ধপাস

ধপাস

 Author: দপর্ণ কবীর  Category: ছড়া More Details
 Description:

লোকটি
লোকটি ভীষণ চালাক চতুর
কাকে কখন করবে ফতুর
নানা রকম ফন্দি আঁটে
দেখবে তাকে পথে ঘাটে।

মিষ্টি কথায় দেবে ধোঁকা
যে কোন লোক বনবে বোকা
বেশ-ভূষাতে ভদ্র যেনো
মুখোশ পরা মানুষ চেনো?

এই সমাজে কত আছে
ভুরি ভুরি দূরে কাছে
সহজ তাদের নয়কো চেনা
কালো কাজের দক্ষ সেনা।

তাদের মতো লোকটি তেমন
লুটছে সুযোগ যখন যেমন
লোকটি অনেক কথা জানে
লোক দেখানো ধর্ম মানে।

সব কাজেরই সে যে কাজী
দেখায় ভালো কিন্তু পাজী
তাই বলি ভাই, থেকো দূরে
চারপাশেতে লোকটি ঘুরে।

 

কাব্যকথা
লিখতে গিয়ে হয় না লিখা ভাবি বসে শুধু
মাথায় আমার কাব্য কোথায় কেবল মরু ধূ ধূ
ভেবে ভেবে হই উদাসীন ভাবনা দিশেহারা
হঠাৎ সে এক দৃশ্য দেখে হৃদয় নেচে সারা

রঙিন দু’টি পাখনা মেলে একটি প্রজাপতি
উড়ে উড়ে আসে সে যে ছন্দমধুর গতি
কাটে আমার আনমনা ভাব দেখি দু’চোখ ভরে
ফুলের মুখে প্রজাপতি বসে নিবিড় করে।

প্রণয়মুখী ফুলটি যেন হেসে ওঠে, দোলে
বুঝতে পারি এই সময়ে স্বর্গ দুয়ার খোলে
ভাবি আমি কাব্য কোথায়, মহাকাব্য এইতো
এরই মাঝে কাব্য যত এর তুলনা নেইতো।

একুশ এলেই
একুশ এলেই তিনি অন্য বেশে
পাঞ্জাবীটা চাপান গায়ে হেসে
ভাষণ দিতে নিবেন গলা কেশে
‘বাংলা কর চালু সারা দেশে’।

তার মুখেতে ভাষণ কেবল ঝরে
আমার মায়ের বাংলা ভাষার তরে
একুশ আবার যাবে যখন ফিরে
যাবেন তিনি সবই ভুলে ধীরে।

ইংরেজীকে তুলে আবার নিবেন
বাংলাকে যে অব্যাহত দিবেন।

বেকারত্ব
রাত্তিরে সে বাড়ি ফেরে লুকিয়ে পিছন দিয়ে
খুব সকালে যায় পালিয়ে মাথায় বিপদ নিয়ে
দরজাতে এক ঝুলে আছে মস্ত বড় তালা
বন্ধ এখন আপাতত পাওনাদারের জ্বালা।

মুদির দোকান হাটবাজারের হাজার জনের হাঁক
যোগ হয়েছে বাড়িওয়ালার ঘন ঘন ডাক
হাপিয়ে উঠে ভীষণ রকম পায় না খুঁজে দিশে
বেকারত্বের যন্ত্রণাটা যাচ্ছে কেবল পিষে।

কেন?
সামনে আমার দেয় বাড়িয়ে
একটি কচি হাত
কাতর স্বরে বলল কেঁদে
‘খাইনি দু’দিন ভাত।’

হইনা অবাক ভাবি কেবল,
কেন এমন হয়?
এই পৃথিবীর সব শিশু কি
ফুলের মত নয়?

তোমার আছে বাড়ি গাড়ি
আদর ভালবাসাÑ
ওদের কেবল নিভছে কেন
বেঁচে থাকার আশা?

 

আড়ি
কাতার দুবাই সৌদি আরব
ব্রুনাই জাপান চীন
সবগুলো দেশ ঘুরে নূরুর
বদলে গেছে দিন।

নাকের ডগায় চশমা ঝোলে
গায়ে চাপায় স্যুট
নাগড়া ছেড়ে এখন পড়ে
দামী কালো বুট।

ডাইনে বাঁয়ে সামনে পিছে
টাকার পাহাড় তার
তারচে বেশী, চেনাজানার
করুণ হাহাকার।

সবাই বলেÑ ‘দাওতো কিছু
আশায় আছে তারাই
এসব শুনে নেয় যে নূরু
সবার সাথে আড়ি।

স্বাধীনতার ছড়া
পরাধীন ছিলো মোর দেশটা
শোষণই ছিলো শুধু চেষ্টা
শোষকেরা শোষণের তক্তে

এদেশের ছেলেরা যে তূর্য্য
লুটেছিলো স্বাধীনতা সূর্য
প্রাণ দিয়ে এক নদী রক্তে।

পন্ডশ্রম
অলস সময় লাগছে কেমন ফাঁকা
একা একা যায় কি বসে থাকা
তারচে বরং বলো কি হয় মন্দ
লিখলে ছড়া গেঁথে কিছু ছন্দ।

ভেবে ভেবে নিলাম টেনে খাতা
কলম কেবল আঁচড় কাটে পাতা
শব্দরা তো দেয় না আমায় ধরা
অবাক আমি মেধায় যেনো খরা।

ছড়া লেখার ভূতটা করে ধাওয়া
ভুলে গেলাম সকল নাওয়া খাওয়া
লেখার মতো পাইনা কোন শব্দ
পন্ডশ্রমে হলাম শেষে জব্দ।

মোড়লে মোড়লে
তুমি আর আমি যদি
করি কারো কল্যাণ
এতে হবে দু’জনার
অপাত্রে মিছে দান।

তারচে ভাল হবে
এসো রাখি হাতে হাত
গোলা বারুদ চাপিয়ে
কেড়ে নেই মুখের ভাত।

একে অন্যে লাগিয়ে লড়াই
দেখবো মজা করে
লুটবো কিছু ফায়দা না হয়
নিজ স্বার্থের তরে।

রাখতে হলে মোড়লগিরি
এসো করি সন্ধি
দুই মোড়লে তাইতো রোজই
আঁটে নতুন ফন্দি।

 

ধুত্তুরি ছাই ধুত্

ধুত্তুরি ছাই ধুত্
ভাবেন তিনি হলটা কি
চারদিকেতে কেবল ছিঃ ছিঃ
নেই ভাল তার হাল হকিকত
আগের মত জুত।

নলের মুখে দখল করে
আসনটাকে আঁকড়ে ধরে
অন্ধকারে পেছন দিয়ে
এসে ছিলেন হুট।

প্রতিবাদী কণ্ঠ শুনে
তৃপ্তি পেতেন তাদের খুনে
মাথার উপর চাপিয়ে দিয়ে
স্বৈরাচারী বুট!

ধুত্তুরি ছাই ধুত
কোথা দিয়ে কি হল যে
দিনে দিনে ক্ষোভ জমেছে
ভীষণ রকম উঠল ক্ষেপে
আন্দোলনের ভুত।

কোণঠাসা সে ভয়ে কাঁপে
শোষণ ত্রাসের অভিশাপে
নোংরামী সব প্রকাশ পেল
গোপন কথা, খুঁত।

গল্পকথা
মা যে আমায় জোসনা রাতে
বলতো কতো গল্প
সেখান থেকে কিছু না হয়
বলছি তোমায় অল্প

চাঁদে থাকে চড়কি বুড়ি
দৈত্য অচিনপুরে
রাজরানীর রাজ্য কথা
গল্প সবই জুড়ে।

কঙ্কাবতী ডালিমকুমার
সুয়ো দুয়ো রানী
পঙ্খীরাজ আর ব্যাঙাব্যাঙি
এসব সবই জানি।

পাতালপুরীর নাগ রাজাদের
কথা আছে কত
গল্প শোনার ছেলেবেলা
আজ হয়েছে গত।

অনেক সুখের অনেক মধুর
গল্প কথার কাঁথা
স্মৃতির সুঁতোয় নিপুন বোনা
আসে সেদিন গাঁথা।

 

লোকটি

লোকটি থাকে এপাড়াতেই
বিশাল দেহ তার
কথায় কথায় বড়াই করে
কথাই শুধু সার।

লোকটি নাকি দিতে পারে
রেলগাড়ি ট্রাক থামিয়ে
এক ধমকে আকাশ থেকে
বৃষ্টি বাদল নামিয়ে।

রোজ সকালে লোকটি যে খায়
ডজন দুয়েক আন্ডা
সটকে পড়ে দেখলে তারে
পাড়ার সকল পান্ডা।

এই তো সেদিন একা পথে
গান ছিলো তার মুখে
গান সেতো নয় চ্যাঁচামেচি
গাইছিলো নিজ সুখে।

গান শুনে এক পাগলা কুকুর
করল ভীষণ ধাওয়া
ধাওয়া খেয়ে ছুটলো সে যে
যায় কি তারে পাওয়া।

বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া
ছেলে বুড়োর দল
কোথায় গেলো কথার বড়াই
এমন দেহের বল?

 

দাদুর কলম
আমার দাদুর কলমখানি করল অনশন
লিখবো নাতো কোন কিছু দৃঢ় হল পণ
হাসিমুখে দাদু বলে কেন এমন দাদা
কলম বলে সত্য কথা বলতে কেন বাধা?

অন্ধকারে ফায়দা লুটে দিনে সমাজপতি
যশ খ্যাতি সব হচ্ছে তাদের বাড়ছে কেবল গতি
মুখোশ পরে করছে আবার সভার আসন দখল
দুঃসময়ের ঘোড়ায চেপে আমরা ছুটি সকল।

সত্যগুলোর চারপাশেতে মিথ্যে বেশী ঠাসা
কালো থাবায় বন্দী হয়ে গুমড়ে কাঁদে ভাষা
আমার দেশে ভাগ্য নিয়ে নাড়ছে কারা চাবি
দেশটা এখন গড়ব সবাই এটাই কেবল দাবী।

 

দ্বন্দ্ব
এ দেশে ঘুরে ও দেশ ঘুরে
ব্যস্ত আমার বাপ
তার যে কেবল মাথার উপর
কাজের ভীষণ চাপ।

আজকে ছোটেন রোম টোকিও
কালকে আবার ফিজি
ভুলেই থাকেন ঘরের কথা
ব্যবসা নিয়ে বিজি।

 Back