেশি’
পাত্র বসে কাঁদে
কাগজবিহীন পাত্র যত
আটকে আছেন ফাঁদে।

গো বেচারা স্বামী

রাগলে তিনি কাঁপে শহর
তার পিছুতে লোকের বহর
সবাই সালাম ঠুকে
তার কথাকে ‘বাণী’ ভেবে
কেউবা রাখেন টুকে।

তার যে অনেক যশ
গুন্ডা-নেতা, আমলা-পুলিশ
করতে পারেন বশ।

কিন্তু তিনি যেই
বউয়ের মুখোমুখি হবেন
হারিয়ে ফেলেন খেই।

বাইরে তিনি নামী
ঘরে শুধু কুকড়ে থাকেন
গো বেচারা স্বামী।

ঘুষখোর

মুখখানা তার সদায় থাকে হা
গো-গেরাসে খেয়ে ফেলেন
দেবেন তুলে যা।

অর্থকড়ি, নতুন গাড়ি
সময় বুঝে ‘বিশেষ নারী’
মদের বোতল, গয়নাগাটি
জমি-জমা, ঘটিবাটি।

এয়ার টিকেট, জামা-কাপড়
ফল-ফলাদি, শুঁটকি-পাপড়
হামলে খাবেন, বাহ্!
যতই দেবেন অরুচি নেই
বলেন না তো ‘না’।

তিনি কারো ধার ধারে না
না খেলে সে ফাইল ছাড়ে না
প্রকাশ্যে দর হাঁকে
প্রশাসনের সকল শাখায়
দেখতে পাবেন তাকে।

জ্ঞানী

ঘরখানা তার বইয়ে ঠাসা
জানেন নাকি অনেক ভাষা
সর্বক্ষণই পড়েন
সব বিষয়ে সবার তিনি
কেবলই ভুল ধরেন।

আমরা তাকে জানি
ভীষণ রকম জ্ঞানী।

ভাবখানা তার সহজ-সরল
খটকা আছে এবং গরল
বউকে তিনি পেটান
কে জানে রোজ, বউ পিটিয়ে
কিসের খায়েস মেটান।

মজুতদার

শুনতে পেলাম তিনি
মজুদ করেন হলুদ মরিচ
আটা বা চাল, লবণ, তেল ও চিনি।

পারেন ভালো মিশেল দিতে
দুধ, মধু কিবা ঘি-তে।
মাছের পেটে পাথর রেখে
বিদেশ পাঠান দরটি হেঁকে।

পরিমাপে দেবেন ফাঁকি
অনেক ঘাটে মাখামাখি
শুল্ক কিবা থানায়
গোপন সমঝোতার কাজে
তাকে ভীষণ মানায়।

ক্রেতা পেলে বিগলিত
গুন্ডা দেখে থাকেন ভীত
নেতাকে দেন চাঁদা
কালো টাকার পাহাড় গড়ার
কাজটি যে তার বাধা।

তিনি

তিনি নাকি গুণী
তাকে নিয়ে হরেক রকম
গল্পকথা শুনি।

এটা পারেন, ওটা পারেন
কুস্তি করে সিংহ মারেন
ট্রাক উড়িয়ে দেবেন ফুঁ-তে
পারেন তিনি আকাশ ছুঁতে!
ভাবছো এসব মিছে?
নিন্দুকেরা তাকে নিয়ে
মন্দ বলে পিছে।

তার কথাতে থাকে সে-কী চমক
মন্ত্রীদেরও পারেন দিতে ধমক!

কী জানি কী পারেন
নিজের ঢোল পেটান শুধু
সদায় তবু হারেন।

আঁকিয়ে

দেখান তিনি আজব রকম খেলা
ইচ্ছে হলে আটকে রাখেন
সূর্যডোবা বেলা।

গাঁয়ের পথে নারীর পায়ে
পড়িয়ে দেবেন মল
যখন তখন মেশান তিনি
তেলের সাথে জল।

স্বার্থ ছাড়াই করতে পারেন
স্বচ্ছ জলও ঘোলা
উসখো চুল, উদাস মুখ
কাঁধে থাকে ঝোলা।

সময় মত রঙের বোতল
নেবেন শুধু ঝাঁকিয়ে
জানা গেল, তিনি নাকি
খ্যাতিমান এক আঁকিয়ে।

হুল

সব কিছুতে, সব বিষয়ে
তিনি কেবল চুলকান
গলায় পড়েন জরির মালা
যখন তখন গুল খান।

কেউবা কোথাও করলে বিবাদ
দেবেন আরো উস্কে
ভাবখানা তার দেন উপদেশ
নেতা, রাজা, বুশকে।

বললে কথা তিনি ফুঁসেন
ডাইনে বাঁয়ে গুন্ডা পোষেণ
সময় কাটান চুলকে
সমাজটাকে পিছিয়ে দিতে
বিষমাখা এক হুল সে।

মক্ষীরাণী

ফাইল ছোটে না
কাজ জোটে না
আটকে আছে বিল?
কর্তাকে বশ করতে ছুড়ুুন
মক্ষীরাণীর ঢিল।

পাবেন তড়িৎ ফল
মক্ষীরাণী বসকে ঠিকই
বানিয়ে দেবেন জল।
প্রশাসনের শাখায় রোজই
মক্ষীরা সব ঘুরে
মক্ষী নিয়ে কর্তা উধাও
ছোট বড় ট্যুরে।

চাঁদা

তিনি অনেক ব্যস্ত
হরেক রকম দায়িত্বভার
তারই ওপর ন্যস্ত।

আজকে সভা, কালকে গান
বছর জুড়ে অনুষ্ঠান।
লোকগীতি, মডার্ণ পপ
মিলাদ, নাটক, মিছিল, শব..
সব কিছুতে থাকেন
চাঁদার রশিদ নিয়ে তিনি
জোরসে কদম হাঁকেন।

একে ধরেন, ওকে ধরেন
অযোগ্যকে গেষ্ট করেন
মেলে যদি চাঁদা
সঙ্গোপনে রেখে দেবেন
সব আয়েরই আধা।

নেতার বাতিক

নেতার বাতিক
এদেশ ওদেশ যাওয়া
যাওয়ার সময় ভক্তকূলের
অর্থ প্রাসাদ খাওয়া।

নামেন যখন জেএফকে বা হিথ্রোতে
দেখেন তিনি লাউঞ্জ ভরা মিত্রতে।
ফুলের মালা, ছবি তোলার হিরিকে
খোঁজেন নেতা, রাখবে তাকে ‘ফিরি’ কে?

মিত্ররা সব হামলে পড়ে লাগেজে
লাগেজ নিয়ে টানাটানি, কে নেবে তা আগে যে!

ভাবেন নেতা ‘একেই বলে ভক্ত!’
ভন্ড এসব নেতারই
নিচ্ছে শুষে রক্ত।

গ্রীনকার্ডের পাত্রী

ঢাকায়
সবুজ কার্ডের পাত্রী যে এক
ভীষণ ডিমান্ড হাঁকায়।

করতে তাকে বিয়ে
পাত্ররা সব হামলে পড়ে
ডিগ্রী, সনদ নিয়ে।

পাত্রীও নেন ভাইবা
ঘরের কাজের প্রশ্ন হরেক
জানলে ওসব নাইবা।

তবু লড়াই পাত্রে
মজা বুঝে পাত্রীও তাই
পাত্র কেবল হাতরে।

পুলিশ

পুলিশ
অর্থ ছাড়া পা চলে না
যতই কাঁদো মন গলে না
চোর-ডাকাতে সখ্য আছে
নয়তো তারা ফুলিশ।

হামলে খেতে নেইকো জুড়ি
আকাশ মুখে বাড়ছে ভুঁড়ি
কেউবা বলে, ‘ঠোলা’
স্বার্থ বুঝে পুলিশ করে
স্বচ্ছ জলও ঘোলা!

পুলিশ ওরে পুলিশ
জনগণের বন্ধু হবার
কথা কেন ভুলিস?
অত্যাচারী না হয়ে তুই
বিবেকটারে খুলিস।

সাজা

থলে হাতে হাটবাজারে
হাঁকে রোজই দরসে
দামের আগুন ছোবল মারে
চোখে দেখে সর্ষে।

বেগুন-পেঁয়াজ, টেংরা-পুঁটি
ইলিশ, চিনি, মটরশুটি
সব্জি নানা পন্য
হাতরে পকেট হয়না বাজেট
চড়া দামের জন্য।

এখন যে হাল, দাম শুনে সে
সংজ্ঞা হারায় বাজারে
ফিরলে ঘরে গিন্নী বকেন
হায়রে কেমন সাজারে!

ঋণ খেলাপী

ছিলেন তিনি বেকার এবং হতাশ
ছিল অনেক দেনা
এখন আমূল বদলে গেছেন
যায় না তাকে চেনা।

বিদেশ থেকে পোষাক আনেন
নিউ মডেলের গাড়ি
চামচা হরেক, প্রভাব সে-কী
বারিধারায় বাড়ি!

হঠাৎ করে কীভাবে যে
পাল্টে নিলেন দিন
জানা গেল, হাতিয়েছেন
ব্যাংক থেকে বেশ ঋণ।

মুখোশ পড়া নেতা

সদায় তিনি হাসেন
কাছে দূরের সবার দুঃখে
চোখের জলে ভাসেন।

সমাজটাকে বদলে দিতে
করেন সে-কী চেষ্টা
‘রসাতলে যাচ্ছে কেবল
সবুজ সোনার দেশটা!’

উন্নয়নের দাবি-দফায়
মঞ্চে গলা ফাটে
মুখোশ পড়া এই নেতা ফের
বিক্রি হবেন রাতে।

টিভির কর্তা

দেখলে তিনি নারী
নিজের ভেতর শিউরে ওঠেন
রোগটা আজব তারই।

কেউবা বলেন, ‘লম্পট’
সুন্দরী কেউ রাজী হলে
দেবেন হঠাৎ চম্পট।

তিনি কেবল ফুসলান
নিলাজভাবে ঘুষখান।

বল্লে ওসব হল্লা করেন
উঁচিয়ে রাখেন ধরটা
তিনি টিভির কর্তা!

তাল পাতার সেপাই

গা গতরে লিকলিকে বেশ
বেঁটে, দু’দাঁত ভাঙ্গা
ভাবখানা তার খুব পালোয়ান
দু’ চোখ থাকে রাঙা।

চলার পথে যাকে পাবে
জোরসে দেবে ধমক
সব ব্যাপারে নাক গলাবে
দেখাতে চায় চমক।

তাকে নিয়ে চিন্তা আসে
ঝড়ো হওয়া এলে
মনে হবে উড়লো বুঝি
কান্ড এলেবেলে!
তবুও সে স্বাস্থ্য নিয়ে
করবে শুধু বড়াই
এমন কথা বলবে যেন
আমরা তাকে ডরাই।

কে যেন তার নাম দিয়েছে
‘তালপাতার এক সেপাই’
এই নামেতে ডেকে এখন
আমরা তাকে খেপাই।

ঢাকায়

ঢাকার পথে ফাঁদ
ভাঙাচোরা খোঁড়াখুড়ি
হবেন কুপোকাত।

বৃষ্টি হলে নদী
বেরুতে হয় যদি
পথ চলাটাই ঝুঁকি
বলুন কে আর সুখী?

আবর্জনার গন্ধ
গ্যাস আছে তো, বন্ধ!
নোংরা পানি, অভাব তাও
লোডশেডিংয়ের ম্যাজিক ফাউ।

তবু সবাই চলছে
ক্ষোভানলে জ্বলছে।
দেখার কী নেই কেউ
তুমুল উঠুক গণরোষের ঢেউ!

আজব নেতা

নেতা আজব বটে
হালুয়া ও রুটির লোভে
সদায় থাকেন চটে।

নিজের দলের নিজেই নেতা
কর্মী কোন নেই
দাবা খেলার হন যে গুটি
নাচেন তা-ধিন ধেই।
সুযোগ বুঝে বিবৃতি দেন
হাওয়া বুঝে পাল
মোর্চা কিবা জোটের ফাঁদে
হাতিয়ে নেবেন মাল।

থাকেন যেন গর্তে
সময় কী নেই জনগণের
ওদের বিচার করতে?

গালিবাজ

মঞ্চে কিবা পার্কে
গালাগালি করেন তিনি
শাসক, নেতা, ষাঁড়কে…।

তার যে কোন পক্ষ নেই
স্বপ্ন কিবা লক্ষ্য নেই।
বোঝেন নাতো কুট চাল
তিনি কেবল দেবেন গাল।
কাটতে পারেন ছন্দ
গালও জানেন মন্দ।

খাটেন শুধু ভাড়ায়
ঘুণে ধরা সমাজ, তাকে
ভীষণ রকম তাড়ায়।

চুরি

পুকুর চুরি হলে নাকি
ভীষণ এরই জের
হচ্ছে এখন হরহামেশা
চুরি, লোপাট ঢের।

ছিঁচকে চোরের হচ্ছে বিচার
অনেক কঠিন সাজা
ঋণ খেলাপী নামক চোরের
ভাবখানা সে, রাজা।

অমুক খাতে, তমুক খাতে
সাগর চুরির ঢেউ
কর্তা-শাসক জানছে সবই
পায়না সাজা কেউ!

 

 

 Back