টুইন টাওয়ারের গুমোট কান্না

টুইন টাওয়ারের গুমোট কান্না

 Author: দর্পণ কবীর  Category: উপন্যাস More Details
 Description:

এক.
সুজানা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল। ভদ্রলোকের দেখা নেই। বার্নস এণ্ড নভেল বুকস্টোরের স্টারবাকস কফিশপে টানা দুই ঘন্টা বসে থাকা বিব্রতকর। যদিও অনেকে বই নিয়ে বসে থাকেন অর্র্থাৎ তারা বই পড়েন। কেউবা লেপটপ বা নেটবুক নিয়ে অনলাইনে জমে থাকেন। বার্নস এণ্ড নভেল বুকস্টোরে এ ধরনের দৃশ্য হরহামেশা দেখা যায়। পড়ুয়া ছেলেমেয়ে, তরুণ-তরুণী এবং বয়স্করা নিয়মিত বার্নস এণ্ড নভেলে আসেন। মার্কিনীরা বই পড়ুয়া জাতি। বাংলাদেশে লাইরেব্ররীগুলোতে পাঠকদের তেমন ভিড় দেখা যায় না। বুকস্টলগুলোতে বই পড়ার ব্যবস্থা নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বই পাঠের জন্য লাইব্রেরী ছাড়াও বুকস্টলগুলোতে ব্যবস্থা রয়েছে। বুকস্টলে কপিশপ থাকবেই। একজন মনযোগী পাঠক যদি পুরোদিন এ ধরনের বুকস্টলে কাটিয়ে দিতে চান, এতে কোন সমস্যা নেই। কফি, চা, কেক, বিস্কেট, পিজাসহ হালকা খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে বুকস্টলগুলোতে। ‘বার্নস এণ্ড নভেল’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত বুকস্টলের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই বুকস্টল রয়েছে। এই বুকস্টলে সবধরনের বই পাওয়া যায়। পাঠক চাইলে বই না কিনেও বুকস্টলে বসে তার পছন্দের বই পাঠ করতে পারেন। সুজানা বার্নস এণ্ড নভেলে আগে খুব আসত। ইদানিং খুব একটা আসে না ও। কাজের চাপ বেড়েছে। ও আজ বার্নস এণ্ড নভেলে এসেছে একজনের সঙ্গে দেখা করতে। ভদ্রলোককে ও এর আগে কখনও দেখেনি। কথাও হয়নি। ও শুধু তার নামটা জানে। লোকটির নাম সিফাত চৌধুরী। সুজানার সঙ্গে তার বিয়ের কথা চলছে। সিফাত চৌধুরীও সুজানাকে চেনে না। পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনাটা গুরুত্ব লাভ করায় সুজানাকে আসতে হল সিফাত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে। দেখা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, একে অন্যকে দেখা এবং দুজন দুজনার সম্পর্কে কিছুটা ধারনা নেয়া ও আলাপাচারিতা। সুজানা ঠিক সময়ে এসেছে বার্নস এণ্ড নভেলে। কিন্তু সিফাত চৌধুরী এখনও আসেনি। অপেক্ষার প্রহর পেরিয়েছে প্রায় দু’ঘন্টা। সুজানা বিরক্ত হয়ে টেবিল থেকে উঠে যাচ্ছিল, এমন সময় এক ভদ্রলোক ওর টেবিলের সামনে এসে বলল,
‘আপনার ধৈর্য আছে, দেখছি! কনে হিসাবে কোন মেয়ে কারো জন্য দু’ঘন্টা অপেক্ষা করে বলে আমার জানা ছিল না। আপনার পেশেন দেখে আমি মুগ্ধ!’
ভদ্রলোকের কণ্ঠ ভরাট, গমগমে। উচ্চতায় পাঁচফুট পাঁচ-ছয় ইঞ্চি হবে। মায়াবী মুখ। চোখের দৃষ্টি একটু বেশি উজ্জ্বল। নাক খুব টিকালো নয়, মন্দও নয়। মাথায় ঝাকরা চুল, এলোমেলো। জিন্সপ্যান্ট ও টি-শার্ট পড়েছে। পেটানো শরীর। সম্ভবত নিয়মিত জিমে যায়। কয়েকমুহুর্তে ভদ্রলোককে দেখে নিল সুজানা। ওর মনে হল ভদ্রলোক নিশ্চয় সিফাত চৌধুরী হবেন। কারণ, ও যে এখানে প্রায় দু’ঘন্টা যাবত অপেক্ষা করছে, এ কথা সিফাত চৌধুরী ছাড়া আর কে জানে? সিফাত চৌধুরীর প্রতি যে বিরক্তি জন্ম নিয়েছিল, তাকে দেখে কেন জানি, ওই বিরক্তি উবে গেল। সুজানা হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে মিষ্টি একটা হাসি বিলিয়ে দিয়ে সুজানার টেবিলে ওর মুখোমুখি বসল। সুজানা ভাবল, দেরী করে আসার জন্য সিফাত চৌধুরী ‘সরি’ বলেননি। এটা অভদ্রতা। তার উচিত তাকে ‘বাই’ বলে চলে যাওয়া। কিন্তু সুজানার মন চেয়ার থেকে উঠতে চাইছে না। লোকটি এবার ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘এখন আমি যা বলব, আপনি তা বিশ্বাস করতে পারবেন না। তারপরও আপনাকে বিনীত অনুরোধ করব, আপনি আমাকে একটু সময় দিয়ে আমার কথাগুলো শুনবেন, প্লিজ!’
লোকটির কথায় হোচট খেল সুজানা। ভদ্রলোক কি সিফাত চৌধুরী, না অন্যকেউ? ভাবল ও। লোকটি নিজ থেকেই বলল,
‘আমি জানি, আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে, আমি কে।’
‘হুম, কে আপনি?’
লোকটি বলল,
‘আমি এলিয়েন।’
‘কি বললেন? এলিয়েন? আই মিন, অন্যগ্রহের প্রাণী!’
‘ধরুন, সেরকমই। ভয় পেলেন?’
‘শুনুন, আমার সঙ্গে রসিকতা করবেন না! এমনিতেই দু’ঘন্টা বসিয়ে রেখেছেন। এরপর কোথায় ‘সরি’ বলবেন, তা না, বলছেন এলিয়েন।’
সুজানার কথায় রাগের উত্তাপ। লোকটি হাসল। লোকটির হাসিতে কেমন জাদু যেন আছে। চোখ আটকে যায়। এ রকম হাসির জবাবে সুজানা কী বলবে? লোকটি এবার বলল,
‘আমাকে আপনি সিফাত নামে ডাকতে পারেন। আবার অন্য যে কোন নামে ডাকতে পারেন।’
‘শুনুন, হেয়ালি করে কথা বলবেন না। আপনি যদি সিফাত হন, বলুন। নইলে আমি উঠব।’
বলল সুজানা। লোকটি আবারও মিষ্টি করে হাসল। বলল,
‘সিফাত চৌধুরীর জন্য দু’ঘন্টা সময় নষ্ট করলেন। আর আমার জন্য পাঁচ-দশ মিনিট নষ্ট করলে ক্ষতি কি?’
‘আপনি কি আমাকে বিরক্ত করে আনন্দ পাচ্ছেন?’
‘না, না। আমি আসলে আপনাকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছি। আবার আমিও আপনার সহযোগিতা চাই।’
‘ঠিক বুঝলাম না। আপনি আসলে কে, বলুন তো!’
বিস্ময় ফুটে উঠে সুজানার কণ্ঠে। লোকটি বলল,
‘আমি এলিয়েন। অন্যগ্রহের বাসিন্দা। পৃথিবী থেকে সহস্র আলোকবর্ষ দূর থেকে এসেছি।’
লোকটির চোখের দিকে তাকাল সুজানা। এবার ওর শরীরটা যেন কেঁপে উঠল। লোকটি কি সত্যিই এলিয়েন? এলিয়েন কি মানুষের রূপ ধরে ওর সামনে বসে আছে? ও জড়তাকণ্ঠে বলল,
‘আমি এলিয়েন বিশ্বাস করিনা। অন্যগ্রহ বলতে কিছু নেই। যারা সাইন্সফিকশান ছবি বানান, তাদের বানানো কল্পনা হচ্ছে এলিয়েন। আমাকে ভয় দেখাবেন না, বলছি! তাছাড়া আমি এসব বিশ্বাস করিনা।’
সুজানার কথা শুনে ফের হাসল লোকটি বা এলিয়েন। সে বলল,
‘আপনি কি জানেন, বৃটেনের রানী এলিজাবেদের জ্যোর্তিবিদ লর্ড মার্টিন রিস ‘রয়াল সোসাইটি’র সভায় কী বলেছেন?’
‘কী বলেছেন?’
‘তিনি বলেছেন, আমাদের কাছাকাছি অন্য গ্রহের জীব রয়েছে। কিন্তু দিনদিন স্যাটালাইট টিভির সিগন্যাল, মহাকাশ যানের চলাচল, উপগ্রহ স্টেশন ইত্যাদির কারণে অন্যগ্রহের জীবের কাছে মানব জগতের অস্থিত্ব ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। ফলে দূর জগতের সঙ্গে মানব জগতের যোগাযোগে সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদি পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, তবে দূর জগতের সঙ্গে মানব জগতের যোগাযোগ স্থাপন করা অসম্ভব নয়।’
‘তাই নাকি? তিনি আর কী বলেছেন!’
‘তিনি আরো বলেছেন, পৃথিবীর ওপর ৫০ আলোকবর্ষ দীর্ঘ একটি বিকিরণের মোড়ক তৈরি হয়েছে।’
‘ও মাই গড! তাহলে তো অন্য কোন গ্রহ বা পৃথিবীর জীব সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!’
সুজানা বিদ্রুপ করল। লোকটি ওর বিদ্রুপ গায়ে না মেখে বলল,
‘শুধু তথ্য বলছেন? মানব সভ্যতার অগ্রগতি কোথায় গিয়ে পৌঁছুবে, ভেবে দেখুন!’
লোকটির কথা শুনতে ভাল লাগছে সুজানার, কিন্তু এ সব কথার কোন মানে নেই। ও বলল,
‘তা মিঃ এলিয়েন, আমি কি উঠতে পারি? আপনি এখানে বসে বসে অন্যগ্রহ আর পৃথিবীর দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করুন। ওকে?’
এ কথা বলে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল সুজানা। ওর কথায় ককিয়ে উঠে লোকটি। ও বলল,
‘আপনাকে তো আসল কথাই বলা হয়নি। আর একটু বসুন, আসল কথাটা বলছি।’
‘আসল কথা রয়ে গেছে। ওকে বলুন। আমি শুনছি।’
ও ফের চেয়ারে বসল। এলিয়েন এবার সুজানার দিকে মাথা ঝুকিয়ে এনে বলল,
‘সিফাত চৌধুরী কিন্তু কখনও আপনার সঙ্গে দেখা করবেন না। আপনি যে দু’ঘন্টা বসেছিলেন, অকারণেই। আমি এই দুই ঘন্টা আপনাকে শুধু দেখছিলাম।’
‘হোয়াটস! হোয়াট আর ইউ টকিং এবাউট ইট!’
‘আস্তে, রাগবেন না। যা সত্যি তাই বলছি। চারমাস আগেও আপনি আরেকজনের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন ম্যানহাটানে একটা জাপানিজ রেষ্টুরেন্টে। তার নাম ছিল রাশেদুল আলম। মনে পড়ছে?’
লোকটির কথা শুনে এবার সুজানার মুখে কথা সরছে না। ও হা করে তাকিয়ে আছে লোকটির মুখের দিকে। লোকটি বলল,
‘রাশেদুল আলমও আসেননি। তারও একটা কারণ আছে। না, আমি বলছি না, আপনি অসুন্দরী বা অযোগ্য কোন পাত্রী। বরং মনুষ্য জগতের সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় আপনি অসম্ভব সন্দরী ও ব্রিলিয়ান্ট! কিন্তু আপনার জীবনের সঙ্গে একটা রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে। এই রহস্য থেকে আপনি বের না হতে পারলে, আপনার বিয়ে হবে না। আই মিন, আপনাকে বিয়ে করতে আসা পাত্র মাঝপথ থেকে ফিরে যাবে। এটা এক রহস্য। আবার খারাপভাবে বললে, বলতে পারেন এটা অভিশাপ।’
লোকটির কথা আগুনের গোলার মত সুজানার ইন্দ্রীয়তে প্রবেশ করল। ও হতভম্ব হয়ে গেল কথাগুলো শুনে। সুজানা চারমাস আগে সত্যিই রাশেদুল আলম নামক একজনের জন্য অপেক্ষা করেছিল। রাশেদুল আলম আসেননি। আজ যেমন সিফাত চৌধুরী আসেননি। কিন্তু এটা যে রহস্য বা অভিশাপ, তা ও জানে না। কিন্তু লোকটি কী করে এ কথা বলছে? সুজানা অবাক ও অসহায় চোখে তাকাল লোকটির চোখের দিকে। লোকটির চোখের মণি যেন বদলে গেল। এতক্ষণ লোকটির চোখের মণি ছিল বাদামী, এখন ও দেখছে নীল। সুজানার গা শিরশির করে উঠল। ও ভয় পেলেও নিজেকে শক্ত করল। বলল,
‘কেন আমার জীবনে এই রহস্য বা অভিশাপ নেমে এসেছে বলতে পারেন?’
কথাটা বলতে গিয়ে সুজানার কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হয়ে এলো। কেঁদে ফেলতে পারলে ভাল হত। মন হালকা হত। কিন্তু বার্নস এণ্ড নোভেল বুকস্টোরে লোকজনের সামনে কান্না করা চরম লজ্জার ব্যাপার। সুজানা দু’হাতের অঞ্জলিতে নিজের মুখ ঢাকল। লোকটি বলল,
‘পারি, আপনাকে এই রহস্য বা অভিশাপ থেকে বের করে দিতেই তো আমি এসেছি। আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই। আর এই কাজে আমাকেও আপনি সাহায্য করবেন। করবেন নিশ্চয়?’
লোকটির কথায় ভরসা খুঁজে পেল সুজানা। যদিও সুজানার মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে, তবুও লোকটির কথা বিশ্বাস করতে মন সায় দিচ্ছে। ও বলল,
‘বলুন, কী করতে হবে? আমি করব!’
এবার লোকটি আগের মত হাসল। লোকটির চোখের রঙ ফের বদলে গেল। এখন তার চোখের দৃষ্টি সবুজ। সুজানার চোখে মেঘ জমছে। লোকটি এবার নিচু গলায় বলল,
‘আপনি কি জানেন, আপনার বিশেষ বন্ধু ধ্রুব একদিন আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিল?‘
ধ্রুব’র কথা শুনে সুজানার বুকের ভেতরটা দুমরে-মুচরে উঠল। লোকটি এতোদিন পর ধ্রুব’র কথা বলছে! সে ধ্রুবকে চিনে কী করে? প্রশ্ন্টা ও করল না। লোকটি প্রশ্নটা জেনেই যেন বলল,
‘সেদিন সকালে আপনারা একসঙ্গে ব্র্যাকফার্ষ্ট করবেন কথা ছিল। ধ্রুব সকাল আটটা থেকে টুইন টাওয়ারে ‘উইণ্ডোজ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ রেষ্টুরেন্টে অপেক্ষা করছিল। আপনারা সেদিন বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন বলেও ঠিক করেছিলেন। কিন্তু আপনি সেখানে যাননি।’
‘যাইনি ঠিক নয়। ঠিক সময়ে যেতে পারেনি। সেদিনই তো সন্ত্রাসীদের হামলায় টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গেল! ওহ! কী মর্মান্তিক, কী ভায়বহ! জানেন, আমি তখন ছিলাম টুইন টাওয়ারের কাছে!’
এ কথা বলে ও মুখ ঢাকল দু’হাতে। ওর শরীর থরথর করে কাঁপছে। কান্নার প্রবল স্রোত আটকে গেলে যা হয়। লোকটি বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। সুজানা যখন চোখের জল মুছে নিচ্ছিল, তখন লোকটি বলল,
‘টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনায় ধ্রুব সেদিন মারা যায়, জানেন?’
‘আমি ওর মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত নই। আমি মৃত্যুদের তালিকায় ওর নাম দেখেনি। তাই অনেকদিন ওর জন্য অপেক্ষা করেছি। ওর কোন খবর আমি জানি না।’
‘টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনায় দুই হাজার নয় শ’ তিয়াত্তর জনের মৃতের তালিকা প্রকাশ করলেও মিসিং তালিকায় আরো অনেকের নাম আছে। ধ্রুব’র নাম মিসিং তালিকায়ও নেই।’
‘তাহলে..?’
‘ধ্রুবও সেদিন মারা যায়। মৃত্যুর সময় আমি ওর পাশে ছিলাম।’
বলল সে। সুজানা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ওর কান্নায় কফিশপের পরিবেশটা ভারি হয়ে গেল। আশেপাশের লোকজন উৎসুক দৃষ্টিতে সুজানার দিকে তাকাল। ও দ্রুত কান্না থামিয়ে নিল। এবার লোকটি বলল,
‘ধ্রুব মারা গেলেও ওর অতৃপ্ত আত্মা টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হতে পারেনি। ধ্রুব এখন ধ্বংসস্তূপে টুইন টাওয়ারের গোপন কান্না।’
‘বলেন কি!’
‘হুম। ধ্রুব’র আত্মা মুক্তি চায়। আপনাকে এর ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে আপনিও রহস্য বা অভিশাপ থেকে রেহাই পাবেন না।’
সুজানা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল লোকটির দিকে। লোকটি কী বলছে! ও কী করে ধ্রুব’র আত্মাকে মুক্ত করবে? ওর শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল। এমন রহস্যে ও কোনদিন পড়েনি। লোকটি বলল,
‘কী ভাবছেন?’
‘ভাবছি, আমি কীভাবে ধ্রুব’র আত্মাকে মুক্ত করব? আপনি কি বলতে পারেন, আমাকে কী করতে হবে?’
‘পরে একদিন বলে দেব কী করতে হবে। আজ তাহলে উঠি?’
সুজানা কিছু বলার আগেই লেকাটি বা এলিয়েন উঠে পড়ল। সুজানা বলল,
‘এসব কথা বলে আমাকে সহযোগিতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হঠাৎ করে উঠছেন কেন? আজই বলে দিন কী করতে হবে।’
সুজানার কণ্ঠে আকুতি। লোকটি বলল,
‘আমি বেশিক্ষণ পৃথিবীর আলোয় থাকতে পারিনা। আমাকে খুব দ্রুত অন্তর্ধান হতে হবে। হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে হবে। তাই উঠলাম। অপেক্ষা করুন, বলে দেব কী করতে হবে। অস্থির হবেন না।’
‘আপনার সঙ্গে আবার কখন এবং কীভাবে দেখা হবে?’
এ কথায় হাসল সে। বলল,
‘আমি তো এলিয়েন। আমার সঙ্গে দেখা হবার সুযোগ নেই। সময় হলে আমি নিজেই দেখা দেব।’
এ কথা বলে এলিয়েন বার্নস এণ্ড নভেল বুকস্টোর থেকে বের হবার পথের দিকে হনহন করে হাঁটতে লাগল। সে লম্বা লম্বা পা ফেলে দ্রুত হাঁটছে। সুজানা তার চলে যাওয়া পথের দিকে নিষ্পলক চেয়ে রইল।

দুই.
অনেকগুলো দিন পেরিয়ে গেল। এলিয়েনের দেখা নেই। সুজানা এলিয়েনের জন্য অপেক্ষা করছিল। অপেক্ষার বিস্বাদ যেন প্রলম্বিত হচ্ছিল। ও মাঝেমাঝে ভাবছিল সেদিন বার্নস এণ্ড নভেল বুকস্টোরে ওর হেলিসুনেশন হয়েছিল। আসলে এলিয়েন ওর সামনে আসেনি। ধ্রুব’র আত্মা ওর সামনে এসেছিল। এলিয়েন পরিচয় দিয়ে ধ্রুব’র আত্মা ওর সঙ্গে কথা বলেছিল। এ কথা ভাবলেও ও এলিয়েনের জন্য অপেক্ষা করছিল। ওর মন বলছিল, এলিয়েন ফের আসবে। অবশেষে এলিয়েন এগার মাস এগার দিন এগার ঘন্টা পর ওর সামনে এসে হাজির হল পঁচিশ ডিসেম্বর বড়দিনের সন্ধ্যয়। সুজানা এদিন ম্যানহাটানে রকফেলা সেন্টারে ক্রীষ্টমাস ট্রি দেখতে গেল। রকফেলা সেন্টারে প্রতিবছর বড় আকারের ক্রিষ্টমাস ট্রি স্থাপন করে সুসজ্জিত করা হয়। এই ক্রিষ্টমাস ট্রি দেখতে প্রচুর লোক ভিড় জমান। এতে ম্যানহাটানের ট্রাফিক ব্যবস্থা হিমসিম খায়। বড়দিনের বিকেলে ওর মনটা ক্রিষ্টমাস ট্রি দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ল। মনের ব্যাকুলতায় ও চলে গেল রকফেলা সেন্টারে। শীতের সন্ধ্যা ঝুপ করে নেমেছে। অন্ধকার ঘন হয়ে এলেও ম্যানাহাটনের আকাশমুখি অট্টালিকায় জ্বলে থাকা বাতির আলোর কাছে ম্রিয়মান। সুজানা সার্বক্ষণিক জেগে থাকা শহর ম্যানহাটান নিয়ে ভাবুলতায় ডুব যাচ্ছিল। বিজলি বাতির জৌলুসে ম্যানহাটানে কখনও রাত অন্ধকারের পেখম ছড়াতে পারে না। এ শহর কখনও ঘুমায় না বলে এখানে রাতও কখনও ‘নিস্তব্ধ রাত’ হতে পারে না। রকফেলা সেন্টারে মানুষের ভিড়ে হাঁটছিল সুজানা। ওর পাশ থেকে সেই গমগমে গলায় এলিয়েন হঠাৎ বলে উঠল,
‘ধন্যবাদ, এখানে আসার জন্য। আমি আপনাকে অনুভব করছিলাম।’
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল ওর পাশে গায়ে গা ঘেঁষে এলিয়েন হাঁটছে। ওর গা শিরশির করে উঠল। এলিয়েন কি ওকে হিপ্টোনাইস করে এখানে নিয়ে এসেছে? প্রশ্নটা মনে এলেও মুখে বলল,
‘এতোদিন পর দেখা দিলেন! এটাও কি রহস্য?’
ওর কথায় এলিয়েন মুখ টিপে হাসল। বলল,
‘আপনাদের কাছে মাস-বছরটা অনেক বড় হলেও আমাদের কাছে শত বছর সময়টাও ছোট। মনে হয় এই তো কয়েকদিন মাত্র!’
‘বলেন কি! ভাগ্যিস, এক শ’ বছর পার করে আমার কথা ভাবেননি! তাহলে কী হত!’
ভিড়ের মধ্যেও ওরা দু’জন পাশাপাশি হাঁটছে। এলিয়েন সুজানার কথার জবাবে বলল,
‘আমার ডাক এসেছে। ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে চলে যেতে হবে। পৃথিবীতে থাকার সময়কাল ফুরিয়ে গেছে। তাই বলতে পারেন, আপনার সঙ্গে আর কখনও দেখা হবে না।’
‘আমার শাপমোচন কী করে হবে? আপনি বলেছিলেন, উপায় বলে দেবেন।’
বলল সুজানা। এলিয়েন এ কথার জবাব দিতে প্রস্তুত ছিল। সে বলল,
‘ধ্রুব’র আত্মার সঙ্গে অনেক তর্ক করেছি। সে কোনকিছুতেই পৃথিবী ছাড়তে চায়না। ওর আত্মা আপনার জন্য এখনও টুইন টাওয়ারের ধ্বংস স্থানে ঘুরপাক খাচ্ছে!’
‘ওহ, মাই গড!’
‘যাই হোক, আমি ওর আত্মাকে একরকম রাজী করিয়েছি। এখন আপনাকে একটা কাজ করতে হবে।’
‘কী কাজ?’
‘কাজটা কঠিন নয়, আবার সহজও নয়।’
‘বলুন, কী করতে হবে। আমি যত কঠিনই হোক তা করব। আমাকে আর টেনশনে রাখবেন না, প্লিজ!’
সুজানার কণ্ঠে আকুলতা। ওরা মানুষের ভিড়ের মধ্যে হাঁটছে। ভিড় ঠেলে সুজানার হাঁটতে একটু কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এলিয়েন হাঁটছে নির্বিকার। সুজানার কথার জবাবে বলল,
‘এখন সন্ধ্যা, তাইনা?‘
‘হুম।’
‘আপনি চলে যান যেখানে টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়েছে, সেখানে।’
‘সেখানে কী করব?’
‘আপনারা প্রার্থনা করেন না?’
‘হুম, করি।’
‘আপনি মধ্যরাত থেকে সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত ধ্যানমগ্ন হয়ে প্রার্থনা করতে পারবেন?’
‘এতোক্ষণ! অলমোষ্ট ৫/৬ ঘন্টা! আবার ধ্যানমগ্ন হয়ে!’
চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল সুজানার। এলিয়েন বলল,
‘এতো সহজেই আত্মার মুক্তি হবে? কষ্ট করতে হবে না? কষ্ট না করলে শাপমোচন হবে?’
এলিয়েনের কণ্ঠে প্রশ্ন। বিব্রত বোধ করল সুজানা। ও মিনমিনে গলায় বলল,
‘মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অনেক সময়। এতোক্ষণ ধ্যানমগ্ন হয়ে প্রার্থনা করা যায়? আপনি বুঝবেন না, এটা কেমন কষ্টকর। তবু আমি করব। কিন্তু..?’
‘কিন্তু কি?’
‘যেখানে টুইন টাওয়ার ছিল, সেখানে গেলে পুলিশ এসে বাধা দেবে। এতে ধ্যানমগ্ন হয়ে প্রার্থনা করা যাবে না। ধ্যান ভেঙ্গে যাবে।’
সুজানার মনে চিন্তার রেখাপাত সৃষ্টি হল। এলিয়েন সুজানার কথায় বলল,
‘ধ্বংসস্থানের যতটুকু কাছে যেতে পারেন, চেষ্টা করবেন। কাছাকাছি থাকলেও চলবে। অথবা ধ্বংসস্থানের কাছাকাছি ব্রডওয়ের ওপর ভিসি ও ফুলটন স্ট্রিটের মাঝে ছোট্ট একটা কবরস্থান আছে। জানেন?’
‘জানি। টুইন টাওয়ার ধ্বংসে নিহত কয়েকজনের মরদেহ ওখানে সমাধি করা হয়েছে। ওটা কবরস্থান না। তবে এখন কবরস্থান বলা যায়।’
বলল সুজানা। ওর কথায় এলিয়েন যেন খুশি হল। সে বলল,
‘আপনি ঐ কবরস্থানে গিয়ে প্রার্থনা করবেন। নিমগ্নচিত্তে প্রার্থনা করবেন ধ্রুব’র জন্য। সেদিন ঠিক সময়ে আসতে পারেননি বলে ধ্রুব’র কাছে ক্ষমা চাইবেন। বারবার ক্ষমা চাইবেন। পারবেন না?’
‘পারবো। আমাকে পারতেই হবে। এরপর?’
‘সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আপনি প্রার্থনা মগ্ন থাকবেন। ভোরের প্রথম সূর্যালোকে আমি ধ্রুব’র আত্মাকে সঙ্গে নিয়ে মিলিয়ে যাব। ওটাই হবে আপনার সঙ্গে আমার ও ধ্রুব’র আত্মার শেষ বিদায়। বুজেছেন?’
এ কথায় রিনরিনে এক বেদনা সুজানাকে গ্রাস করল। বেদনা মিশ্রিত এক রসস্যের সামনে ও কেন দাঁড়িয়েছে, এর জবাব কে দেবে? সুজানা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। ওরা দু’জনে ভিড় ঠেলে ৫৩ স্ট্রিট দিয়ে কখন যে ব্রডওয়ের দিকে চলে এসেছে, সুজানা খেয়াল করেনি। খেয়াল হবার পর ও বলল,
‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’
এলিয়েন বলল,
‘আমি কিছুক্ষণের মধ্যে হাওয়ায় মিলিয়ে যাব।’
সুজানা ককিয়ে ওঠে,
‘ভোর পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকতে পারেন না?’
‘না, আমি বেশিক্ষণ পৃথিবীর আলোয় মনুষ্য স্বরূপ ধরে থাকতে পারিনা। তাই..।’
‘একটা প্রশ্ন করব?’
‘করুন।’
‘আপনি তো এলিয়েন, মানুষের চেয়ে অনেক শক্তিধর। যখন টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসীরা হামলা চালালো, তখন আপনি কি ওই সন্ত্রাসীদের কঠিন শাস্তি দিতে পারতেন না? সেদিন আপনিও তো টুইন টাওয়ারে ছিলেন, তাইনা?’
সুজানার প্রশ্নে একটু ভাবল এলিয়েন। এরপর বলল,
‘পৃথিবীর মানুষরা কী করে, কীভাবে জীবনযাপন করে, তা দেখার জন্য আমি এসেছিলাম। মানুষের কর্মকাণ্ডে কোন প্রতিক্রিয়া দেখানো আমার কাজ নয়। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের সময় দেখলাম মানুষ কত বর্বর, কত হিংস্র, কত নিষ্ঠুর হয়। তখন মনে হয়েছিল মানুষের পৃথিবীটা ধ্বংস করে দেই। এরপর দেখলাম আরেক দল মানুষের মানবিকতা, মমত্ববোধ, মানুষের প্রতি মানুষের কী ভালবাসা! গোটা কয়েক হিংস্র মানুষ তিন হাজার মানুষকে হত্যা করল। আবার মানুষকে বাঁচাতে আরেকদল মানুষ কীভাবে নেমে পড়ল উদ্ধারকাজে। মানুষ বাঁচাতে গিয়ে অনেক মানুষ মারাও গেল। কী আত্মত্যাগ! মনুষ্য জীবনের কী মহিমা! আরো দেখলাম, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ এ ঘটনায় দুঃখ-কষ্টে ছটফট করল। তখন বুঝলাম, পুরো মানবজাতি সভ্য না হলেও এবং তারা সকলে মানবিক বোধে উদার হতে না পারলেও অধিকাংশ মানুষ শান্তিকামী। তারা ধর্মে-কর্মে যেমন সাধারণ, তেমনি মানবতাবাদে বিশ্বাসী। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ সাধারণ ও সরল। মনুষ্যজীবন সম্পর্কে এই উপলব্ধি সঙ্গে নিয়ে নিজের গ্রহে ফিরে যাচ্ছি।’
এলিয়েনের কথাগুলো সুজানা শুনছিল তন্ময় হয়ে। এ কি কথা বলছে এলিয়েন? মানুষ এতো যুদ্ধ করছে, লুটতরাজ করছে, অন্যায় করছে, প্রহসন-প্রতারনা করছে-এ সব কি সে দেখেনি? নাকি এ সব দেখলেও মানুষের মহত্বকেই বড় করে দেখছে সে? প্রশ্নটা ওর মনে উদয় হল। প্রশ্নটা ও করবে বলে এলিয়েনের দিকে তাকাল। কিন্তু ও দেখল এলিয়েন নেই। এলিয়েন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। সুজানার মন খারাপ হয়ে গেল।

ভোরের পেয়ালায় রাতের সমর্পণ হবার আকুতি। পূবের আকাশে ম্লান রক্তিম আভা ফুটে উঠেছে। ব্রডওয়ের ওপর ছোট্ট কবরস্থানে রাতের হিম সহ্য করে প্রার্থনায় মগ্ন সুজানা। মধ্যরাত থেকে ও দাঁড়িয়ে আছে এই কবরস্থানে। ধ্রুব’র আত্মার শান্তি কামনায় ও প্রার্থনারত। কবরস্থানে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছে বলে সুজানাকে পুলিশ বাধা দেয়নি। প্রার্থনায় সুজানা রাতভর ধ্রুব’র নাম জপেছে। দীর্ঘক্ষণের দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট ও মুখ বুজে সহ্য করেছে। ওর মনে হচ্ছিল ওর পা দুটি পাথর হয়ে গেছে। এক সময় ভোরের কুয়াশা সরিয়ে এলিয়েন ওর কানের কাছে এসে বলল,
‘আপনার নিমগ্ন প্রার্থনার জয় হয়েছে! ধ্রুব’র আত্মা আমার সঙ্গে পৃথিবী ছাড়তে রাজী হয়েছে।’
এ কথা শুনে চোখ খুলল সুজানা। ও দেখল, ওর সামনে এলিয়েন হাসিমুখে দৃশ্যমান। সুজানার মনটা অন্যরকম আলোয় ভরে গেল। এলিয়েন সুজানাকে বলল,
‘চলে যাবার আগে একটা কথা বলে যেতে চাই।‘
‘বলুন।’
‘আজকেই আপনাকে বিয়ে করার জন্য দু’জন ব্যক্তি পাগলের মত ছুটে আসবে।’
‘তাই নাকি! তারা কে?’
‘একজনের নাম রাশেদুল আলম, আরেকজন সিফাত চৌধুরী। আপনি কাকে বিয়ে করবেন?’
‘তাদের একজনকেও না।’
‘কেন?’
‘এরপর আমি একজন এলিয়েনকে বিয়ে করার জন্য অপেক্ষা করব। ঘন্টার পর ঘন্টা, মাসের পর মাস, বা বছরের পর বছর! শাপমোচন হলে বর পাব না? ধ্রুব তো আর ফিরে আসবে না। অন্তত এলিয়েন চাই। পাব কি?’
এর জবাবে এলিয়েন অনেকক্ষণ হাসল। এরপর সে বলল,
‘এলিয়েনদের রাজ্য থেকে পৃথিবীতে অর্থাৎ মনুষ্য সমাজে নির্বাসনের আসার আবেদন জানাব। আবেদন মঞ্জুর হলে আমি পৃথিবীতে আবার আসব। সেদিন আমি ধ্রুব হয়ে আসব। আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করবেন?’
এলিয়েনের এই প্রশ্নের জবাবে সুজানা কী বলবে? ও জবাবে কিছু বলতে যাচ্ছিল, প্রবল আবেগে ওর ঠোঁট তিরতির করে কাঁপতে লাগল। ও চিৎকার করে বলতে চাইল, ‘তুমি এলিয়েন নও, আসলে তুমিই আমার ধ্রুব। মৃত্যুর পর এলিয়েন হয়েছো। তুমি ফিরে এসো, ফিরে এসো। আমি অনন্তকাল তোমার জন্য অপেক্ষা করব।’ কথাগুলো বলতে পারল না ও। ভোরের নরম সূর্য তেতে উঠল। আকাশ আলোয় ফর্সা হচ্ছে। আলোর উজ্জ্বলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলিয়েন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল খুব দ্রুত। সুজানা হাত নেড়ে শুধু বিদায় জানাতে পারল তাকে। অব্যক্ত কথাগুলো লোনা জল হয়ে ওর চোখ থেকে টপটপ করে ঝরে পড়ল।

 

 Back